এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল

দূর্বা মুখার্জী



শহরের বুকে নেমে আসছে গাঢ় নীল ধোঁয়া -
গুটি গুটি পায়ে একটা চিতা যেমন শিকারের ঘাড় লক্ষ করে ঝাঁপাবার আগে দূরত্ব কমিয়ে আনে, সেভাবেই পৃথিবীর সেই বিন্দুটির সাথে আমার দূরত্ব কমিয়ে আনছিলাম আমি।

মৃদু কম্পন অনুভূত হল, যখন আমার পা তোমাদের ছাদকে ছুঁল। যদিও কোন রাডারে বা রিখটার স্কেলে আমাকে মাপতে পারবে না কেউ, তবু সাবধানতার মার নেই ভেবে রেনওয়াটার পাইপ বেয়ে নেমে এলাম তোমার বেডরুমের জানলায়।

আমার ভিতর ফিড করা তথ্য মতই তুমি টেবিলের উপর মাথা রেখে ঘুম আর আচ্ছন্নতার মাঝামাঝি পড়ে আছো, ল্যাপটপ খোলা রেখে সামনে। নেমে এলাম ঘরের মেঝেতে - সারা শহরকে ছেড়ে সব নীল ধোঁয়া এখন তোমার পনেরো বাই পনেরো বেডরুমকে গ্রাস করে নিল সহসা।

ল্যাপটপের স্ক্রিনে দেখি এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল নিয়ে সার্চ রেজাল্ট, হাতে ধরা গ্লাসে জ্যাক ড্যানিয়েলসের তলানিটুকু রয়ে গেছে। আমার হাতে সময় বেশী ছিল না। একটা ছোট্ট ফুটো - ফাঁপা ছুঁচ দিয়ে শিরদাঁড়ার মাঝামাঝি ঢুকে গেলাম। মিশে গেলাম রক্ত মাংস মজ্জায়।

তুমি প্রেতগ্রস্তের মত উঠে এসে শুয়ে পড়লে বিছানায়। ঘুমিয়ে পড়লে সাথে সাথেই। সারা শরীর থেকে বিচ্ছুরিত হতে লাগলো এক অপার্থিব নীল আলো।
আমি তোমার শরীর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছি ততক্ষণে। তাকিয়ে আছি ঘুমন্ত মুখের দিকে, যে কি না গত আট মাস যাবত ঘুমোতে পারেনি।

চোখ সরাতে পারছিলাম না। তবু পরবর্তী প্রোগ্রামিং অনুযায়ী ঘর থেকে সরিয়ে দিলাম অপ্রয়োজনীয় সিডেটিভের জঞ্জাল। নীল একটি নাইটল্যাম্প লাগিয়ে দিলাম। এখন আর শরীর থেকে বেরিয়ে আসা নীলকে অত তীব্র মনে হচ্ছে না। ল্যাপটপে দ্রুত টাইপ করলাম, কিছু সতর্ক বাণী। যেমন এই নাইটল্যাম্পটি জ্বালিয়ে রাখার কথা।

সময় শেষ। আমি জানলা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে শেষবারের মত তোমার মুখের দিকে তাকাতেই তুমি চোখ খুললে। দেখে ফেললে আমায়। আমি যেন জমে গেলাম ওখানেই - এত মায়া চোখে!

আর তখনই এক তথাগত ভোরের প্রথম আলো আমাকে ছুঁয়ে দিল। তুমি জানলার কাছে এসে দেখলে একটা অদ্ভুত নীল পাথর পড়ে আছে। আনমনে কুড়িয়ে এনে টেবিলে রাখলে। মুখে স্মিত হাসি।

আমি আবার রাত নামার অপেক্ষা করতে লাগলাম।

ফেসবুক মন্তব্য