কুড়চিইইইইইইই ----

সুপ্রিয় বন্দোপাধ্যায়

গাছটা ডাকছিলো। আমার কাছে পৌঁছেওছিলো। আমি ভাষা জানতাম না। বুঝিনি।

ফেরার কথা, বাড়ি। একদিন আটকে গেলাম। বিকেলে ফিরতে পারতাম, ভাবলাম পরের ফ্রেশ দিনটায়। পরের দিন ফিরে দেখলাম, সকাল থেকে লোকে কাজে লেগেছে বাগানে, আমার কুড়চিকে মাটির ওপর দেড় ইঞ্চি রেখে দিয়ে বাকি উড়িয়ে দিয়েছে। ইসসসস, আগের সন্ধেতেও যদি আসতে পারতাম! সাড়ে সাত ফুট উঁচু হয়ে গিয়েছিলো সে, প্রচুর ডালপালা, দেড় ইঞ্চি করে দিতে হলো? কাঠুরের হাতটা কেটে ফেললেও আর তাকে ফেরত পাওয়া যাবে না।

একমাস পর বাড়ি ফিরে দেখলাম, সে আবার দেড় ফুট উঠে এসেছে। আহা, আহা লকলকাচ্ছে কেমন, কাছে গিয়ে বসি, পাতায় হাত বোলাই, টের পাই ওর যে উষ্ণতা তা একটু অন্যরকম হয়ে গেছে। যেন দশ বছরের শিশুটি আবার হামাগুড়ি দিচ্ছে, সাতমাসের চেহারা নিয়ে। এই বসন্তেই ও চার পাঁচ ফুট হয়ে যাবে, ফুল ধরবে, গোড়াটা তো একই আছে, রস নিশ্চয়ই টানছে ঠিকঠাক। জল দিতে থাকি।

একমাস পর ফিরছি, যথারীতি আজ নয় কাল করে দিনসাতেক দেরি হলো, এদিকে শরীরে অধৈর্য জমে যাচ্ছে। ফিরে দেখি, ও নেই, সম্পূর্ণ বাগান জুড়ে অনেক তরকারির গুঁড়ো চারা, কোনো কোনোটা এখনো মাটির ওপর ওঠেনি। আর ঘরে ঢুকতেই ইচ্ছে করে না। বসে পড়ি।

জানা গেল, পাঁচদিন আগে এসব করা হয়েছে। এবার, যত্ন করে শেকড়শুদ্ধু উপড়ে দেওয়া হয়েছে। আর তার নিজেকে বাঁচানোর উপায় নেই। ইসসস সাতদিন আগে আমার আসার কথা ছিলো, টান বোধ করছিলাম, 'ধুত্তেরি গোছাগুছি আবার কি, আজকেই যাই' মনে হচ্ছিলো...

এখন তরকারির গাছেরা জল খায়। অভ্যাসে দিই। তরকারি তেমন ভালো হয়নি, খাইনা, সিজন পেরিয়ে গেছে, উপড়ে ফেলে দিতে হবে, তখন বাগান খাঁ খা ফের।

বসন্ত এসে গেছে। কুড়চি থাকলে ফুল ফোটাতো। নেই।

ডেকেছিলো, শুনেওছিলাম, বুঝতে পারিনি। ভাষা জানি না।
কোলে করে এনেছিলাম ছান্দারের জঙ্গল থেকে। জঙ্গলে অমন অনেক আছে। আনলেই হয়।

মায়া! সব ছেড়ে যাবো একদিন, তবু মায়া!

তোর আত্মার গোড়ায় জল দিলাম মা...

(বানানবিধি লেখকের ইচ্ছানুসারে...)

ফেসবুক মন্তব্য