উপেক্ষিত গুহা-কথা

পার্থ প্রতীম চ্যাটার্জী



তখন সবে মুম্বাই এসেছি নতুন চাকরি নিয়ে। সারা সপ্তাহ কাজের পরে ছুটির দিনে স্থানীয় সহকর্মীরা যখন মুম্বাই শহর ঘুরিয়ে দেখানোর প্রস্তাব দিয়েছিল, মনে আছে আমি জুহু বীচ, গেটওয়ে অভ ইন্ডিয়া বা হ্যাঙ্গিং গার্ডেন নয়, যেতে চেয়েছিলাম কানহেরি কেভসে। আসলে খুব ছোটবেলায় একবার বাবার সঙ্গে মুম্বাই শহরতলীর সঞ্জয় গান্ধী ন্যাশনাল পার্ক বেড়াতে এসে দেখেছিলাম কানহেরি কেভস্। ঐ বয়সেই মনে হয়েছিল এই প্রাচীন গুহার গায়ে, পাথরে পাথরে জড়িয়ে আছে অনাদি অতীতের অশ্রুত কত কথা, ইতিহাসের অস্ফুট কত কাহিনি। আমার শিশু-কানে তারা যেন ফিসফিস করে কিছু বলতে চেয়েছিল। নানান প্রশ্ন করে তখন বাবাকে ব্যতিব্যস্ত করেছিলাম। তাই সুযোগ আসামাত্র মনে হয়েছিল, আগে সেই কানহেরি কেভস্-এই যাওয়া যাক। দেখা যাক এখনও আমাকে সে আগের মতোই টানে কিনা। সেই শুরু, তারপর কতবার যে গেছি সেই গুহার টানে, আর বোঝার চেষ্টা করেছি এই গুহার অবস্থানের কারণ। এই নিয়ে কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে খোঁজ পেলাম কাছাকাছি অবস্থিত, আরো তিনটি গুহামঠের।

যে প্রশ্ন আমার মনে বারবার উঠছিলো তা হলো এই অঞ্চলে এতোগুলি গুহা-মঠের অবস্থানের কারণ কী? এই প্রশ্নের উত্তর আমাকে নিয়ে গেলো আজ থেকে প্রায় ২৬০০ থেকে ২৭০০ বছর আগের “সুর্পারক”বা “সুপারক”-এ, যা আজ “সোপারা” তথা “নালাসোপারা” নামে পরিচিত। খ্রীষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে প্রায় খ্রিস্টাব্দ নবম শতাব্দী অবধি “সুর্পারক” ছিল ভারত ভূখণ্ডের এক অন্যতম প্রধান বাণিজ্য বন্দর।আর এই বন্দর থেকেই হতো মেসোপটেমিয়া, গ্রীস, রোম, আফ্রিকা প্রভৃতি বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে বাণিজ্যিক লেনদেন।

প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে দেখা যায়, বৌদ্ধভিক্ষুরা ধর্ম প্রচারের জন্য বিভিন্ন বাণিজ্যিক অঞ্চলগুলিকে বেছে নিতেন, এবং এই সব বাণিজ্যিক অঞ্চলের আশেপাশে গড়ে তুলতেন বৌদ্ধস্তুপ এবং গুহাবস্থিত বৌদ্ধমঠ। আজ সোপারার, সেই প্রাচীন বন্দরটির অস্তিত্ব নেই, কিন্তু আছে এক অতিপ্রাচীন বৌদ্ধস্তুপ এবং এই প্রাচীন বন্দরের কাছাকাছি থেকে যাওয়া বেশ কিছু প্রাচীন বৌদ্ধ এবং হিন্দু গুহামঠ। এইগুহামঠগুলি কেবলমাত্র ধর্মপ্রচার কেন্দ্র ছিল না। ধর্মপ্রচারের পাশাপাশি ধর্মপ্রচারকরা, এই অঞ্চল দিয়ে যাতায়াতকারী ব্যবসায়ীদের আশ্রয়ও দিতেন মঠগুলিতে। এর ফলে বেশ কিছু ব্যবসায়ীও এইসব ধর্মপ্রচার কেন্দ্রগুলির পৃষ্ঠপোষক হয়ে উঠে ছিলেন। আর এই ভাবেই ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও তৎকালীন রাজ্য শাসকদের সহযোগিতায় গড়ে উঠেছিল এই গুহামঠগুলি। কথিত আছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী "পূর্ণ মৈত্রীয়ানীপুত্র" শ্রাবস্তী সফরকালে ভগবান বুদ্ধের বাণীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন, এবং সুর্পারকে ফিরে এসে, একবৌদ্ধবিহারের নির্মাণ করেন। যে স্তুপের ধংসাবশেষ এখন সোপারাতে দেখতে পাওয়া যায় সেটি পরবর্তীকালে সম্রাট অশোকের সময় নির্মিত হয়েছিল। জানা যায় সম্রাট অশোকের পুত্র “মহেন্দ্র” এবং কন্যা “সংঘমিত্রা” ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে সিংহল (শ্রীলংকা) যাত্রা করেছিলেন এই বন্দর থেকেই।

