মাঝরাতের এক্কাগাড়ি

চয়ন ভৌমিক





ধুলো বালি থিতিয়ে পড়তেই
চাঁদের সেলাই উন্মুক্ত করছে জানলা।

আমার গোপন দূরবীন
পাহাড় আর ক্ষতমুখ নিয়ে
চেখে দেখছে শহুরে আলপথ।

এরপর নেশা চড়ে গেলে
দোষ দিও না আমায় মধুরাত

এক হাতে তরল
অন্য হাতে লুঠ নিয়ে

মাঝরাতের ঘোড়াপুলিশ দেখছি দুচোখ ভরে।।



এই তারাময় রাত, ঝকঝকে
ওয়ান-ওয়ে নেই কোনো এখন।

সুগম রাস্তা, সিগনালহীন প্রবেশ পথ,
তবুও বেঁধে রেখেছ
নিষিদ্ধ গতিময়তা।

দূর দেশে তোমার হলুদ আলো জ্বলে
আর জঙ্গলের মধ্যে শুয়ে
আমি খুলে দিই মালবাহী রক্তবাহ।

ভাবি ডেকে তুলি
ভাসিয়ে দিই জেব্রার ছাল
ঘুমন্ত রাজপথে।।



বিষ্ফোরণের পর
টুকরো হয়ে পড়ে আছে -
দুপুরের রোদে সেঁকা পাশের বাড়ির ছাদ
- সাদা কালো লিঙ্গেরি-ব্রা।

এবার জল ঢেলে দাও স্রোত,
ফাঁস জুড়ে খাটে ফিরে এস
পা-জামার স্পর্শমাখা দড়ি

প্রজাপতি হয়ে ঝুলে থাকো
নিঃস্বতার তৃপ্তি মাখা
পাপ ও লেট-নাইট ঘৃণা।।



ঠিক রাত বারোটাতেই খুব খিদে পায় আমার। তলপেট মুচড়ে কাঁদতে থাকে আরো নীচে লুকিয়ে রাখা খেলনা পিস্তল। উপায়ান্তর না দেখে আমি রাণাদার পাগলের বাড়ি নিয়ে বসি তখন। ঘর, বারান্দা চিলেকোঠা দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে লাফ দিয়ে উঠে পড়ি রাণাদার খাটে। সেখানে অলরেডি - একটা আমগাছ, একটা জানলা আর একটা ভাঙা রেডিও বসে আছে জায়গা জুড়ে। ওদেরও ভীষণ খিদে, বিভৎস মাস্টারবেশনের শখ। আমরা শিওর রাণাদা তাড়িয়ে দেবে না আমাদের, অল্প হলেও কিছু অন্তত দেবে মন ভরানোর জন্য।

কিন্তু তিনি কই? আসলে তিনি তো নিজেই অভুক্ত। বিড়ি হাতে গান খাচ্ছেন জর্জদার।

নিজের পেট না ভরলে অন্যদের কি ভাবে খাওয়াতে পারে কেউ!

ফেসবুক মন্তব্য