দশপদী

ঋকপর্ণা ভট্টাচার্য


কাঁকড়ারা মাটি তোলে, যাকে বলে অমৃতবমন।
রেখাচিত্রে পামিস্ট্রি। জলরঙে বিশুদ্ধ যাপন।


মাংসাশী টেবিলের এ বেলা অর্ডার
স্টার্টারে সস দিয়ে দাঁড়াভাজা, মধ্যপদে--
আরও সব শিল্পময় খাবারদাবার।


খোলসেরা পাশাপাশি। সাপ না কি কাঁকড়ারা-- কিভাবে চেনেন?
দৈর্ঘ্য দিয়ে! আর হ্যাঁ, অবশ্যই নোনাজলে, কিছু লেনদেন।


রাতে ঘরে স্বপ্ন আসে,দরজায় ঠকঠক, যোনি--
বালির বিছানা ছেড়ে বদ্ধ এ আশ্রয়ে কাঁকড়াযোগিনী।


ঘর চাই, শিশু চাই, প্রেম চাই, এপিক আদর
ভোরে উঠে ফ্ল্যাশ টানে, মাংসাশী নগর-নাগর।


কাঁকড়ারা ঘর চেয়ে, সেই ঘরে আল্পনা দিলে
খোলারা তো ভাঙবেই, চারদিকে নানাবিধ জেলে...


তবু তাকে বোঝাবে কে? মরুভূমি ঢের বেশি ভালো
কাঁকড়ারা ক্যান্সারে আজন্ম সহ্যাতীত, জোলো।


খোলশটি ভেঙে গেলে মরে যাস কাঁকড়া মানুষ
সমুদ্র দিচ্ছে না, ভিক্ষাপাত্রে, চন্দ্রাবলী ওড়ার ফানুস।


যোগাভ্যাসে লব্ধ জ্ঞান, খোলস বল্মীক হয় যদি
বেঁচে যাবি এ যাত্রা, পাড়াবেড়ানী! অসুখী! দশপদী।

১০
সবই তো বুঝতে পারছি-- শরীরে সন্ধ্যা নামছে ঢলে
সে তবু ফিরলো না তো! মুখাগ্নির কথা দিয়েছিল বলে...


আজও ভাসি-- হাফ জল, হাফ ডাঙা, অব্যক্ত দুরাত্মাযাপন।

ফেসবুক মন্তব্য