ঘরণী

উত্তম বিশ্বাস

শ্রীবাস মালকোঁচা মেরে ওপরে উঠেছে। বসুদেব নীচে কাস্তের আগা দিয়ে বিচালির মুঠোগুলো কেটে কেটে বড় আঁটি বাঁধছিল। ওরা বিষ্টু পালের প্রতিমা কারখানায় ইদানীং ব্যানা বাধাঁর কাজে ঢুকেছে। বর্ষা বিদায় নিতে নিতেও যেন নেয় না। ঈষৎ খড়-ধোয়া জল জ্বোরো রুগীর ধারানির মত সারাবছরই টুপটুপ করে ঝরতে থাকে ওদের মাটির দাওয়ায়। ঘরখানি ছাওয়া চাই। বিষ্টু পালের কৃপায় কুয়োর পাড়ে এটুকু জমি জুটিয়ে নিতে পেরেছে ওরা। এমন সময় আসে মালতী। মালতী থপ থপ করে হাঁটে, আর পেটটা আগে আগে চালনা করে। একহাতে ফ্যানের বালতি আর অন্যহাতে তেঁতুল মাখা নিয়ে দোরে দোরে ঘোরে সে। কথার ফাঁকে এক একটা আঙুল চেটেও নেয় “এই যোওওওওওও। ফ্যান আছে? হবে?”
বসুদেব তার সুচারু গোঁফের নীচে চিকন হাসি খেলিয়ে ওপরে ইঙ্গিত করে, “চালের মটকায় আছে যে, ওই ওপরের কর্তার কাছে জিজ্ঞেস করো!”
ইত্যবসরে দুটো সফুল লাউডগা ছট করে ছিঁড়ে কাঁধের ওপর তো’ করে নেয় মালতী। তারপর গলা চাগিয়ে হাঁক পাড়ল, “ও নতুন ঘরামী। ফ্যান হবে?”
“রাতে এসো! যখন তখন চাইলেই কী আর হয়? এখন পারব না। লাউ ডগাটা এমন ভাবে ছিঁড়লে যে?”
মালতী খিলখিল করে হেসে ওঠে, “হি হি হি! শুধু শুধু মদ্দাফুল ফুটলে ফল হবে কেন? দাঁড়াশ সাপের মত শুধু হিলহিলিয়ে বেড়াবে আর ঘরের খড়বিচালির দফারফা করে ছাড়বে, বুঝলে? লাগাও তো প্রতি চান্দে; ফল ফলে না ক্যান শুনি?”
বসুদেবের ঠোঁট পাতলা। সে ঝোঁক বুঝে বলেই ফেলল, “তোমার ক’মাসে পড়ল মালতী?” সম্ভ্রমের মাথা খেয়ে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে জাবর কাটছিল মালতী। সে তাড়াতাড়ি বাকি কাপড়টুকু দিয়ে উঁচু পেটটা ঢাকবার চেষ্টা করল। এরপর সত্যি সত্যি আক্ষেপের সুরে বলল, “দু’দুটো মরদ তোমরা; কতটা ফ্যান হয় সে ত আমি ভালোমতনই আন্দাজ করতে পারি! সবই ত ঝেড়ে ফেলে দাও আদাড়ে ভাদাড়ে। আমার বকনাটারে দিলেও তো তার শুকনো নালীটা ভেজে, না কী?”
শ্রীবাস এবার মজাটুকুতে নিমপাতা টিপে দিল, “বাছুরটা বিয়োলে গরম দুধের বাটিটা ত আগেই ঠেসে ধরবা মাধবের ঠোঁটে।”
“মাধব! আর বল কেন? গরম দুধ চুমুক দিতেও পোক্ত একটা পাকস্থলী চাই পুরুষের! বুঝলে? যাই হোক; ঘরে এবার বৌ আনো। একটা বাছুর দেব, সে পালবে। আচ্ছা ঘরামী, সংসার পাতলে হিসেবমত দুটো হয়, তবে এই যে ঘর খাড়া করলে, এক কামরা ক্যান?”
