রাত্রিচর সংহিতার দেশে

উত্তম দত্ত



আমাদের চেয়ে সুপুরুষ পাখি
আর রূপবতী নদী
আরো ঢের আছে এই জলচর সংহিতার দেশে।
তবুও সমস্ত দিন সেই এক
মোহনার গাঙচিল চক্রাকারে ঘুরে মরে
উদাসীন নদীর শিয়রে।

তুমিও লিখেছ লুপ্তপ্রায় টেলিগ্রামে:
'তথাগত, তোমার ডানার শব্দে
ঋতুচক্রে ঢল নামে।
আদিবাসী তরুণ দম্পতি সারারাত
জলের অক্ষরে আঁকে মানুষের মুখ।
আর কী এক বাতাসে
আমার চোখের পাতা
মন্ত্রহীন পতাকার মতো কাঁপে।'

অমন আগুনের গোলার মতো স্তন
আর তরুণ বাঘের মতো রমণ-পিপাসা
আরো ঢের আছে এই রাত্রিচর সংহিতার দেশে।
রঙিন টাকার শব্দে ওই দ্যাখো
সারারাত জেগে আছে,
গণিকাপল্লীর মাছি, মদ, পিপীলিকা।

তবু একচক্ষু অশ্বটির মতো দ্যুতিমান ভোরে
আমাদের জলযান
ঘন কুয়াশায় খুঁজে মরে
এলবাট্রস পাখির পালক,
শ্বেতবর্ণ অশ্বিনীর চন্দ্রাহত নূপুরের ঘ্রাণ।

উন্মাদের আলখাল্লার নীচে
ঝ'রে পড়া পাখির পালক মুখে নিয়ে,
একদিন ঠিক ঢুকে যাবে,
চোখের জলের মতো পৃথিবীর স্নিগ্ধতম নদী।

ফেসবুক মন্তব্য