সুর্পরাকের এই বিশাল ইতিহাস কালের সাথে তলিয়ে গিয়েছিলো মাটির তলায়। ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে, প্রখ্যাত প্রত্নতাত্বিক “পন্ডিত ভগওয়ানলালইন্দ্ৰজি”-র নেতৃত্বে, সোপারাতে এক প্রত্নতাত্ত্বিক উদ্ধারকার্যে আবিষ্কৃত ধংসাবশেষ প্রমান করে এই অঞ্চলের বিকাশের সঙ্গে মৌর্য্য সাম্রাজ্যের এক নিবিড় যোগাযোগ। এই খননকার্যে উদ্ধার হয় সম্রাট অশোকের দুটি শিলালিপি যার স্থান এখন মুম্বইয়ের ছত্রপাতিশিবাজী মহারাজ বাস্তু সংগ্রহালয়তে।


[ বর্তমান সোপারার সমুদ্রতীর ]


[ সোপারাতে উদ্ধারকরা মৌর্যযুগের কিছু স্থাপত্য ]

সুর্পারক অঞ্চলের আশেপাশে (অধুনা মুম্বাই-এর শহরতলিতে) এখনো আছে ৪টি গুহামঠ। এর মধ্যে দুটি বৌদ্ধধর্ম এবং অন্য দুটি হিন্দুধর্মের দ্বারা প্রভাবিত। বৌদ্ধ গুহামঠগুলি হলো, কানহেরি কেভস ও মহাকালী কেভস, আর হিন্দু গুহামন্দিরগুলি হলো যোগেশ্বরী কেভস এবং মণ্ডপেশ্বরকেভস।

কানহেরি কেভস

মুম্বাই শহরতলির বোরিভলি অবস্থিত সঞ্জয় গান্ধী ন্যাশনাল পার্কের মেইন গেট থেকে প্রায় ৬ কিমি দূরে কৃষ্ণগিরি পর্বতের উপর অবস্থিত এই গুহামঠ। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে শুরু হয়েছিল এই গুহামঠের নির্মানের কাজ, আর খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দী থেকে শুরু হয়ে আনুমানিক খ্রিস্টাব্দ দশম শতাব্দী অবধি এই গুহামঠ ছিল এই অঞ্চলের বৌদ্ধধর্মের সকল কর্মকান্ডের প্রাণভূমি। কানহেরি কেভসে ছিল এক বৌদ্ধ মহাবিদ্যালয়, যেখানে বৌদ্ধধর্মের বিভিন্ন মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া হতো বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের। মহান বৌদ্ধভিক্ষু “অতীশ দীপংকরশ্রীজ্ঞান”ও এসেছিলেন এই কানহেরি মহাবিদ্যালয়ে। এই কানহেরি মহাবিদ্যালয়ের সঙ্গে সুর্পারক, কল্যাণ, নাসিক, পৈঠান এমনকি উজ্জয়িনী প্রভৃতি বাণিজ্যিকি ক্ষেত্রের ছিল নিয়মিত যোগাযোগ।

এই গুহা মঠে আছে ছোট বড়ো একশোটিরও বেশি গুহা। এগুলির মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ১, ২, ৩, ১১, ৪১ ইত্যাদি গুহাগুলি। এই গুহা গুলি নির্মিত হয়েছিল বৌদ্ধ স্থাপত্য ও শিল্পকলা অনুসরণে। এই গুহাগুলিকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে: বিহার বা বাসস্থান,চৈত্যগৃহ বা প্রার্থনাগৃহ এবং জল সংরক্ষন গুহা বা পধি। ১ নং গুহা টি একটি বিহার, ২ নং গুহা টি প্রার্থনাগৃহ, ৩ নং গুহাটি এক বিশাল চৈত্য বা প্রার্থনাগৃহ। ১১ নং গুহা টি একটি বিশাল সভাগৃহ হিসাবে নির্মিত করা হয়েছিল, যেখানে বিভিন্ন সময় ধর্মীয় মহাসভা অনুষ্ঠিত হতো এবং সেই সভায় শতাধিক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী অংশগ্রহণ করতে পারতেন।


[ ৩নং এবং ৪নং গুহা ]


[ 3নং গুহার প্রার্থনাকক্ষ ]


[ ১১নং গুহা ]


[ ব্রাহ্মী ভাষায় লেখা শিলালিপি ]


[ ৩নং গুহার বাইরে বৌদ্ধমূর্তি ]