মালতী উত্তর প্রত্যাশা করলেও পায় না। শ্রীবাস ও বসুর চোখে চোখে বিদ্যুৎ খেলে ওঠে। আকাশে মেঘ জমেছে বুঝি। মালতী দ্রুত ছুটে যায়।
সন্ধ্যা হলে নতুন ঘরখানার সামনে ছোট্ট একটা তুলসী বেদীতে প্রদীপের আলো ঝিক দিয়ে ওঠে। মালতী কলাঝাড়ের আড়াল থেকে দু’দিন লক্ষ্য করে দেখেছে, কে আসে তুলসীমূলে? দ্যাখে, সাদা কাপড়ে কোনোদিন বসুদেব আবার কোন কোনও দিন শ্রীবাস। এমন দৃশ্য দেখে মালতীর তলা পর্যন্ত রিরি করে জ্বলে ওঠে। ওর তখন ইচ্ছে হয়, “ফ্যানের বালতি উপুড় করে এমন ন্যাকা ন্যাকা দেবতার থান ভাসিয়ে দিই।” কিন্তু পারে না। ঘনায়মান সন্ধ্যার নরম প্রদীপের আলোয় ওর মুখ খানিতে অদ্ভুত এক সৌন্দর্য খেলে যায়। আর কিছু না হোক, ওর না পাওয়া ক্ষুধার্ত পৃথিবীর কোলে যে এক হাঁটু অন্ধকার সেটা কিছুটা হলেও তো মোছা যায়। এছাড়া সিঁথির কোলে যে সন্ধ্যাতারা, সেও তো ড্যাবাড্যাবা চোখে চেয়ে থাকে মালতির সুন্দর উঁচু পেটটার পানে। নরম আলোর আরামে মালতীর চোখের পাতা বুজে আসে। হাতের তালুটা পেটের ওপর রাখে কিছুক্ষণ। মনে মনে বুঝি বা সে তার সম্ভাব্য সন্তানকে সন্ধ্যাবাতির সেঁক দেয়; আর সন্ধ্যাতারাদের আলোকে আঁতুড় জড়ানো সন্ততিকে স্নান করানোর স্বপ্ন দ্যাখে। সহসা চালাঘরখানি ফুঁড়ে আকাশ কাঁপানো শাঁখের আওয়াজ ভেসে আসে। কেন জানিনা মালতীর নারীসত্বা দুলে ওঠে। এবার সে এঁটোর পাত্র হাতে নিয়ে এলোমেলো পথ খুঁজে নিজভূমে পা বাড়ায়।
বিষ্টু পালের কারখানায় হাজার দফায় কাজ, আর হরেক কিসিমের মুটে মজুর। লক্ষ্মণ মাটির ওপর দুমদুম করে লাথি মারে, আর দেড়শো টাকার ওপরে মজুরি পায় না বলে দেবতাদের গুষ্টির তুষ্টি করে ছাড়ে। নুরু হালকা ব্লেডে শোলা কাটতে কাটতে শুকনো সাদা হাসি ছড়িয়ে দেয় অন্ধকার তাঁবুর নীচে, “বুঝলি লক্ষণ, মাটির তাল ত অনেক চটকালি, এবার অন্য কিছু কর। এতো টাকা টাকা করিস খাবে কে বল? সরস্বতী পুজোয় আসবে অনেক মাণ্টি, বলিস তো ফ্রেমখানা বেছে দিতে পারি।”
শ্রীবাস আর বসু মেয়েদের গল্প উঠলে তেমন আগ্রহ দ্যাখায় না। ওরা নিজের খেয়ালে ব্যানা জড়ায়; আর সুযোগ পেলেই একসাথে ঘরে এসে টিফিন করে যায়। লক্ষণ সোজাসুজি কাদা ছোঁড়ে, “এই বসু! ঘরে তোদের এতো কী রে? আমার তো বাপু সন্দেহ হয়। দুজনে যে কী করিস! এই মালতী কিন্তু তোদের ভালোই চাটে, তাই না?” নুরু এনামেলের