স্বপ্ন

অর্ঘ্য দত্ত




স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। আজও। সুখস্বপ্ন। দেখিও, তবে তা নিতান্তই একার স্বপ্ন। সকালের আলো ফুটলেই ক্ষণজন্মা রাতের ফুলের মতো সে'সব ঝরে যায়। সংসারের শুরুতে দেখতাম যৌথ স্বপ্ন। দুজনে। সে সবের সব কিছুই ঝরে যায়নি। সাকার হয়েছে অনেক কিছু, কিছু বা হয়ওনি। বুঝে গেছি, সেগুলো কোনোদিন আর হবেও না। ইদানীং আবার দেখছি তেমনি এক স্বপ্ন। যৌথ স্বপ্ন। সমবেত স্বপ্ন। সে স্বপ্ন দেখারও অনেক সাথী আছে। সিদ্ধার্থ, অরিন্দম, তাপস, প্রদীপদা। আরো কেউ কেউ।

স্বপ্নটার কথা বলে ফেলি? আগামী কলকাতা বইমেলাতে বম্বেDuck-এর একটা ঝকঝকে মলাটের প্রিন্ট কপি। যা হাতে নিলে পাঠকের মন ভালো হয়ে যাবে। পাতা না উল্টে কোনোভাবেই যা দূরে সরিয়ে রাখা যাবে না। যাতে থাকবে আমাদের ভালোবাসার ছাপ, আমাদের যত্ন নিয়ে বাছাই করা এমন সব লেখা যা যে কোনো রসিক ও মননশীল পাঠকের মনকে ছুঁতে পারবে, কাড়তে পারবে তার অমূল্য মনোযোগ।

তবে হ্যাঁ, আমরা নিজেরা স্বপ্ন দেখলেও, পৃথিবীর কোনো দেশের, কোনো শহরের, কোনো গ্রামের কোনো নবীন লেখককেই বাংলা সাহিত্যের মূল স্রোতে মিলিয়ে দেওয়ার আজব স্বপ্ন দেখাতে পারব না। আমাদের মতো ফেসবুকে কবিতা লেখার হাত মকশো করা কবিদের কাছে আজ যে স্বপ্ন চড়া দরে বিক্রির চেষ্টা করছে কেউ কেউ। আমরা এমন হাস্যকর চেষ্টাই করব না। আজকের দিনে সারা পৃথিবীই যখন এক ভুবনগাঁও, এক মাউসের ক্লিকে নিজের লেখা যখন পৌঁছে দেওয়া যায় পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তের পত্রিকার দপ্তরে, পড়া যায় হাজারো পত্রিকা ও বই, জানা যায় পৃথিবীময় বাংলা চর্চার হাল হকিকৎ তখন এ সব ছেলে ভোলানো স্বপ্ন বিক্রির কোনো উদ্দেশ্যই আমাদের নেই। আমরা মনে করি, বিশ্বাস করি, লেখালেখির জগতে প্রান্তিক বলে আর কিছু নেই। ছিল হয়তো ক'বছর আগেও।

তাছাড়া মূলস্রোত বলতে কী বোঝায়? কাকে বোঝায়? বাংলা সাহিত্যের সংখ্যাগুরু পাঠক যে সাহিত্যকে, যে সব পত্রিকাকে, যে সব লেখক কবিদের স্বীকৃতি দিয়েছে তাদের? আজ আর তাতে সামিল হতে কারো সাহায্য লাগে না, যা লাগে তা হল কলমের জোর। লিখতে জানা। তারা যেমন লেখা পছন্দ করে তেমন লিখতে পারা। গত ক'মাসে এই যে মুম্বাই থেকেই আমাদের সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়, অপরাজিতা ভট্টাচার্য, অনিরুদ্ধ সেনের একাধিক লেখা দেশ পত্রিকায় ছাপা হয়েছে বা মনেনীত হয়েছে তা তো শুধু ওদের কলমের গুণেই। আরো অনেকের লেখাই ছাপা হচ্ছে অন্যান্য পত্রিকায়, নিয়মিত। বাংলা সাহিত্যের মূল স্রোতে অবগাহনের জন্য আজ আর কারো কোনো নুলিয়ার সাহায্যের প্রয়োজন হয় না।

এই প্রসঙ্গে আরো দুটি কথা স্পষ্ট করে বলি। প্রথমত, বম্বেDuck-এ লেখা ছাপা হয়, হবে শুধুমাত্র লেখারই গুণে। এর সঙ্গে শত্রু-মিত্রের কোনো সম্পর্ক নেই। দ্বিতীয়ত,কোনো লেখা মনোনীত হওয়ার পরে সেই নবীন লেখকদের কাছ থেকে কোনো বাহানাতেই অর্থ সাহায্য চাওয়া হবে না বা কোনো অর্থের বিনিময়ে সদস্য হওয়ার অনুরোধ করা হবে না। বরং, ওয়েব সংখ্যায় লেখার জন্য আমরা সাম্মানিক দিতে না পারলেও,প্রিন্ট বইমেলা সংখ্যার জন্য প্রতিটি লেখক কবিকে, আমন্ত্রিত এবং মনোনীত, যত সামান্যই হোক সাম্মানিক দেব। এবং দেব সৌজন্য সংখ্যাও। কী করে পারবো? পারবো সাহিত্যের প্রতি আমাদের অভিসন্ধিহীন ভালোবাসায়। সবাই মিলে পাশাপাশি থেকে। হাত ধরাধরি করে থেকে। এই মুহূর্তে 'বম্বেDuck'-ই যে মুম্বাই থেকে নিয়মিত প্রকাশিত একমাত্র নির্ভেজাল সাহিত্য পত্রিকা সেই মান্যতা আদায় করার জেদে।

আর এতদিন কত কৃতী লেখক কবির সহযোগিতা পেয়ে এসেছি আমরা! গত পাঁচটি সংখ্যায় আমাদের অনুরোধে লেখা দিয়েছেন কত জনপ্রিয়, নামী কবি, লেখক! কত নবীন কবি! তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। শুধু কী লেখক কবি? এই যে এই সংখ্যার প্রচ্ছদ এবং সমস্ত গদ্য ও ইংলিশ পোয়েমের অলংকরণ করার জন্য পার্থ চ্যাটার্জী বিনা শর্তে ওর তোলা অসাধারণ ফটোগ্রাফগুলো পাঠিয়ে দিল বা কুড়িটা বাংলা কবিতার জন্য দ্রুত হাতে এঁকে অলংকরণ করে দিল অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় এটা কি একটা ঈর্ষণীয় টীম তৈরী না হলে সম্ভব হতো। অত ব্যস্ততার মধ্যেও শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী যে ভাবে ইংরাজী বিভাগের সম্পাদনা করে দিল তাতে ওর ঋণ কি শোধ করা যাবে!

তাই, যে স্বপ্ন আমরা দেখেছি, দেখছি, তা এই টীমের শক্তিতেই সাকার করে ছাড়বো। আপনারা শুধু পাশে থাকবেন, যেমনটা এতদিন ছিলেন।

ফেসবুক মন্তব্য