নদীতে পড়ার কথা ছিল এবং অন্যান্য

কমলেশ পাল



নদীতে পড়ার কথা ছিল

নদীতে পড়ার কথা ছিল
নেশাতে চুরমার চাঁদ পড়ে আছে টাঁড়ে

খবরদার! যাবি না ওধারে
মাঝিটাঁড় তোকে পেলে ঝুমুরে ফাঁসাবে
চাঁদের চুরমার তোর পায়ে গেঁথে দেবে
আসরে চিপকে রয়ে যাবি

শুনলি না, নিষেধের দিকে চলে গেলি
কেঁদুলি! কেঁদুলি! হেঁকে শিবপুর এখন নিঝুম

ওপারে পাগলদাস কদমখণ্ডিতে বয়ে যায়...
ভাবস্নান দিতে গঙ্গা অজয়ে উজায়
পাক খায় আকাশে বাউল
গান করে, ‘মনের মানুষ কোথা পাই’...
রাত্রি কাঁপে বাউল-সিদ্ধাই হাহাকারে

নেশাতে চুরমার চাঁদ পড়ে আছে টাঁড়ে
নদীতে পড়ার কথা ছিল


অরণ্য নক্কাশি

কাল রাতে বাঘ ডাকছিল। তার জন্য
এখনও সুন্দরি গেঁওয়া ম্যানগ্রোভ জোটাতে পারিনি
শান্তি ভ্যারাইটি থেকে শুধু কিছু শাদা শিট যোগাড় করেছি।

সেই শিটে বনবিবি-পুজো, শিন্নি... কেয়াফুল... গুড়, ভুসিআটা...
কলকাতায় চলবে না? ঠিক, পাস্তা পিজা... ঠিক?
অরণ্যের বরাত নিয়ে ফ্যাসাদে পড়েছি।
মানুষকে গাছ করতে হবে...

ফাঁদ পেতে কলকাতার নাগরিক ধরে
তাঁদের গোপন অঙ্গে ম্যানগ্রোভের চোখা চোখকলম
গুঁজে দিতে হবে, ভয়ানক রিস্কি কাজ, কলম পারবে কি?

চেষ্টা তো করতেই হবে, করছি কিন্তু... ঠিক জমছে না—
প্যাডেস্টালের ঝড়ে নষ্টচেষ্টা বেহায়া উড়ছে,
নষ্টচেষ্টা গজরাচ্ছে খাটের তলায়।

ভুল জঙ্গলের স্কেচে ভুলভাল বাঘের নকশা
কাল রাতে ডেকে উঠেছিল।


আগুনের ঘরবাড়ি

যখন কদমফুল ফোটে হাহাকারে
বৃষ্টিতে ভেজে আগুনের ঘরবাড়ি
আটটা... নয়টা... কতোটা ঘুমোতে পারে
খাপের ভিতরে মাজাভাঙা তরবারি

যখন করাত হাসে কামটের দাঁতে
বুক পেতে দেয় মাতাপিতা গাছপালা
মাটির ঘোড়াটি স্বপ্নে ছুটেছে রাতে
ভোরে বুবুনের পিঠে চাপে পাঠশালা

তবুও তো নাচ – যেভাবেই নাচা হোক
শেষরাতে ফেরে হোটেলের কল্‌গার্ল
একটি বুলেট – ক্ষমো হে মত্তঝোঁক
ভরা আদালত! ভুলেছো তো আরোয়াল

তবুও তো হাড়... অস্থি-খিলানো নারী
যোজনগন্ধা মাঝখানে নরকের
শাসনের হাতে খুলে যায় সব শাড়ি
অন্ধ ট্রাফিক-সিগ্‌নাল সড়কের

আটটা... নয়টা... পরে শূন্যেরও পরে
কাঁটা হেঁটে হেঁটে সময়কে দেয় পাড়ি
পাতায় পাতায় মৃত-কথা নড়েচড়ে
ভেজে অগ্নিতে উন্মাদ ঘরবাড়ি


হার্মাদ কাহিনি

ভয়ঙ্কর নিরো ছিল
তীব্রতম ইচ্ছা ছিল তার
জতুগৃহে আগুন লাগিয়ে একবার
অগ্নির ভিতরে বসে খুব কষে সন্তুর বাজাবে।

শব্দের হার্মাদ ছিল
কবিতায় যৌনদস্যু ছিল
এপাড়ার সাত-সাতটা থ্রিলিং ব্রেকার
চুরমার করে দিয়ে হয়েছিল নীল-নিরুদ্দেশ।
শোনা যায়, আকাশেও চিত্রা-রেবা-স্বাতিদের নিয়ে
যাচ্ছেতাই লাম্পট্য করেছে।

আজ সে ফিরেছে ঘরে জলে ভেসে ভেসে
হার্মাদ উপুড় হয়ে পড়ে আছে
জন্মযোনি মৃত্তিকা দুয়ারে
পড়ে আছে প্রণিপাতে সাষ্টাঙ্গে সটান
কেবল লুন্ঠন-স্মৃতি – গুটিকয় অক্ষর ছড়ানো
চারিপাশে...

জতুগৃহ, অগ্নি ও সন্তুর-সুর আছে কি স্মরণে?
ঘুমিয়ে রয়েছে কবি হাত রেখে নক্ষত্রের স্তনে।

ফেসবুক মন্তব্য