মহাকালী কেভস

মহাকালী কেভস বা কোন্দিভিটা কেভস অধুনা Jogeswari Vikroli Link Road (JVLR) এ SEEPZ-এর নিকট অবস্থিত|

এটিও একটি অতি প্রাচীন বৌদ্ধ গুহামঠ। পাহাড় কেটে এখানে মোট ১৯টি গুহা তৈরী করা হয়েছিল প্রায় খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দী থেকে খ্রিস্টাব্দ ষষ্ঠ শতাব্দী এর মধ্যে। এই ১৯টি গুহা দুটি ভাগে বিভক্ত। উত্তর-পশ্চিম দিকে ৪ টি এবং দক্ষিণ পূর্ব দিকে ১৫টি গুহা। এইগুহাগুলি প্রধানত বিহার বা বাসস্থান। কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত, ৯নং গুহাটি একটি চৈত্য বা প্রার্থনা গৃহ। এই গুহাতে খোদাই করা হয়েছিল, ভগবান বুদ্ধের সাতটি মূর্তি এবং বৌদ্ধ পুরাণেের আরো কিছু মূর্তি, যা এখন ধ্বংসাবশেষে পরিণত।

বছর কয়েক আগে অবধি এই মহাকালী কেভস অতি জীর্ণ অবস্থায় ছিল, সাধারণ মানুষ এই কেভসে যেতে ভয় পেতেন। বর্তমানে Archaeological Survey of India এই গুহামঠের রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। কয়েকদিন আগে আবার এখানে গিয়ে বেশ ভালো লাগলো।



[ ১নং গুহা ]


[ ৯নং গুহা ]


[ ৯নং গুহার অবশিষ্ট স্থাপত্য ]


[ বর্তমান মহাকালী গুহা ]

যোগেশ্বরী কেভস

তুলনামূলক ভাবে হিন্দু কেভসগুলির অবস্থা বৌদ্ধ কেভসগুলির থেকে ভালো। এই কেভসগুলিতে নিয়মিত পূজা-অর্চনা হওয়ার ফলে এগুলির কিছুটা হলেও রক্ষনাবেক্ষন হয়েছে।

এর মধ্যে যেটির কথা আমি প্রথমে বলতে চাই সেটি হলো যোগেশ্বরী কেভস। Western Express Highway এবং JVLR এর সংযোগস্থলে অবস্থিত এই যোগেশ্বরী কেভস। ষষ্ঠ শতাব্দীর প্রথম দিকে তৈরি হয়ে ওঠা এই গুহা মন্দিরটির স্থাপত্যশৈলীতে প্রাচীন বৌদ্ধ মহাযান ধারার ছোঁয়া পাওয়া যায়। গুহার সিঁড়ি ভেঙে নিচে নামলে পৌঁছনো যাবে এক বিরাট কক্ষে। এই কক্ষের মধ্যস্থলে আছে বেশ কয়েকটি স্তম্ভ যা এই গুহার ঠিক মাঝে থাকা যোগেশ্বরীদেবীর মন্দিরের সীমানা নির্দেশ করছে। এই গুহামন্দিরে যোগেশ্বরীদেবীর মন্দির ছাড়াও আছে শিব, গনেশ এবং হনুমানের মন্দির। যদিও এই গুহামন্দিরে নিয়মিত পূজা হয় কিন্তু এর রক্ষনাবেক্ষন পর্যাপ্ত নয়। খুব কাছাকাছি না পৌঁছলে বুঝতেই পারা যাবে না যে এখানে লুকিয়ে আছে ভারতবর্ষের এক প্রাচীন এবং অতিবৃহৎ হিন্দু গুহামন্দির। এই গুহামন্দির কে বেষ্টন করে অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠেছে মানুষের বাসস্থান| যার ফলে এলাকার নিকাশী এবং বর্জ্য ও মাঝে মধ্যেই প্রবেশ করে এই কেভসে।

এসব সত্ত্বেও যোগেশ্বরী কেভস আকর্ষণ করে অনেক পর্যটকদের।


[ যোগেশ্বরী গুহার প্রবেশপথ ]


[ প্রধানদ্বার, ভিতরে যোগেশ্বরী দেবীর মন্দির ]



[ গুহার ভিতরের মন্ডপ ]


[ স্থানীয় মানুষদের বিশেষ পূজা গুহার অন্দরে ]

মণ্ডপেশ্বর কেভস

মন্ডপেশ্বর কেভস বোধহয় এই অঞ্চলের সবথেকে কম পরিচিত গুহামন্দির। যোগেশ্বরী কেভস তৈরী হয়ে ওঠার সময়তেই বরিভিলি-পশ্চিমে Mount Poinsur এর উপর, দাহিসার নদীর পারে খোদাই করে তৈরী করা হয়েছিল এই গুহামন্দিরটির। বর্তমানে নদীর পথ পরিবর্তন হওয়ার ফলে মন্ডপেশ্বরের সঙ্গে নদীর দূরত্ব বেড়েছে। বৌদ্ধ মহাযান স্থাপত্বশৈলীতে তৈরী হয়ে ওঠা এই হিন্দু গুহামন্দিরটি সাক্ষী আছে এক অদ্ভুত ইতিহাসের।

