কথাদের কথা

ঋকপর্ণা ভট্টাচার্য



বসন্ত চলে গেলে কথারাও মরে যায়
অল্প অল্প করে কমতে থাকে কথাদের
খাওয়াদাওয়া, পুষ্টির অহঙ্কার, নির্লজ্জ দেখনদারি--
সোডিয়াম বা পটাশিয়াম ব্যালান্স চলে যায়
মাঝে মাঝে, মেলানিনে শতকরা কতটা বর্ণাঢ্য সমাবেশ
কতটা রাবীন্দ্রিক বলে ভালোবাসাবাসি--
এইসব কথার কথারা খায় না আর, উত্তর ভুলে যায়।

বিদেশী হঠাৎ এসে খোঁজে যদি কথাদের ছোটবেলা
আঁতুড় ঘর, মেলানিন, রবি-ভক্তি, অন্যরকম কিছু--
চোখে তার অকালে হেমন্ত নামে। একবার আরও
প্রমাণিত হয়ে যায়, কথারাও একদিন এলোকেশী যুবতীর মত
সম্পূর্ণ জীবিত ছিল, চোখ ছিলো কথাদের, চুল ছিল
ঘন কালো বালিশের আবডাল-- এমনকি ঠোঁটও ছিলো।
হৃদয় ও মাতৃত্বর মাঝখানে ব্যারিকেড পার হয়ে
দুইখানি পয়োধর--কথাদের যুবতী মানাত হরদম--
আহা! ঐ আবডাল স্পর্শ করে উঠে আসত
কন্ঠস্বরে যে মানবী হৃদয়-- বিশুদ্ধ কবিতার একমাত্র জননী
কথাতে ভ্রমর বসত... পরাগমিলন,
সেইসব কথাদের এখন অঘ্রাণ-- আহা রে বিদেশী!

উপরোক্ত কথামালা পৌরাণিকী বলে স্মার্ট আমরাও ফেলে চলে গেছি,
শীত এলে একদিন হয়তো এ'সব কথা জ্বালানি করে ব্যবহৃত হবে।

ফেসবুক মন্তব্য