শানুদার সাথে যেদিন গেছে চলে

জয়দীপ চক্রবর্তী


এই তোমার মতাদর্শ শানুদা?
দিনরাত এক করে বুলি আওড়ে গেলে!
বুলিগুলি বাস্তব শ্রেণী নির্ধারণে ব্যর্থ হয়ে...
নিজেরাই বুলি হয়ে গেল!

শানুদা এখন তোমার মাঠটা বড়।
অনেক বড়।
অনুভূতির প্রকাশ কমেছে আরো...
খোলা হাওয়ায় কথা বিপজ্জনক,
হাত পা গজায় যখন তখন!
চেয়ারে বসাও দায়! অভ্যন্তরীণ সংগ্রাম....
কেননা চেয়ারে বসে কথা বললে
অদৃশ্য ডেঁয়ো নোটিশ ছাড়া মিছিল করে...

বিষয়টা কি ঠিক হল শানুদা?
একযুগ ধরে যে ছেলেটা অবিরত
তোমার স্বপ্নে ছুঁয়ে গেল শুভেচ্ছা পাপড়ি,
আজ মাটিতে শস্যের ঘ্রাণে, সাফল্যের কাঁচা...
রঙ লেপেছো অবয়বে! সেইসব হাত ধরাধরি?
অনন্ত অন্ধকার অতলে!
নাকি সেইসবই গঠনতন্ত্রের ধারা?
তবুও, তবুও কি অবিবেচক!
সেই কিশলয়-বেলার বোঁটা ঝরা ছেলেটিকে-
কীভাবে প্রতিক্রিয়াশীল বলতে পারলে?

বিকল্প প্রতিনিধিদের তালিকা থেকেও
তোমার নামটি বাদ গেল।
সবটাই ফাটকাবাজী শানুদা?
মতাদর্শটুকুও?
আমার সামান্যই বিশ্বাস
এতদিনে তুমি নিশ্চয়ই বুঝেছ
আনুগত্যের কাছে সবই সমান,
কবেই জেনেছ...
যোগ্য কিংবা অযোগ্য,
আম ও আঁটি তবুও-
সবই সম্ভাবনা। সবই মহার্ঘ্য...

শানুদা এইবারে লোকাল কমিটিতে,
তোমারই নাম জ্বলজ্বল।
তুমি পুত্র আর মানসপুত্রে-
দুরতিক্রম্যতা যাবতীয় ছল,
কবেই বুঝে নিয়েছ, পারাপার...

তুমি খুব চিন্তাতেই ছিলে!
আমি ছাতা ছেড়ে বেড়িয়ে গেলে।
আমার ঘর বোঝাই বইপত্র,
কী হবে বইগুলির?
তোমার চিন্তিত আলাপন যত্রতত্র!!
যতই হোক সহযাত্রী বলে কথা...
গোঁসা হল? তবে স্বজন, শুভাকাঙ্খি...
চলবে না দৌড়াবে?
প্রসঙ্গত জেনো: বই স্বভাবত অংশত জল।
সে যেকোনো মানুষের বোধের ঘরে-
কস্মিন ভাবে না কতটা যাপন আছে,
খাট, তোষক, বালিশ কিংবা চাদর...
এইসব, সবই-
অবাঞ্ছিত আয়োজন সমূহ জেনো।
সামান্য এতটুকুর মধ্যেও নেয়,
সহজ আশ্রয়...

শানুদা এবার থামার সময়। জেনো সঠিক।
এইযে দেখছ, কিশলয় কাঁচাবেলা। ভুল।
তবুও জেনো এইসময়ে এরাই অভিমুখ;
নয় তোমার নাট্যকল্প আলোআঁধারি...
আসলে বিষয় হল বোধ...
কায়েম-বয়স্ক নিভৃত দায়ভার-নির্ভুল!
রাজপথে নয় শুধুমাত্র,
প্রতিবাদ, প্রতিরোধ সফলতা
শস্যস্বপ্ন আর মাটির ঘ্রাণ ফিরে পেতে-
মুঠো খুলে দিতে হয়।
অনিবার্য।

শানুদা একটু ভেবে দেখো। অবসরে।
বহুদিন আগে থমথম পা,
মতাদর্শ বার্ধক্যে'র কারণেই-
পিচ্ছিল পাকালমাছ হয়...

শানুদা তুমি কথা বললেই,
বাংলাভাষা অনিশ্চয়তায় ভরে।
দুঃখ পেলে?
কুসুম করে বলি তবে,
আমার মন অনিশ্চয়তায় ভরে।
কী এইবার খুশি তো?
গত কনফারেন্সে যে বাবার মত ছিলেন,
এই কনফারেন্সে সেই দাদের মলম!
আসলে সব, সবই সম্ভাবনা খেলা...
যদিও ক্ষমাহীন ভুল ছিল-
তোমার ''মত'' কথাটায় জোর
না দেওয়া।
১০
শানুদা স্বর্ণযুগ আমি দেখিনি,
কেমন ছিল জানিনা, তবে শুনেছি।
সে যুগের দুধেভাতে সন্তান তুমি...
এযুগে সবই স্বচক্ষে দেখছি!
অন্তহীন ভিন্নতা দুই যুগের আলোছায়ায়,
একটিই অন্ত্যমিল একাকার,
বাঁদরামি করে দুই যুগেই তুমি,
পেটে, পিঠে ও গাছে, গাছতলায় তোমারই-
মেঘরোদ সবচেয়ে বেশি...

ফেসবুক মন্তব্য