শূন্য তাপাঙ্ক ও স্টেজপ্লে

সৌমনা দাশগুপ্ত



শূন্য তাপাঙ্ক

দৃশ্যের মধ্যে ঢুকে বসে আছে চোখ। তুমি জানতে পাতার উল্টোপিঠে শুধুই অন্ধকার। কালো প্রজাপতির জন্য এই যে তোমার এত আয়োজন, মহড়া দিতে দিতেই ফুরিয়ে যাচ্ছে অভিযান। অভিযোজনের পাশেই বসে পড়ছে কুনোব্যাঙ। আর তুমি কইমাছের স্বপ্ন দেখতে দেখতে লাফ পেরিয়ে যাচ্ছ। স্তেপের পর স্তেপ আর স্তেপ তোমার ক্যানভাসে আসি আসি করেও আর আসছে না। শুধু চাপা এবং ভারী রংগুলো ফিসফিস করে উঠল। কাঠ চেরাইয়ের শব্দে এইমাত্র দুলে উঠছে মাটি। এই ভর আর ভর থাকছে না। ভারকেন্দ্র থেকে সরতে সরতে গুঁড়ো হয়ে যাওয়া অথবা আরো একবার কেলাসিত হয়ে ওঠার তীব্র চেষ্টা তোমাকে শুধু দৌড়ই শেখাবে। আর ঘাম মুছতে মুছতে একদিন রুমাল নিজেই একটা দিঘি হয়ে উঠবে তুমি জানতেও পারবে না। এরপর লবণ সংক্রান্ত উদ্বেগ আর থাকার কথা নয়। তুমি শুধু সল্টলিক আর ছুঁয়ে ফেলতে পারবে না শেষ অব্দি। বিস্তৃত লবণ লিখতে লিখতে তোমার কালি শুকিয়ে আসছে দেখ। এরপর তুমি কিছুটা হলেও সন্দেহপ্রবণ হয়ে হয়ে উঠবে কলমের অস্তিত্ব সম্পর্কে। আর খাতার কথা তো বলাই বাহুল্য। তোমার স্বপ্নের ভেতর একটা শাদা আলো ঢুকে যাবে, যা তোমাকে আর ঘুমোতে দিচ্ছে না। আর বালিশের এই পাথর গুঁড়ো করতে করতে একদিন সত্যিই শীতকাল এসে যাবে তোমার প্রচ্ছদে। আর অনুবাদ ততটা সোজা কাজ নয় সেটা বুঝে উঠতে উঠতেই তুমি শীতকাল পেরিয়ে চলে যাচ্ছ শূন্য তাপাঙ্কের দিকে। মেরুপ্রদেশে তখন বলগা হরিণের উৎসব। কিন্তু তুমি আর আগুন জ্বালতে পারছ না।


স্টেজপ্লে

এই সবুজ চাউনির আওতা থেকে তুমি নিজেকে সরিয়ে ফেলতে চাইছ। আর চারপাশ ভরে উঠল ফর্মালিন গন্ধে। ইথাইল অ্যালকোহল তোমাকে যে সুরক্ষা বলয় দিয়েছিল তাকে সযত্নে আগলে তুলতে তুলতে তোমার রবিফসলের মাঠ অন্ধকার হয়ে উঠছে। হ্যারিকেনের ভেতর এইমাত্র চিৎকার করে উঠল ভুসোকালি। আর ঢেউ ঠেলতে ঠেলতে তোমার হাত জমে যাচ্ছে, তোমার পা জমে যাচ্ছে। বিস্তীর্ণ শস্যবেসিন জুড়ে শুয়ে আছে গন্ধক ও সোরা। আর তোমার কন্ঠস্বর ক্রমশই একটা লাল আলোর মতো স্থির এবং করুণ হয়ে উঠছে। দাঁতে দাঁত চেপে এই ধাতুকে স্বীকার করে নিতে নিতে কেবলই একরোখা হয়ে যাচ্ছ আর এই চাপ আস্তে আস্তে তোমার থেকে খুলে নিচ্ছে জিভ। তুমি কি একবার আর্তনাদ করে উঠবে? তুমি কি নতজানু হতে হতে তরল খনিজের মত বেদনার গান গেয়ে উঠবে? বরফের বেড়াল আর মাছের এই ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা আসলে বেশিটাই অভিনয়। গ্রীনরুমে পোশাক বদলে বদলে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র হয়ে ওঠার এই স্টেজপ্লে আদতে তোমাকে একটা গুটিপোকার জন্মলগ্নের দিকে ঠেলে দিছে। এবার আর কোনো দেওয়াল টেনেও তুমি স্রোতকে আটকে উঠতে পারছ না। আর এই মন্থর খেলার ভেতর তোমার ফুসফুস একটা স্টিম এঞ্জিন হয়ে উঠছে। কিছুটা গুঁড়ো কয়লা ছিটিয়ে দেওয়া ছাড়া এই মুহূর্তে তোমার আর কোনো কাজ থাকবে না।

ফেসবুক মন্তব্য