থালায় জল ঢেলে নিয়ে ভাসন্ত মুড়িগুলো টিপে টিপে চটকায়। এমন কথায় যোগ দিতে গিয়েও আবার দু’কদম পিছিয়ে আসে। বসুর জন্যে ওর সত্যিই করুণা হয়। বেচারার বৌ বাচ্চাগুলো এখনও পথ চেয়ে আছে। মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থেকে এসেছিল দুজনেই। কিন্তু এখন আর বসু লক্ষণের সাথে সংস্রব রাখতে চায় না। লক্ষণ একা একা দুঃখ পায়, “কী ভালো ছেলেটা! আর এখন কী সব সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে! ছিঃ!” এসব ভাবতেও লজ্জা হয় লক্ষণের। নুরু আপন মনে শোলা ছাঁচে আর মনে মনে ভাবে, “কত কারুকৌশলে প্রতিমাকে আমরা সাজাই! তাকে বরণ করি। কিন্তু একটি বারের জন্যেও কী কেউ ভাবে ওর দেহে খড়বিচালি তুষকুড়ো আর চিটেপাতার ফাঁকে কতো বিষাক্ত পোকা চাপা পড়ে আছে! মানুষ দেবতাকেও কতভাবে ঠকাচ্ছে! আর বসুর বৌ সে কোন ছার।”
রাত্রে আলোটা নিভোনোর আগে শ্রীবাস গায়ের পাতলা চাদরটা ঝেড়ে ফেলে উঠে বসল। পায়ে পায়ে রান্নার চালাটার কাছে গিয়ে কী যেন খুঁজতে লাগল। বসু শোবার অপেক্ষায় ব্যাকুল হয়ে উঠল, “কিছু কি খুঁজছো?”
“হ্যাঁ। সসপেনে খানিকটা ফ্যান ছিল; কোই?”
“এত রাতে ফ্যান?”
“মালতীকে দিয়ে আসি।”
বসু বিছানা ছেড়ে গা ঝাড়া দিয়ে উঠে বসে। সে জানে, হাতে ফ্যানের গামলা থাকাটা একটা অজুহাত মাত্র। শ্রীবাস মালতীর কাছে যেতে চায়। বসু পায়ে পায়ে উঠোনে নেমে আসে। গাছেদের ফাঁক গলে জ্যোস্নার আলোছায়া, কে যেন নিপুণ হাতে আলাপন এঁকে রেখে গেছে। মালতীর মেয়েটা হবার আগেই মাধব মাটির পৃথিবীর সাথে সম্পর্ক চুকিয়ে চলে গেছে অনেক দূরে। এর জন্যে মালতী গলা ফেড়ে, উঠোনের মাটি আঁচড়ে কোনোদিনই কাঁদেনি ও কাঁদে না। কেননা ওর ক্ষুধার্ত কাঁচা নাড়িতে তখন খিঁচ ধরে। ব্যথায় যখন ককিয়ে ওঠে ভেতরটা, তখন ও শুকনো ঢোক গিলে গিলে শান্ত হবার চেষ্টা করে। বসুর চোখদুটো ভিজে আসে। নিজের পরে অভিমান হয় খুব। ফ্যান তো সে নিজেও দিয়ে এসেছে সন্ধ্যায়। মেয়েকে আদরও করে এসেছে। কিন্তু এখনই শ্রীবাসকে না গেলেই নয়। বমির ঝোঁকের মত বসুর গলা বেয়ে একটি কথাই নেমে এল, “আমাদের মধ্যে কেউ যদি একজন মালতী হতে পারতাম, তাহলে এই অশান্তি ভোগ করতে হত না। তাই না?”
“হতে পারলে তো খুবই ভালো হত।”
“তাহলে এদ্দুর এসে এইখানে এই সামান্য খড়কুটো আকড়ে ধরে বেঁচে থাকাই বা কেন?”
