দুটো কবিতা

তুষ্টি ভট্টাচার্য



জ্ঞানী বায়স

কাক-স্কুলটি প্রাথমিক আর ছোটই
এখানে ছাত্রদের বিনিময় প্রথার মূলনীতি শেখান হয়
শিক্ষা শেষে একেকজন তার আধো অন্ধকার জীবন ছেড়ে বেরিয়ে আসে
যে কোন মিষ্টি জিনিসকে ঠেলে ফেলার ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে
ধ্বসা রোগের হাত থেকে বাঁচতে শিখে যায় ওরা।
পূর্বপুরুষের স্পর্ধিত দম্ভকে অস্বীকার করে
ওরা এবার আমার সামনের রাস্তায় নেমে আসে।
যতবারই ওদের সঙ্গে আমার দেখা হয়
আরও বেশি ভালবেসে ফেলি ওদের

বক

যেখানে যেখানে বক উড়ে যায়
এক কানা ভাঙা শহরের সম্পদ নিয়ে গিয়ে বসে
প্রাকৃতিক ভাবে ওকে অপ্রকৃতিস্থ মনে হয়
এত আশ্চর্য আর অন্যরকম ও
ওর অদ্ভুত স্বভাবের জন্যই যেন নমনীয় আর সুন্দর হয়ে উঠেছে
একটি নাটকের দৃশ্যর মত
পায়চারী করতে করতে ও যেন যা খুশি করতে পারে
ডিমের ওপর বসে পড়তে পারে
নিজের পিঠে নিজের ঠোঁট গুঁজে দিতে পারে –
দর্শকরা ওর আত্মস্থ বিভঙ্গে মুগ্ধ না হয়ে পারে না
ওরা ভাবে এদের শারীরিক বৈশিষ্ঠ আরও কম সুন্দর হতে পারত
ঘাড়ের সহজ কমনীয়তা আরও কিছুটা কম হওয়া উচিত ছিল
ওদের বদ্ধমূল ধারণা -
নরম তুলোর মত ল্যাকপেকে ধূসর শরীরের এই প্রাণীরা
ঈশ্বরের কৃপাদৃষ্টি পেয়েছে।

ফেসবুক মন্তব্য