উত্তর মেরুর কবিতা

শুভ আঢ্য

১৫
ওই ঈগল কোনো সঠিক ঘরের দিশা পাবার জন্য
দেখছি উড়ছে, দিকনির্ণয় নিয়ে ভাবিত সে এখন
খোঁজ রাখছে না খাদ্যের, এই মুহুর্তে কিছু মাছ তাদের
দ্বিতীয় জীবনের জন্য ধন্যবাদ জানালো আমায়

তাদের প্রতিটা চোখ আমাকে সতত দেখছে পাল্টে যেতে
এবং আমি লকড়ির মাথা থেকে সরাচ্ছি ছায়া

একটা মাছ তাদের হয়ে তীব্র বিষোদগার করে চলছে

মাছটার লিঙ্গ নির্ধারণ করে আমি ছেড়ে দেবার কথা ভাবতেই
নিজের পাকস্থলীর চিৎকার শুনতে হচ্ছে, সেইমত
মাছটা জানতে পারছ ঈগল তার সঠিক ঘরের দিশা পেলেও
আমি দিশাহীনতা নিয়েই ঘুরে বেড়াই, যদিও ঘরে একটা
কম্পাস চিরকাল উত্তরে মৌন হয়ে থাকে



১৬
এই ভীষণ গ্রীষ্মের আভা আমি কিছুই পাই না
কোনো সূর্যমুখ এখানে প্রবেশ করে না ইগলুতে
কোনো অক্ষর বাঁচতে পারে না এই গ্রীষ্মেও

যদিও, “They have thousands of words for snow”
পুফিনগুলো নিজেদের মত এই সময় তাদের তাপ গুছিয়ে নেয়
তারা অক্ষর মুখে করে রেখে দেয় পালকের ভাঁজে
তাদের লিপ্তপদ থেকে আমার গুহা সরে দাঁড়ায় আর
দেখি দলবদ্ধ পুফিনরা তাদের সাথে নিয়ে যাচ্ছে
গ্রীষ্ম আমার

এই আলাস্কার বরফে তথাপি গ্রীষ্ম বলে কিছুই হয় না
এবং তা আপনার ও ঐ পুফিনগুলোর ধারণা মাত্র, যা থেকে
ঋতুপরিবর্তন আপনি চান ও তীব্র শীতের সাথে
কমতীব্র শীতের এক ভেদরেখা টানতে ভালবাসেন

ফেসবুক মন্তব্য