“এত মাইণ্ডে লাগার কী আছে? মেয়েটাকে একটু দেখতে যাই... এই ব্যাস!”
“মেয়েটা কী তোমার?”
“হঠাৎ এসব প্রশ্ন?”
“না! এমনি জানতে চাইছি... তোমার?”
“যদি হয়? তাতে তো আমাদেরই মঙ্গল তাই না? পেট তো আমাদের সবারই আছে! কিন্তু...!”
বসু ধুনোর মত দপ করে জ্বলে উঠল, “কে বলল কিছু পারি না? তুমি কী ভাব মালতীর মত পেট ক্যারি করতে পারিনা বলে বাচ্চা বানাতেও পারি নে? তাহলে তুমি পারলে কী করে? আমিও কারো চে’ কোনও অংশে কমা নই! শুধু শুধু কোন শর্তে আমি আমার বৌ বাচ্চাকে ভাসিয়ে দিলাম?”
“যদি বল, এই অপরাধ আমি তোমার মোহে পড়েও করতে বাধ্য হয়েছি?”
“শ্রীবাস! প্লিজ তুমি আর যাই কর মালতীর কাছে যাবে না! গেলে কিন্তু খুব খারাপ হবে।”
আগে প্রথম প্রথম মেয়েকে বসুর কাছে রেখে যেত মালতী। বিকালে কারখানা থেকে ফিরে, ফ্রেশ হয়ে শুয়ে শুয়ে পেটের ওপর নিয়ে মেয়েটিকে নাচাত বসু। কিন্তু ইদানীং মেয়েটা নাদুস নুদুস হয়ে ওঠায়, মালতীর মনে সবসময় কু’ ডাকে! সে আর মেয়েকে বসুর কাছে একলা রাখতে চায় না। পায়ে ন্যাকড়ার দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। ভিজে দাওয়া। কেন্নো পোকার সাথে থাকতে থাকতে মেয়েটাও যেন দিনকার দিন ঘ্যানঘেনে খ্যানখেনে হয়ে উঠছে! আজকাল শ্রীবাস দুপুরে ঘরে খেতে আসতেও চায় না। মাঝপথে ভাগ হয়ে যায়। হয়ত সে মালতীর হাঁড়িতে চাল দেয়। মেয়ের জন্যে খেলনা কিনে নিয়ে যায়। বসুর মত সেও মেয়েটিকে পেটের ওপর তুলে নাচায়। মালতী চেয়ে চেয়ে দ্যাখে, আর মাধবের দুঃখে ওর চোখ ছাপিয়ে চারদিক ঝাপসা হয়ে আসে!
রাত্রে ঘরে এসে গায়ে পারফিউম ছিটিয়ে শুতে আসে শ্রীবাস। একমাত্র এই ঘরটুকুতে না শুলে দেহমনের সবটুকু খিদে মেটে না শ্রীবাসের। বসুর ঘরদোর গোছাতে দেরি হয়ে যায় অনেকটা। কিন্তু আজকাল কেমন যেন ছাড়াছাড়া ভাব! হ্যারিকেনের আলো বাড়িয়ে দিয়ে একটা একটা করে প্রতিমার মুকুটের পুঁথি সাজায় সে। একশো মুকুট রেডি করতে পারলেই হাজার টাকা। শ্রীবাসের জন্যে ওষুধ লাগে অনেক। কী সব ওষুধ খায় সে! বসু পয়সা জমিয়ে রাখতে পারে না! হাজার চিন্তা ওর মাথায়, “বিষ্টুদা কৃষ্ণনগরে অনেকটা বায়না নিয়েছে। যাবে? প্রতি পুতুল প্যাঁচাতে পারলেই পাঁচশ! যাবে কৃষ্ণনগর?” কথাটা খুব কষ্ট করে বলতে চেষ্টা করে বসু।
“না! মেয়েটার খুব জ্বর! হাসপাতালে না নিলে খুব খারাপ দ্যাখায়! দ্যাখছো তো ডেংগিতে সব যেন উজাড় হয়ে যাচ্ছে।”
“কিন্তু আমি যে কথা দিলাম?”
