প্রতিভাস

প্রগতি বৈরাগী

এক এক সময় মনে হয়, কেউ কোত্থাও নেই
সেসব মুহূর্তরা গোপনে ষড় করে
লোভ দেখায় টুপটাপ ঝরে যেতে
অথবা নিঃসাড়ে জমে যেতে
ভাবলেশহীন মর্গের বরফের মত।

বারবার মনে হয়, আয়নায় দাগ নয়
কৃষ্ণকায় দাগ ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে আমার আত্মায়
সেই দাগে পা ফেলে ফেলে পেরিয়ে যাচ্ছি
মাথুরগন্ধ চুইয়ে পড়া মুচুকুন্দ প্রান্তর

বেছে বেছে আঙুল রাখি দ্বিধালগ্ন পথে
যাতে কোন এবড়োখেবড়ো বাদ না যায়
যাতে গতি আরও মন্থর হয়,
যাতে পিছুডাক মাত্র ছুঁতে পারি
তাঁর অঘ্রাণ পেরিয়ে আসা
ধানের শিসের মত গৌর কপাল

খরশান পাথরে চামড়া ছেঁড়ে,
জ্বালা জ্বালা লালাভ গোলাপি ফুঁড়ে
বেড়িয়ে আসে রোগা রোগা রক্তের ধার

“টি টি টি টি” গলা চিরে ডাকতে ডাকতে
বারবার নদী পার করে অন্ধ তিত্তিরিটি
হাওয়ায় ভেঙে ভেঙে ছড়ায় তার স্বর
প্রতিস্বর তাকে কুড়িয়ে নেয় না আদর মোড়কে

দুপুরের গড়ান লালে মরচে ধরে
কান্না আড়াল করে সে শুকিয়ে ওঠে
একা একা অন্ধকারের রঙে
মিলনের প্রতিভাসটি ক্রমশ আরও ক্ষীণ
পড়ন্ত ফুলের মত ক্ষয়াটে।
ঈশ্বরের নিরাসক্তি যে কি নির্জনে খুঁড়ে ফেলে...
আহা, তাঁকে যেন বুঝতে না হয় কখনো!

ফেসবুক মন্তব্য