ঋতু-রঙ্গ-কথা

চয়ন ভৌমিক



১)
জুঁই ফুল নিয়ে এলে যখন তুমি। তখন গ্রীষ্মের সুবাস চাইছিলাম একথা সত্যি। তাই, অযথা নাকের দোষ না দেওয়াই ভালো। বৃন্তই তো শ্বাস হয়ে ঘন হলো কাছে, কানে কানে বললো ঠোঁট নয় ঘ্রাণ শুষে মাতাল এভাবেই হওয়া যাবে।

২)
কোথা থেকে উড়ে আসে এত মেঘ। এত জলই বা ঝরে পড়ে কোন পাত্র থেকে - সেসব জানতে চাইনি আমি। আমার ভেজার শখ। জলের সাথে মাটি মিশিয়ে সান্দ্র জমিতে আবাদের অনন্ত ইচ্ছা সেই কবে থেকে। আর এই যে এখন ঝরে যায় অসীম ঝর্ণা, ভিজে যায় রাত দিন ও বৃষ্টি-অরণ্য - কী আশ্চর্য এ সময়েই চাষী হতে ভুলে যাই আমি। বদলে তাল তাল কাদা মেখে অতৃপ্ত মৃৎশিল্পী আমি, এক নির্ভুল বনদেবী গড়ার চেষ্টায় জড়িয়ে পড়ি।

৩)
কাশফুল ঝুঁকে পড়ে নাভির কুন্ডে। সেখানে পদ্মচাষ তখন। সাপের পাহারা। তবুও মূলাধারে ডুব দেয় সাহসী হাত। সব ভয় দূর করে একশো আট পদ্ম পৌঁছে যায় দেবীর মন্দিরে। পুজো হয় অকাল বোধনের।

৪)
আমার করপুট খালি থাকুক চাওনি তুমি। তাই প্রথমে আঁজলায় ছিল তোমার কালো সমুদ্র। চুম্বন সুখ শেষ হলে মুঠি বিদ্যুৎপূর্ণ। আমি জানিনা কিভাবে স্নান সেরে উঠে আসবো ঘাটে।

৫)
টিউলিপের মরশুমে বরফ থাকেনা। তখন হ্রদের বুক থেকে দেখতে হয় দূরের মগ্ন পর্বত। ভ্রমণের আদর্শ সময় ওটাই। সদ্য প্রস্ফুরিত রাঙা আপেল, চেরি ফল, আর শিকারার অন্ধকারে, ওই দেখো চাষের মাটিতে উৎসব চলছে রাগসঙ্গীতের।

৬)
আরো নীচের শ্যাওলা অন্ধকারে জেগে ওঠে গোপন ভিসুভিয়াস। তপ্তমুখ দিয়ে ধোয়া ওঠে প্রথমে। আতঙ্কে থমথমে হয়ে ওঠে জ্বালামুখ। সমস্ত কোমল রাগ ধ্বস্ত হতে হতে কোথাও কঠিন হয় আলোছায়া গাছ। লাভা ছুঁড়ে দেবে নগ্ন পাহাড় কোনো এক উন্মত্ত মুহূর্তে। বসন্ত-গাছ পুড়ে যায়, অঙ্গারের মাঠে, ছাই ওড়ে, এমন নতমুখ, ক্লান্ত আকাশে।

ফেসবুক মন্তব্য