সিক্রেট

ঋজু পাল



"মা, কথা বললে বাবার সাথে? দেখো না ম্যানেজ করে সামনের জানুয়ারীর দিকে দুজনে আসতে পারো কিনা।"

"বলেছি রে, তোর বাবা হয়তো পারবে না, পিক সিজনে ব্যবসা ফেলে... বুঝিসই তো সব... তা হ্যাঁ রে বাবু কোন বিশেষ কারণ-টারণ..."

"বললাম না মা, এসো একবার মুম্বাই, একজনের সাথে দেখা করাবো তোমার। বাকিটা সিক্রেট, আচ্ছা রাখছি এখন, মিটিং এ ঢুকছি।"

ছেলের ফোন পাওয়ার পর থেকেই মনের মধ্যে খানিকটা হলেও উচ্ছ্বাসের জোয়ার বয়ে চলেছে কবিতার। এতদিনে ছেলেটা বিয়ের জন্য তাহলে ভেবেছে, কারোর সঙ্গে দেখা যখন করাবে... নাহ, কালই একবার বর্গভীমায় পুজো দিতে যেতে হবে।

"বাবু বড্ড রোগা হয়ে গেছিস তুই। খাওয়া দাওয়া ঠিকঠাক করিস না কেন? সারাদিন অফিস আর অফিস।"

"এটাকে রোগা হওয়া বলে? হাহা... কি যে বলোনা তুমি মা... সেই এয়ারপোর্ট থেকে একই কথা তোমার ..."

"হ্যাঁরে, যাচ্ছিটা কোথায় আমরা... কার সাথে যে দেখা করাবি বললি।"

"ওয়েট মাই সুইট মম... জাস্ট ওয়েট।"

নাহ, চুপচাপ গুমরে থাকা ছেলেটা মুম্বাই এসে পাল্টেছে একথা মানতেই হবে। কতদিন আর পুরনো স্মৃতি আঁকড়ে পড়ে থাকবে। কিন্তু গাড়িটা কোথায় ঢুকছে... এটা তো...

"মা, এ হলো ঋক। আর ঋক সি ইজ মাই মম... সে হ্যালো।"
"হ্যালো গ্র্যানি।"
"বাবু, তুই... আমি তো কিছুই... "



"মা, তোমরা তো চাও আমি যেন ভালো থাকি। সবসময় তুমি আর বাবা আমায় নিয়ে দুশ্চিন্তা করছো। যেদিন থেকে এই এনজিও এর কাজে ঢুকেছি, একটা বাঁধনে যেন জড়িয়ে পড়েছি ঋকের সাথে... ওকে ছাড়া থাকতে পারবো না মা আমি... পারবে না মা বাবাকে রাজী করাতে... বলো পারবে না?"

"আশীর্বাদ করি বাবু, আরো বড় হ... আজ নিজের মাতৃস্বত্ত্বা নিয়ে বড্ড গর্ব হচ্ছে রে... তোর বাবা খুশি হবে শুনে যে তার ছেলেটা এত্ত বড় হয়ে গেল... এনিওয়ে কনগ্রাটস মিস্টার পলাশ ফর ইওর ফাদারহুড... আর এই যে ঋক ওসব গ্র্যানি ফানি তে চলবে না... ঠাম্মা বলবে... কেমন?" চোখে খুশির জল সীমার। 

মুক্তো-ঝরানো হাসিতে পরিবেশটাই বদলে দিলো বছর সাতেকের ঋক... চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে দুবছর পরিচয়হীন হয়ে পড়ে থাকা ঋক...।

ফেসবুক মন্তব্য