বর্ণ-সেপাই ও উত্তরের বারান্দায়

উজ্জ্বল ঘোষ



বর্ণ-সেপাই

ওই তো যাচ্ছে “অ”। অপরাজেয়।
পরিচয় পর্ব শেষ হতে না হতেই
নেমে পড়েছে কাজে।
আটকে দিচ্ছে নিরস্ত্র, তোমাদের শাণিত গালিগালাজ।

ওই তো যাচ্ছে “হি”। উন্নতশির।
যাবতীয় জিহাদ-জিগির, ফন্দিফিকির
ট্রিগার, বুলেট, রক্ত সহ্য করেও
দাঁড়িয়ে আছে হাসি মুখ। যীশুর মত। শিশুর মত।

ওই তো যাচ্ছে “ং”। স্থির। নির্বিকার।
তোমার দাঁতে যে শ্বাপদের গন্ধ তা
ও শরীরে মেখে নিচ্ছে।

ওই তো যাচ্ছে “সা”। সাত সাগর রূপকথারা।
আগুন নেভাচ্ছে বিসমিল্লার সানাই হয়ে,
রবির সেতার হয়ে,
লালন হয়ে…

ওই তো রাজাকে আগলে রেখেছে
আমার বর্ণ-সেপাইরা।

উত্তরের বারান্দায়

আমার বারান্দাটা উত্তর-মুখ
তবু গভীর রাতে কুয়াশা মাখতে গেল সীমন্তিনী।
যে থলির তলায় পড়ে যায় টমেটো আর
ওপরে কুমড়ো, তার মত বুদ্ধু আর কাঁচা ও।
আমাকে দু'কদম অতীত হাঁটতেই হয়।
নির্লিপ্ত জুসারের মত সরবত বানাতেই হয়।
সীমন্তিনী কুয়াশা মাখতে চলে যায়।
তখন ওর লালটিপ গাঢ়তর হয়,
আমি গায়ে মেখে নিই...
রত্নগর্ভা কুয়াশার মাটিতে তখন
সোনার অক্ষর ফলায় চাষা চাঁদ...
নেপথ্য কনসার্টে নিখিলে বাজে রাগেশ্রী...

ফেসবুক মন্তব্য