ছদ্মবেশী

সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়


‘আজ সব শালার মুখোস খুলে দেব।’ দু-তিন পেগ পেটে পড়তে না পড়তেই মলয় বেসামাল হয়ে যায়। ছোটো থেকেই মলয় মাল খেয়ে ধ্যাষ্টামো করে, ছিপিতে করে খেলেও আউট হয়ে যায়। বাওয়াল না করলে ওর নেশা জমে না। ছোটো থেকে মানে কি আর ল্যাঙটা বয়েস থেকে? যদিও আমরা ক’জন যাকে বলে ল্যাঙ্গোটিয়া ইয়ার। যবে থেকে আমরা একসঙ্গে মাল খাওয়া শুরু করেছি, তবে থেকেই। বলাই পুরুতকে পোড়াতে গিয়ে বোড়াইচণ্ডীতলার শ্মশান-ঘাটে গঙ্গার ধারে ঘাসের ওপর শুয়ে, দোল পূর্ণিমার রাত্তিরে মেরির মাঠের ক্রিকেট-পিচের বাঁখারির বেড়ায় হেলান দিয়ে বসে কিম্বা জগদ্ধাত্রী পুজোর আলোর থেকে আড়াল খুঁজে কানাগলির অন্ধকারে দাঁড়িয়ে... মানে শুয়ে, বসে, দাঁড়িয়ে যেভাবেই আমরা মাল খাই না কেন মলয় মাতলামো করবেই। মোড়ের মাথায় জগন্নাথের চায়ের দোকান থেকে চেয়ে-চিনতে যোগাড় করে আনা প্লাস্টিকের গেলাসে সস্তার দারু ঢুকু ঢুকু মেরে, পান চিবোতে চিবোতে মলয়কে ওদের গলির মুখে ছেড়ে দিয়ে তবে ফিরতাম। বাড়ি ঢুকতেই মা সন্দেহ ভরা চোখে তাকাত।
এই ছোট্ট মফস্বল শহরটায় তখন একটিমাত্র বার ছিল। জোনাকি সিনেমার পাশে। চেনা জানা মানুষ-জনের মধ্যে ইতিহাসের স্যার নিত্যানন্দবাবু সেখানে বসে নিয়মিত মদ খেতেন। তাঁর অন্যান্য বদনামও কম ছিল না। তিনি কেয়ার করতেন না। মালের বোতল কেনার ঠেকটা ছিল জি টি রোডের ওপর সুশীল ফার্নিচারের গা ঘেঁষে। লোহার গ্রীলের ফাঁক দিয়ে পয়সা ও খাম্বার আদান প্রদান হত। ভিতরে একটা চল্লিশ ওয়াটের ঝুল পড়ে কালো হয়ে আসা হলুদ আলোর বাল্ব জ্বলত। ধান ভানতে শিবের গীত... মোদ্দা কথা হল আমাদের ছোটোবেলায় বুক ফুলিয়ে মাল খাওয়ার তেমন চল ছিল না।
এখনকার কথা অবশ্য আলাদা। এখন আমরা বিয়ে থা করে ভদ্রলোক। বিলিতি ছাড়া খাই না। ছেলে পুলে নিয়ে ভরভর্তি সংসার। দল বেঁধে মাল খেলে কেউ কিছু বলবে না। সাত ঘাটের জল খেয়ে আপাতত আমার কর্মস্থান দিল্লী। আর সবাইও ছড়িয়ে ছিটিয়ে। বললেই তো আর কাজকর্ম ছেড়ে হুট করে উড়ে আসা যায় না। কেউই পারে না। আসি যখন, তখনও হাজারটা কাজ থাকে। ব্যাঙ্কের ঝামেলা মেটানো, মাকে কলকাতায় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া, ব্যস্ততার শেষ থাকে না। বসলেই হয় অথচ সময় সুযোগ করে সবাই মিলে বসা হয়ে ওঠে না। মনে হচ্ছে বেশ কয়েক যুগ কেটে গেল আজকের জমায়েতটার আয়োজন করে উঠতে উঠতে।
