পরি

উত্তম দত্ত

শেষরাতে পরি দেখব বলে ঘর ছেড়ে উঠোনে নেমেছি -

বিছানায় সোনাবউ, মস্ত পালঙ্কে শুয়ে একটা সাদা দশতলা বাড়ির স্বপ্ন দেখছে।

শিশুটিও পাশে, অলৌকিক গিটার হাতে ক্যালিফোর্নিয়ার রাজপথে হেঁটে চলেছে। পিছনে উন্মত্ত জনতা।

আর আমি, শ্রীযুক্ত ঈশম শেখ, নাগরিক কবিওয়ালা, শেষরাতের জ্যোত্‍স্নায় পরি দেখব বলে মায়াবী উঠোন ছেড়ে অঘ্রাণের ধানখেতে এসে দাঁড়িয়েছি। ঘুরে মরছি আলে আলে। পা কেটে যাচ্ছে ধানপাতার সবুজ ছুরিতে। রক্তের সুগন্ধ পেয়ে লাফিয়ে উঠছে ছিনেজোঁক। শামুকের খোলে চিরে যাচ্ছে পায়ের পাতা। আর এইসব অগণন তামাশায় হাততালি দিচ্ছে কাকতাড়ুয়া, মেছো বক, ভোরের জোনাকি।

দিগন্তের প্রান্তবর্তী কুয়াশায় শান্ত হয়ে ডুবে আছে প্রপিতামহের নাম লেখা বটবৃক্ষটি।

তার শাখায় শাখায় ঝুলে আছে মড়কের মৃতদেহ। ডালে ডালে প্রাগৈতিহাসিক গৃধিনীর বাসা। এই রুপোলি মন্বন্তরের ভূতগ্রস্ত অন্ধকার থেকে আমাকে ফেরাতে পারত যে বাঘিনী, আমি লুকিয়ে রেখেছি তার শেষ চিতাকাঠ।

আলের দুপাশে কাঁকড়ার গর্তের মতো সারি সারি গণিকাপল্লীতে পরিরা কোথাও নেই, এই বোধে দু হাতের মুঠো ভরে গেলে, মাঠ ছেড়ে চলে যাব ভাবি। সহসা তোমাকে দেখি। শবরবস্তি থেকে উঠে আসা অনার্য বাতাস। বনকচুর মতো শ্যামল ডানায় প্রিয় বাঘিনীর নাম লেখা। কোঁচড়ে তমাল পাতা। দু চোখে যমুনা। মাথার মুকুট থেকে একটি দুটি নরম পালক খুলে সে মুছে দেয় রাত্রিচর মানুষের ধুলোমাখা মুখ, কাদা ও রক্তে মাখা পায়ের আঙুল।

পরির ডানার শব্দে ভোর হয়ে আসে ক্রমে। ঘরের ভিতরে ঘর বাঁধে পলাতক নদী। আমিও বাসায় ফিরি, পরিত্যক্ত উনুনের কাছে।

ফেসবুক মন্তব্য