“বললাম তো এই কারখানা থেকে আপাতত একপাও নড়ছি না।”
অনেক রাত অবধি জেগে জেগে বসু মুকুট সাজায়। হ্যারিকেনটা ঝাঁকিয়ে দেখে, তাতে আরও খানিকটা কেরোসিন ঢেলে দেয়। কিন্তু শুতে যায় না।
ভোর রাতে আগুনের হল্কা সারা পাড়ার ঘুম সেদ্দ হয়ে আসে! কুয়োতলার খড়বিচালির ঘরখানি থেকে জিরাফের জিহ্বার মত আগুন বেরিয়ে আসতে থাকে। পাড়ার লোক অনেকে এলেও মালতী এল না। ও’ই বুঝি তার মনকে বিষিয়ে দিয়েছে। বসু কোথায় গেল কেউ জানে না। ভোর থেকেই শ্রীবাস পাগলের মত বসুকে খুঁজতে লাগল। কারখানায় গেল। দিঘিটার পাড়ে গেল। মালতীর ঘরের দিকেও একবার উঁকি দিল--- মেয়েটা একা একা ন্যাকড়ার দড়ি দিয়ে বাঁধা আছে বারান্দার খুঁটিতে ঘরে কেউ নেই। শ্রীবাসের বুকের ভেতরটা প্যাঁচানো পলের মত মুচড়ে ওঠে। এতোবড় একটি ঘটনায় কেবলমাত্র বিষ্টু পাল ছাড়া আর কেউই তেমন দুঃখ পেল না। তিনি গতমাসের জের টাকাটা শ্রীবাসের হাতে গুঁজে দিয়ে সান্ত্বনা দিলেন, “মন শক্ত করো। ভেঙে পড়ো না। মানুষের ঘর পুড়ে গেলেও আরও কিছু বাকি থাকে।” অমনি পাশ থেকে হরি মুদি তীর ছুঁড়লেন, “নিজেরা পুড়ে মরে নি এই ভাগ্যি! খুব অসভ্যতামি চলছিল শুনতে পাচ্ছিলাম। একটা বিদেয় হয়েছে বেঁচেছি। তা না হলে আমরা গিয়ে ঘর জ্বালিয়ে দিয়ে আসতাম।” শ্রীবাসের বুকের ভেতরটা ধোঁয়ার মত ঝাপসা হয়ে আসে। তবু বিষ্টু কাকার কথাটা আলটার মতো মাথায় পেঁচিয়ে নিয়ে শ্রীবাস ফিরে আসতে আসতে ভাবে, “সত্যিই তো! যা পুড়বার ছিল তা পুড়ে গেছে। আরও তো কিছু থাকে; তা’ই নিয়েই নাহয়----!”
দুপুর গড়িয়ে গেল। বসু এল না। মনকে শক্ত করে শ্রীবাস একা একাই জ্বলে যাওয়া পোড়া কাঠকয়লা ঝুড়ি ভরে ভরে সরাতে লাগল। হঠাৎ পায়ের শব্দে ব্যকুল হয়ে উঠল ওর মন, ভাবল বসু ফিরে এল বুঝি! কিন্তু না! এঁটো বালতি হাতে সেই প্রথম দিনের মত মালতী আবার দোরে এসে শুকনো ঠোঁটে শ্রীবাসের উঠোনে এসে হাঁক পাড়ল, “ফ্যান আছে? গরম ফ্যান?”
আজ শ্রীবাস সেদিকে ফিরেও তাকাল না। বসুর ফেলে যাওয়া একটা আধপোড়া সাদা থান গায়ে জড়িয়ে জ্বলে যাওয়া ঘরখানার পোড়া কাঠকয়লা সরিয়ে মাটির তপ্ত দাওয়ায় পরম মমতায় ঠাণ্ডা জল-মাটির ন্যাতা বুলোতে লাগল!

ফেসবুক মন্তব্য