আজকাল আমাদের মাল খাবার রীতিনীতিও অনেক বদলে গেছে। জল, সোডা বা জল-সোডা দুটোই না মিশিয়ে আমরা মাল ছুঁই না। আগের মত নিট খেলে ডিহাইড্রেশান হয়ে যায়। পরের দিন সকালে ঘুম ভাঙলে যন্ত্রণায় মাথা ছিঁড়ে যায়। পানের সঙ্গে যথেষ্ট প্রোটিন অনুপানের বন্দোবস্ত থাকে। বাদাম চানাচুর দিয়ে মাল খাবার বয়স ও রুচি আর নেই। পার্টির কথা শুনে পিউ মুখ বেঁকালেও কাবাব-সাবাব আনিয়ে রেখেছে। নিজেও কীসব ভাজাভুজি করে দিয়েছে, সালাড কেটে দিয়েছে। বৌ-বাচ্চারা ঘরের ভেতর। আমরা খোলা বারান্দায় বেতের চেয়ার পেতে বসেছি। মাল খাওয়া মানেই তো আর মাতাল হওয়া নয় রে বাবা। সময় নিয়ে ধীরে ধীরে মাল খেতে হয়, যেন এই রাত তোমার আমার... কখনও ফুরোবে না। আটাত্তর সালে যেমন তিন দিন লাগাতার বৃষ্টি হয়েছিল, যেমন করে পুকুরের জল উঠে এসেছিল মাঠ ছাপিয়ে সিঁড়িতে, সিঁড়ির থেকে বারান্দায়, তেমন করে রুজু রুজু নেশা হচ্ছে। মলয় খালি গ্লাস নিয়ে বসে আছে। ব্যাটা হোড়ের মত মাল খায়।
‘কার মুখোস খুলবি?’
‘সব শালা শয়তান। একজন তোর সামনেই চোরের মত মুখ করে বসে আছে, দেখছিস না!’ মলয় ঝুঁকে পড়ে সেন্টার টেবিল ডিঙিয়ে তর্জনী দিয়ে কুণালের বুকে খোঁচা দিল। আচমকা খোঁচা খেয়ে কুণাল পিছিয়ে গেল। মলয়ের দিকে খর চোখে তাকাল। মলয় বলল, ‘চিনে রাখ্‌। এক নম্বরের বিশ্বাসঘাতক! হাসতে হাসতে পিঠে ছুরি মারতে পারে। আমি শালা আহাম্মকের মত দুবছর ধরে চুমকির পিছন পিছন ঘুরলাম। আর এই মীরজাফরটা দড়াম করে চুমকিকে বিয়ে করে নিল।’
গল্পটা আমাদের সবাইকার জানা। বহুবার শোনা। তাও দেখা হলেই প্রত্যেক বার মলয় মনে করিয়ে দেয়।
‘তোর তাতে কী ছেঁড়া গিয়েছিল? তুইও তো বছর ঘুরতে না ঘুরতে মালিনীর আঁচল ধরে ঝুলে পড়লি!’ কুণাল খচছে। টুথপিকে একসঙ্গে দুটো কাবাব গেঁথে মুখে পুরল। চিবোতে চিবোতেই হাতের গেলাসে বড় করে একটা চুমুক দিল।
মলয় কুণালকে ছেড়ে বোধিসত্বকে নিয়ে পড়লো, ‘এই বোধি আতা-কেলানের মত বসে আছিস কেন? সন্যাস নিলি নাকি? গেলাস শেষ কর। বাদল বলছে সবার শেষ না হলে পরের রাউন্ড চালু করবে না।’
নেশা চড়তে শুরু করলে বোধি গুম হয়ে বসে থাকে। কারো সঙ্গে বিশেষ কথা-টথা বলে না। মলয় ছাড়বে না, ‘টেস্ট রিপোর্টগুলো নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলি?’
