রুমিকে

তুষ্টি ভট্টাচার্য

তোমাকে কী নামে ডাকি!
এমন মাতাল তুমি, এমনই মাতাল
কবির থেকেও জঘন্য!
তোমার তালি মারা জোব্বার ভেতরে
লুকনো মুক্তো খুঁজে পেয়েছি আজ
তোমাকে সুফি নামে ডাকি?

হিংসা আর মৃত্যু ভরা শহরে তুমি হেঁটে যাও
মাটি থেকে ভালবাসা কুড়িয়ে জড়ো কর
আমি ব্যস্ত থাকি মন্দ সরিয়ে
ভালটিকে বেছে নিতে
ঠিক এই সময়ে তুমি বললে -
জানা-অজানা ছেড়ে সবটুকু নিয়ে নিতে
সমস্ত মিশিয়ে দিতে শরবতে

যাওয়ার আগে তুমি বলে গেলে –
আমি আবার ফিরে আসব
পুরনো জেলখানার গেট ভেঙে দিয়ে
যেভাবে নতুন বছর আসে।
আমি আবার ফিরব
সমস্ত দাঁত-নখ ভেঙে দিতে
যারা মানুষ মেরেছে,
যাদের তুমি জীবন বলে থাক।
আমি ফিরব আবার
সেই সব ফুলেদের ঔজ্জ্বল্য মুছে দিতে
যারা মানুষ ধ্বংস করেছে।
আমি কোন প্রশ্ন না করেই
শান্ত হয়ে জীবনকে কথা দিয়েছি
আর এক মনে প্রার্থনা করে গেছি
যেন কথা না রাখার আগে
আমার পিঠ ভেঙে যায়।

রুমিকে জিজ্ঞাসা করি, যাওয়ার আগে তোমাকে বলে যেতে হবে -
ইশ্বরের আমাদের প্রয়োজন নেই
তবুও কেন তিনি এই দুই পৃথিবী সৃষ্টি করলেন?
তুমি উত্তর দিয়েছিলে -
ঈশ্বরের দুই গোপন সম্পদের নাম করুণা ও মহত্ত্ব
ওই সম্পদ আমার চাই
তাই আমি এক আয়না বানিয়েছি
যেদিকে তাকালে আমি মুখ আর বুক দেখতে পাই
আর তারই উল্টোদিকে রয়েছে গাঢ় অন্ধকার পৃথিবী।
যদি তুমি কখনও মুখ না দেখ, পিঠ দেখেই আনন্দ পাবে।

সেই থেকে রুমিকে আমি আয়না নামে ডাকি।

ফেসবুক মন্তব্য