চারটি কবিতা

শবরী রায়



সতীর্থ

এই যে আপনি এতো দূর এসেছেন
খাদের অতলে তলিয়ে যাওয়া থেকে বেঁচে
বনের আগুন ডিঙিয়ে
কপালে কলঙ্ক-তিলক কেটে
শৈত্যের পাশে ঝরতে ঝরতে
এতদূর এসেছেন
এ তো আমি জানি

কী করে জানি বুঝতে পারলেন না?
আমিও তো এভাবেই কিম্বা
অন্য কোনো পাহাড় ডিঙিয়ে
স্রোতের উল্টোদিকে সাঁতরে
মর্গের বাসি মরা রোজ ধুয়ে মুছে
শুকনো পাতার আগুনে হাত সেঁকে
পড়ন্তবেলায় এই যে এসেছি

দয়া করে সন্দেহ করবেন না


অবয়ব

পেতলের মালসায় কালো-নুনিয়া
আর কাঁচকলা সেদ্ধ

সাদায় করুণ দাগ
মুশুর ডালের গন্ধ ওড়ে
প্রেমের এইটুকু মাত্র পাপ

বিবাহ ক্ষয়ে যেতে যেতে নিরামিষ
খই আর দুধমেশা জ্যোৎস্না
কুন্দফুল ঝরে পড়ে আছে মাটিতে

আঙুল নেই রিঠা নেই
কাঠের চিরুনিতে লোহার দাঁড়ার আশীর্বাদ

দীর্ঘ চুলের পরচুলা খুলে রাখে রাত
আয়নায় মুখোশ দেখে মুখোশের অবয়ব

কাক-জ্যোৎস্না

স্তন বেয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে উদ্বৃত্ত দুধ
শিশুরা কাঁদছে অভুক্ত

কান্না শুনতে পাইনা আমরা
রোদ পড়ে এলেও উড়ন্ত চিলের ডানা
এখন কালো! কালোই...

দেখছিনা এসব
কবিতা আওড়ে যাচ্ছি বিপন্ন-মন্ত্র

যত মৃতদেহ, শকুনও তত নেই
কাকদের মহামিছিল সড়ক অলিগলি জুড়ে
ভরদুপুরে বায়সকূলের বৃন্দগানের মহড়া

কাক-জ্যোৎস্নায় জলসা হবে


যাই যাই বসন্ত

চিলাপাতা জঙ্গলে যাই যাই বসন্ত
চিত্ত এখন প্রবীণ বালক
আর আমি তার অমৃতা বণিক
আমার পিঠের চাবুকের দাগ
গাছপাকা খেজুর

লাল খেজুরের বর্ণময় মিষ্টি সাজানো হবে
চিত্ত ভাণ্ডারের নতুন শো-রুমে
ঝাঁ চকচকে কাচের বাইরে
নীলমাছিদের চোখ

চিত্ত আর অমৃতার জন্য চিলাপাতা জঙ্গল
বুক চিরে দুভাগ হয়েছে
কাছেই চিত্ত-ভাণ্ডার আর যাই যাই বসন্ত

জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসা
দুটো শঙ্খলাগা গোক্ষুর
মাটিতে কে ছুঁড়ে দিল কবিতা-রুমাল

ফেসবুক মন্তব্য