শুধু একটি গন্ডূষ জল

অর্ঘ্য দত্ত



পত্রিকার সমস্ত কিছু গুছিয়ে ফেলার পরেও বাকি থেকে যায় সম্পাদকীয় লেখা। প্রতিবার। সিদ্ধার্থ তাড়া দিতে থাকে। মনে মনে নির্ঘাত ভাবে, অর্ঘ্যদাটা মহা ল্যাদ!

আর আমি ভাবি যখন সম্পাদকের সত্যিই বলার মতো বিশেষ কিছুই থাকে না তখনও সম্পাদকীয় লেখাটা এত জরুরিই বা কেন! অথচ এও জানি আজকের দিনে বলতে হবে ভাবলে তো বলার মতো কতই বিষয় আছে। শ্রীদেবীর মৃত্যুতে ফেসবুকীয় প্রতিক্রিয়া থেকে সিরিয়ায় নারকীয় শিশুহত্যা, কিংবা ত্রিপুরার ভোট থেকে নীরব মোদি। এসব যদি খবরের কাগজের বিষয় বলে নাও ছুঁই, অন্তত বম্বেDuck-এর বইমেলা সংখ্যা কত হাজার কপি হটকেকের মতো বিক্রি হয়ে গেল, নামী ও বড় কবি-লেখকরা এই পত্রিকার প্রশংসা করে কে কী বলেছেন, কোন কোন পত্রিকা বম্বেDuck-কে প্রতিযোগী মনে করে এবং তারা কে কীভাবে আমাদের ক্ষতি করতে চাইছে সে সব নিয়ে একটা কাল্পনিক ফিরিস্তি বানিয়ে বেশ কিছুটা হ্যাজানো তো যায়ই। সম্পাদকীয়র নামে টাগডুম টাগডুম পিটিয়ে নেয়া যায় নিজের ঢাক। কিন্তু এসব নিয়ে কিছু লিখতে ইচ্ছেই করে না।

বাইরের উদ্দেশে বলার মতো কথা বিশেষ কিছু জমে না উঠলেও নিজের ভেতরে তো সওয়াল জবাব চলতেই থাকে। নিজের ভেতরে ওঠা প্রশ্নে নিজের ভেতরেই গড়ে তুলতে হয় ইতিবাচক জবাব যাতে এই নিয়ম করে ঠিক সময়ে বম্বেDuck প্রকাশ করে যাওয়ার ব্যাপারে আমরা সামান্যতম হতোদ্যমও না হয়ে পড়ি।

গতকাল যখন কত রাত জেগে অরিন্দম ইলাসট্রেশন করে হোয়াটস্ অ্যাপে পাঠাচ্ছিল এবং সিদ্ধার্থ সেগুলো আপলোড করছিল, ঠিক তখনই আমার কিন্তু মনে প্রশ্ন উঠছিল, কেন করছি এ সব? এই তো অযুত শব্দ, লক্ষ লক্ষ নতুন লেখা, নতুন বই, হাজার হাজার পত্রিকার নতুন সংখ্যা মাত্র এক মাস আগে বইমেলায় ছাপা হল। মানুষ যে যেকটা বই-পত্রিকা কিনল তাই এখনো হয়তো পড়ে শেষ করতে পারেনি, এখনই আবার কেন করছি এই বসন্ত সংখ্যা?

পরক্ষণেই নিজকেই নিজে বললাম, প্রত্যেকটি সৎ পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যাতেই কি কোনো না কোনো পাঠক এমন কিছু খুঁজে পায় না যার জন্য হয়তো সে অপেক্ষা করে ছিল দীর্ঘদিন! শুধু সেটুকুই কী একটি পত্রিকার নিজস্ব জীবনের জন্য যথেষ্ট নয়!

এই যে কবি কমলেশ পালের মতো প্রবীণ কবির নতুন লেখা গুচ্ছ কবিতা রাখতে পারলাম, শুধু এ কারণেই হয়তো কোনো পাঠকের কাছে এই সংখ্যাটা কাঙ্খিত হয়ে উঠবে। আর শুধু সেই কোনো একটি মাত্র পাঠককে ছুঁতে পারলেও তো আমাদের তিনজনের সব উদ্যম অামাদের কাছে অর্থপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ওঠে। উঠবে।

"শুধু একটি গন্ডূষ জল" যেমন চন্ডাল কন্যা প্রকৃতির জীবনকে সার্থক করে তুলেছিল, তেমনি বম্বেDuck-এর প্রতিটি সংখ্যাকে সার্থক করে তোলার জন্য একজন মাত্র রসিক পাঠকই কি আসলে যথেষ্ট নয়! এবং আমরা জানি, আমরা টের পাচ্ছি, মাত্র একজন নয়, দিনদিনই বম্বেDuck-এর পাঠক সংখ্যা বাড়ছে। তার কপালে জুটছে রসিকজনের আদর। এর চেয়ে বেশি তো কিছু আমরা চাই না।

বইমেলা সংখ্যা নিয়ে কিছু আশাতীত প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। পাচ্ছি। বুঝতে পারছি আমাদের দায়িত্ব ক্রমশ বাড়ছে। আমরাও চেষ্টা করছি পত্রিকার মানের ব্যাপারে কোনোরকম আপস না করেও প্রতি সংখ্যায় নতুন এবং অতিপরিচিত নয় এমন দুচারজন কবি, লেখকের লেখাও প্রকাশ করতে। এই বসন্ত সংখ্যাতেই এমন অনেকের লেখা আছে যারা বম্বেDuck-এ নতুন লিখলেন। এমন কবির কবিতাও আছে যার লেখা অন্য কোথাও এখনো ছাপা হয়নি, বম্বেDuck-এই যার কবিতা প্রথম প্রকাশিত হচ্ছে।

বইমেলা প্রিন্ট সংখ্যায় যারা লেখা দিয়েছেন সবাইকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং বাসন্তী শুভেচ্ছা। এতদিন পাশে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও আপনাদের পাশে পেতে চাই।

বসন্ত ছেড়ে একদিন ক্যালেন্ডার চলে যাবে, কিন্তু বম্বেDuck বসন্তেই থাকুক!

ফেসবুক মন্তব্য