বোধি জবাব দিল না। সাত বছর বিয়ে হয়ে গেল, বোধিদের বাচ্চা হচ্ছে না। বোধির মা ওদের সঙ্গেই থাকেন। পুরোন ধ্যান ধারণার মানুষ, এই নিয়ে মাঝে মাঝেই অশান্তি করেন। বোধির বৌ শান্তা প্রবাসী বাঙালি। শান্তার বাবার ট্রান্সফারেবল জব ছিল। আগে ওরা পাটনায় থাকত। শান্তা ভালো মেয়ে। শাশুড়ির সঙ্গে মানিয়ে গুছিয়ে থাকতে চেষ্টা করে। কিন্তু যা হয়। সহ্যের সীমান্তেই অবসাদ ওঁত পেতে বসে থাকে। শিকার খোঁজে। এবার দেখলাম শান্তার চোখের নিচে কালি পড়েছে। বোধি হঠাৎ বলল, ‘ভাবছি একটা বাচ্চা এডপ্ট করব।’
সবাই চমকে তাকাল বোধির দিকে। জিজ্ঞেস করলাম, ‘শান্তা নিতে রাজি হয়েছে? তোর মা...?’
বোধি আমার কথায় গা করল না। বলল, ‘তোদের জানাশুনো কোনো এডপশান সেন্টার আছে? কেউ খোঁজ দিতে পারিস?’
মলয় বোধির হাতের ওপর হাত রাখল, ‘আরও কিছুদিন চেষ্টা করলি না কেন? আজকাল তো আইভিএফ টাইভিএফ অনেক রকম হয়েছে...।’
‘ডাক্তাররা বলছে শান্তার সমস্যা আছে, জন্ম থেকেই... বাচ্চা নিতে পারবে না।’
সবার গ্লাস মোটামুটি খালি। আমি একটা একটা করে গ্লাস উঠিয়ে মদ ঢালছিলাম। কানা বেয়ে গড়িয়ে নেমে অবিশ্বাসী তরল গ্লাসের নিচে ঘূর্ণি তুলছিল। আচমকা হাত নড়ে টেবিলের ওপর খানিকটা চলকে পড়ল। আজকাল অল্পতেই নেশা হয়ে যায়। নার্ভ বশে থাকে না।
ভিতর থেকে গলা তুলে পিউ বলল, ‘তোমাদের হলে বোলো, খাবার গরম করব।’
মলয় উঠে গেল। বারান্দার পাঁচিলে হেলান দিয়ে সিগারেট ধরাল। আবার কী ছক করছে কে জানে? আমি ওর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম, ‘কী রে উঠে এলি কেন? কী হয়েছে?’
‘বাদল, আজ মায়ের বায়োপ্সি রিপোর্টটা পেলাম... থার্ড স্টেজ...।’ মলয় বাইরে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে আছে।
‘কত বয়স হল মাসীমার?’
‘চুয়াত্তর... অপরেশন রুল্‌ড আউট... চলে যাবার জন্যে অপেক্ষা করা ছাড়া কিছু করার নেই।’ মলয় ফুঁপিয়ে উঠল। আমি ওর কাঁধে হাত রাখলাম। পিছন থেকে গৌতম ডাকল, ‘তোরা তখন থেকে ওখানে দাঁড়িয়ে কী প্রেমালাপ করছিস?’