"মন্ডপেশ্বর" বা "ঈশ্বরের-মণ্ডপ" সত্যিই এক সার্থকনামা স্থাপত্য। প্রধান গর্ভগৃহের সামনে রয়েছে এক অপূর্ব মন্ডপ বা নাটমন্দির। ষষ্ঠশতাব্দী থেকে প্রায় ষোড়শ শতাব্দী অবধি এটি ছিল এক মনোরম হিন্দুমন্দির। ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি এই মন্দিরটির দখল নেয় পর্তুগিজ আক্রমণকারীরা এবং এটি পরিবর্তিত হয় এক পর্তুগিজ চার্চে। এই গুহামন্দিরের উপর তৈরী হয়ে ওঠে “Our Lady of Immaculate Conception”- এর আদর্শে এক চার্চ। অষ্টদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে মারাঠা যোদ্ধারা এক যুদ্ধে পরাজিত করে পর্তুগিজদের এবং পুনরুদ্ধার হয় মন্ডপেশ্বর গুহামন্দির, আবার শুরু হয় মন্ডপেশ্বর মন্দিরে ভগবান শিবের পূজা। কিন্তু অষ্টদশ শতাব্দীর শেষ দিকে ব্রিটিশ শাসকরা পরাজিত করেন মারাঠাদের, আবার মন্ডপেশ্বর হয়ে ওঠে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদে র উপাসনাস্থল। ব্রিট্রিশ শাসনের শেষদিকে, এই মন্দির ফিরে পায় তার পুরোনো রূপ, ফের শুরু হয় ভগবান শিবের আরাধনা।

এই গুহামন্দিরটি সত্যিই এক ধর্মসমন্নয়ের প্রতীক, একদিকে যেখানে গর্ভগৃহে শিবের অবস্থান, মন্ডপের ভিতরের দেয়ালে খোদাই করা আছে বিভিন্ন হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি তার সঙ্গে আবার আরেকদিকে, মণ্ডপের বাইরের এক দেয়ালে খ্রিস্ট ধর্মের প্রতীক হিসেবে একটি "ক্রস" আর গুহামন্দিরটির উপরে রয়েছে পুরোনো পর্তুগিজ চার্চটির ধ্বংসাবশেষ।



[ মণ্ডপেশ্বর গুহামন্দির ]


[ গর্ভগৃহে শিবমন্দির ]


[ নাটমন্দিরের দেয়ালে হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি ]



[ গুহার বাইরে ক্রস ]


[ গুহার উপরে অবস্থিত পর্তুগিজ চার্চের ধংসাবশেষ ]

ভারতের ব্যস্ততম শহর মুম্বাইয়ের আলোকিত ও রঙীন নাগরিক সভ্যতার গভীরে আজও যেন কান পাতলে শোনা যায় তার শহরতলি ঘিরে একপ্রাচীন ইতিহাসের মৃদু কথালাপ, অতীতের গৌরব কীর্তির মায়াবী পদধ্বনি। মনে হয়, পৃথিবীময় যে প্রেম ও ভালোবাসার বার্তা এইগুহাগুলিকেও একদিন স্পন্দিত করেছিল, আজকের সন্ত্রাসবিধ্বস্ত এই বানিজ্যিক শহরের বুকের পাঁজরে যদি আবার বেজে উঠতো সেই প্রেম ও মৈত্রীর অমর বাণী! যদি এই গুহাগুলোর কোনো কোনোটার গায়ে যেভাবে সহাবস্থান করছে আজও বিভিন্ন ধর্মের শুভচিহ্নগুলি, আমরা তার থেকে শিক্ষা নিই সমাজে সবধর্মের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের! স্বপ্ন দেখি, সব ধর্মের মধ্যেই মানবতার যে প্রাচীন মন্ত্র আছে একদিন আবার তা মন্দ্রিত হয়ে উঠবে আমার প্রিয় কানহেরি কেভসে বা মন্ডপেশ্বরে, যোগেশ্বরী বা মহাকালী কেভসে। সেই ছোটোবেলায় যে গুহা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম এখনো কোনো ছুটির দিনের গোধূলিতে তার সামনে বসে পশ্চিম দিগন্তে সূর্যাস্তের লাল আভার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে যেন শুনতে পাই, গুহার পাথরগুলো থেকে সমবেত স্বরে ভেসে আসছে, 'ধর্ম সমাগতো অহিংসা বর্ণয়ন্তি তথা গতাঃ।'

ফেসবুক মন্তব্য