বিষণ্ণ সময়ের ছায়াসমূহ

দেবরাজ চক্রবর্তী




আগুন নিভে গেলে
ছাই পড়ে থাকে
ভিতরে জ্বলছে কাঙাল
চিটচিটে রক্তের স্বাদ-পোকা খুঁটে খায়
নরকের পশু,
আমার মতন কোনো শয়তান।


ঘুম ভেঙে পড়া বসে থাকে
মুখে তার দানা দানা ঘাম
তাত লেগে গলে যায় স্পষ্ট মুখের মতো
শরীর আঁকড়ে ধরে
কেবল ছায়ারা পালায়।


সবকিছু ভুল বোঝাবুঝি ফেলে
চলে গেছো শেষ বেলা,
এবার সূর্যাস্ত হবে
ধুলো উড়ে ফিরে আসে
সমস্ত লোক, গাড়ি…

যা কিছু বলার ছিল
বলতে পারতে সোজাসুজি।


মরে যাই, এবার মরে যাই, তবে,
যতটুকু ঠেলেছ উন্মাদ
ততোটুকু পড়ে যাই,
দুই-পা এগিয়ে এসে
অন্ধকারের দিকে সরে যাই…

এভাবে সমস্ত ঋণ শোধ হয়ে যাবে।


রাগ-রক্ত উঠে আসে
কেটে গেছে সমস্ত রাত
ফাঁকা ঘরে রাত্রিযাপন
দেওয়ালে ছায়ারা ঘোরাফেরা করে।


উড়ে যায় নরম প্রজাপতি
কতোটা গভীর হলে
হয়ে আসে অন্ধ দুচোখ
অনুভূতিহীন দিগন্তের কথা ভেবে
দমটুকু বন্ধ হয়ে আসে।


বুকভরা খুনসুটি থেমে গেছে
মাথা ভার হয়ে এলে
যে যার ঘরের দিকে গেছে
এখনো দেখেনি কেউ
ডুবে গেছে একবুক জলে।


ইতিউতি ভয় উড়ে ফেরে
ধুলো-হাওয়া লেগে থাকে গায়
উৎসব শেষ হলে
পোড়া দাগে রঙ লেগে থাকে
এবার বসন্তদিন
পার নিয়ে খেলছে হাওয়ায়।


শেষ হয় ঘুমপাড়ানি গান
ছন্দ শেষ হলে শরীর জেগেছে
অবশেষে নরম রোদের মতো আলো,
দুপুরবেলা, গান শোনা পথে
চলে গেছে ফিরিওলা দাক
চলে গেছে অন্য পাড়ায়…

ফেসবুক মন্তব্য