সোনালী আঙুরগুচ্ছ

অর্ঘ্য দত্ত



জ্বর

জ্বর ছেড়ে চলে গেছে সজল তামার বাটি সাথে
নিয়ে গেছে জল পট্টি শীতল ঠোঁটের, শুধু পড়ে
বাসি ওষুধের স্ট্রিপ, বালিশের নীচে রাখা কিছু
মিছে শুশ্রূষার কথা, পল্লবে শিশির জমা হিম...

লোকে ফিসফিস করে, ভাইরাস খোঁজে, রক্ত টেস্ট
এ বয়সে জ্বর কেন? স্বভাব কেমন, প্রশ্ন তোলে
ভেঙেছি থার্মোমিটার তরল পারদ নিম্নগামী
সব জ্বর চিহ্ন মুছে, বসন্তে মেতেছি আজ ফের

ভোর রাতে কেঁপে উঠি, আদরের নীচে। জ্বর দূরে
একা একা খেলা করে কুসুম কুসুম মিহি তাপে
সেরে গেছে স্বরবৃত্ত, গরম নিঃশ্বাস, মায়া ঘোর
জ্বর ফিরে গেছে তার পুরোনো নাগর, কুঞ্জ বনে

ফের এক স্মিত মুখ প্রাচীন অশথ বৃক্ষ হয়ে
ভুলে যাব ছন্দ-কথা, অসুখ-পুরাণ, জ্বর জানে


পাগলামি

ভারী ভালো লাগছে আজ পাটভাঙা ঝিলিমিলি রোদে
সমস্ত পালক থেকে ঝরে গেছে বিরহের স্বেদ
পরিযায়ী ক্ষয়া চাঁদ আবছা এক স্মৃতির বলয়
থাক, আকাশেই থাক, মাঝে মাঝে টিপ দিতে এলে

নবীন বালক ভেবে, বলে দেব, শোনেন হে দেবী
আমি কোনো ছোকরা নই, বরং এক ছোকরার বাপ
আম্মো কিচাইন জানি, আনতে পারি মরা গাঙে বান
আদপে আপনি এক আড়বুঝো নেকু বালিকাই

তবু যে বলেন কেন, বড় হও, আর কতো হবো!
দাঁড়ালে সটান ছয়। কী বল্লেন? ইঞ্চি? না না ফুট
পাতা ঝরা শুকনো পথ পাল্টে দিই শ্রাবনী পিছলে
কতটা ভাঙলে হাঁটু ভেজে জানি আন্দামান ঠোঁট

আপনি তো এসব কিছু চাননি মোটে, দূর থেকে খাঁটি
প্রোষিতভর্তৃকা শুধু ধরি মাছ না ছুঁই স্ট্র্যাটেজি
আমার মিউজ দশা তুলে রাখি উন্মাদের দেশে
কান্না লাগে? ধুর মশাই। ফেলে দেব চুটকিতে ছুঁড়ে

সত্যি আজ হাসি পাচ্ছে কী পাগলামি করেছি দুজনে!


ফেরা

বহুদিন পর চেনা কলকা আঁকা উঠোনে আবার
দাঁড়িয়েছি। আলপনার চিহ্ন সব কবে খয়ে গেছে!
মোহিনী পালক কিছু ফেলে গেছে ধুসর মুনিয়া
ছাত বেয়ে নেমেছে ঐ পথভোলা বুড়ো গিরগিটি

অনেক জীবন ধরে এখানেই বিছানো আসন
সমস্ত পথের শেষ এ গন্তব্যে! এই কি আশ্রয়?
জ্বলে ওঠা দাবানল শান্ত করো, মুছে দাও আজ
গোধূলির দু'ভুরুতে লেখা আছে যে অভিসম্পাত!

দগ্ধ অশথের হাত নম্রচোখে ডোরবেল ছুঁলে
অসূ্র্যম্পশ্যা জ্যোৎস্না খুলে দিল চাঁদের করুণা
চোখ মেলে চেয়ে দেখি, খেপি তোর, তেমনি আলো মুখ
আমার অযুত পাপ কোনো দাগ আঁকেনি সেখানে

আবার নতুন করে মনে হলো, চাঁদের মতোই
আলোটুকু ছাড়া তোর আর অন্য কোনো ধর্ম নেই।

ফেসবুক মন্তব্য