‘আসছি... দাঁড়া...।’
‘পিউকে একটু বরফ দিতে বল না। সব গলে গেছে।’
আমি নিজেই আইস বক্সটা নিয়ে ভিতরে গেলাম। বেটার হাফরা লিভিং রুমের দখল নিয়েছে। বাচ্চাগুলো চিল্ড্রেন্স বেডরুমে। এই ফ্ল্যাটটা কিনেছি বছর দুয়েক আগে। শহরটার স্কাই-লাইন বদলে যাচ্ছে আস্তে আস্তে কিন্তু নিশ্চিত ভাবে। পুরোন শরীকী বাড়ি ভেঙে ফ্ল্যাট উঠছে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রোমোটাররা অঞ্চলের নতুন ঈশ্বর। তবে তারা ব্যবসা বোঝে। কাস্টমারদের সঙ্গে অযথা ঝামেলায় যায় না। পিউ রেফ্রিজারেটর থেকে বরফ আনতে গেল। চুমকি বলল, ‘বাদলদা আপনারা তাড়াতাড়ি শেষ করুন। বেশি রাত হলে রিক্সা পাব না।’
বললাম, ‘এত তাড়া কীসের? দাঁড়াও এই তো সবে আসর জমেছে। এখনি কী? তোমরাও এক পাত্তর করে নেবে নাকি?’
সব বৌ-রা হই হই করে প্রতিবাদ জানাল। পিউ ফিরে এসেছিল, বলল, ‘কী যে বল... ছেলে মেয়ের সামনে... তোমাদের মত নির্লজ্জ নাকি?’
বললাম, ‘একটু নির্লজ্জই না’হয় হলে সখি, ক্ষতি কী?’
পিউ পাত্তা দিল না, বলল, ‘ খাবারের যোগাড় করব?’
‘বাচ্চাগুলোকে বসিয়ে দাও। আমাদের আর একটু সময় লাগবে।’
সবাই উঠল, নিজের নিজের বাচ্চাকে খাবার টেবিলে টেনে আনার জন্য। শান্তা বসে রইল সোফার এক কোণে। অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে।
বারান্দায় বেরিয়ে এলাম। মলয় এবার গৌতমকে ধরেছে, ‘নন্দিতাকে বলেছিস?’
নন্দিতা গৌতমের বৌ। গৌতম সাবধানে জিজ্ঞেস করল, ‘কী বলব?’
‘কী বলব মানে... বলেছিস যে তোর যৌন রোগ হয়েছে?’
গৌতম বিষম খেল, ‘যৌন রোগ...?’
মলয় দাবড়ানি দিল, ‘যৌন রোগ বোঝ না? এসটিডি বোঝ? সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ... বলেছিস? এসব জিনিষ লুকিয়ে রাখা ঠিক নয়?’
কুণাল মাঝখানে রাস্তা কাটল, ‘তুই জানলি কী করে ওর এসটিডি হয়েছে?’
‘আরে শান্তিনিকেতনে গিয়ে কেবল উল্টো পাল্টা মেয়েদের পিছনে ছোঁকছোঁক... এই মাকড়ার এসটিডি হবে না তো কার হবে?’
গতবার বসন্তোৎসবে ওরা শান্তিনিকেতনে গিয়েছিল। সিঙ্গল পার্টি করতে। আমার যাওয়া হয়ে ওঠেনি। আমি কথা ঘোরাবার চেষ্টা করলাম, ‘গৌতম এখনও নৌকা বা’স?’
হাটখোলা থেকে নৌকা বেয়ে কতবার ব্যান্ডেল চার্চ নিয়ে গেছে আমাদের। গৌতম বলল, ‘না রে, সময় কোথায়? ট্রেন বাসে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আর এনার্জিও থাকে না। তাছাড়া নৌকাটা ছিল বশির চাচার। চাচা মরে যাবার পর ওদের ফ্যামিলিটা নিপাত্তা হয়ে গেল। চাচার বড় ছেলেটাকে ট্রেনে দেখেছিলাম একবার, ধূপকাঠি বেচতে। ভিড় ঠেলে গিয়ে কথা বলার আগেই পরের ষ্টেশনে নেমে গেল।’
মলয় আবার কী বলতে যাচ্ছিল। বারান্দার দরজা ঠেলে চুমকি বেরিয়ে এল। চুমকি মুখ খোলার আগেই মলয় যুদ্ধকালীন তৎপরতা নিয়ে উঠে দাঁড়াল, ‘কাকে চাই, আমাকে?’
