কমলাবাগান

তুষ্টি ভট্টাচার্য



১৩)

মাটির নীচে প্রোথিত আছে যে শেকড়ের অর্বুদ
দানায় দানায় নাইট্রোজেন সুধা
দেওয়া-নেওয়ার এই চলমান স্রোতে
তীব্রতা নিয়ে বসে আছি
ও কমলাবাগান আমাকে নাগপাশে বাঁধো,
শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে যেন মুহূর্তের ঘরে
শিথিল স্নায়ু ও সুষুম্নাকাণ্ডর মাঝে যেন ঘোর লেগে যায়
ও কমলাবাগান আমাকে উন্মুখ কর
রেটিনায় জ্বেলে দাও চিতার আগুন
এমন মৃত্যু দাও যা জন্মের বেশি
যে জন্ম পেতে অপেক্ষায় আছি আমি হাজার বছর

শেকড় বেয়ে নেমে আসি, রসস্থ হই কিছু
থিতু হই এই মাটির গভীরে।


১৪)

বাঁক নেবে বলে কেউ অপেক্ষা করে না
মোড় ঘুরে গেলে বোঝে, বেঁকেছে কে কতখানি
কমলার টেপা ঠোঁট থেকে চুঁয়ে পড়ে যেটুকু
সেটুকুই বাঁক, সেটুকুই পথের কুহক
কমলা বাগান সব জানে
তার জ্ঞানের মোড়ক খুলে দেখেছি অসীম ঢেউ
ডুবে যেতে চেয়েছি যতই ফিরিয়ে দিয়েছে সে তীরে

বাঁকের মুখ তখনই দেখেছি
দেখেছি সেই অনির্বচনীয় ভার
শূন্য ঝুলি ধরিয়ে দিয়ে হাতে কমলাবাগান আদেশ করেছে –
‘পূর্ণ কর এই অসীম বাগান, খোলা আশমান’।


১৫)

এই কমলাবাগান আমায় আরও বলেছে,
উড়ো বাতাসে ভেসে আসা প্রেম কাহিনী শুনে শুনে
মরে যাওয়াই নিয়তি।  

আমিও একলা চলেছি, জেনেছি অন্ধিসন্ধি
বেপরোয়া পেরিয়ে এসেছি 
হাড়মজ্জা গুঁড়ো হয়েছে, থামি নি তো!

কমলার রস শুষে বেঁচে আছি
অনন্ত এই বাগানে কাঠকুটো জড়ো করি
প্রবল শীতের রাতে সেঁকে নিই শরীর
আমারও তো শরীর আছে!
দেহ দেহ... এই বিস্তারে জেনেছি নিজেকে
জেনেছি প্রেম মানে অতীব মূর্খামী।

হরমোন ডেকেছে মধ্যবয়সে
ফুরিয়ে যাওয়ার আগে জ্বলে উঠেছে সলতে
প্রদীপ জানে না এত কিছু
পবিত্রতার কাছে বদ্ধ থেকেছে।

ফেসবুক মন্তব্য