চুমকি বলল, ‘না মলয়দা, তোমায় নয়।’ কুণালকে ডাকল, ‘শুনছ, ছেলেটা কিচ্ছু খাচ্ছে না। এসে দেখ না একবার।’
চুমকিটা এক নম্বরের ঢ্যাঁড়শ। কুণাল ওকে হাতের পাতায় বসিয়ে রাখে প্রায়। ছেলেকে যত না চুমকি সামলায় তার থেকে বেশি কুণাল। কুণাল উঠে যেতে গৌতম মলয়কে বলল, ‘খুব বেঁচে গেছিস। ওই নেকিকে বিয়ে করলে লাইফ বরবাদ হয়ে যেত।’
মলয় ছদ্ম শোকে বুক চাপড়ে বলল, ‘ওরে, ওই নেকির জন্যে আমি হাজার বার মরে যেতেও রাজি।’
বাচ্চাদের খাওয়া দাওয়া হয়ে যাবার পর বৌয়েরা এসে যে যার কর্তার হাত থেকে মদের গেলাস ছিনিয়ে নিল। আমরা এই গুলাব গ্যাঙের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে আত্মসমর্পন করে খাবার টেবিলে গিয়ে বসলাম। পিউ সকাল থেকে কোমরে আঁচল জড়িয়ে নিজে হাতে রেঁধেছে। সবাই খেয়ে আহা উহু করছে। পিউ হাসিমুখে প্রশংসা কুড়োচ্ছে। দেখতে বেশ লাগছে ওকে। চোখে মোটা করে কাজল এঁকেছে। গেস্ট আসবে বলে গালে হালকা রূপটান।
যাবার সময় হল সবার। অনেকদিন পর সবাই একসঙ্গে, সন্ধেটা ভালো কাটল। পিউ বলল, ‘একটু এগিয়ে দিয়ে এস সবাইকে। আমি এদিকটা একটু গুছিয়ে নিই।’
সবাই বেরোচ্ছে। ছেলেরা সিগারেটে সুখটান দিতে এগিয়ে গেছে। বৌয়েরা বাচ্চাদের সামলে পিছন পিছন। আমাদের ফ্ল্যাটটা ফার্স্ট ফ্লোরে। শান্তা সবার শেষে টলোমলো পায়ে সিঁড়ি ভাঙছিল। ওকে দেখে মনে হল খুব ক্লান্ত। ঘুমের মধ্যে হাঁটছে। জানে না কোথায় যাবে।
ভয় হল পড়ে যাবে। হাত বাড়াতে গিয়েও টেনে নিলাম। মনে পড়ে গেল পাটনায় গলির গলি, তস্য গলির মধ্যে পুরনো দোতলা বাড়ির ম্যাজেনাইন ফ্লোরে একটা আধা লিগ্যাল এবরশান ক্লিনিক। সিঁড়ি দিয়ে এমনি টলোমলো পায়ে নামছিল শান্তা। আমার পোস্টিং তখন পাটনায়। সামান্য স্যালারিতে কোনোমতে একাবোকা ব্যাচেলর জীবন গুজরান করছি। তখনই ওর সঙ্গে আলাপ। যন্ত্রণায় শান্তার ঠোঁট নীল হয়ে ছিল। হোক না অর্ধেক, শরীরের মধ্যে থেকে অন্য একটা শরীর বের করে দেওয়ার ধকল কম নয়। সেদিন সিঁড়ি ভেঙে নামা পর্যন্ত শান্তা আমার হাত ধরে ছিল। নিচে এসেই হাত ছাড়িয়ে নিয়েছিল, এক রকম জোর করেই। তারপর আর কোনদিন ধরেনি। আমার হাজার কাকুতি, মিনতি, উপরোধেও না।
সবাইকে অটো, টোটো, রিক্সায় রওনা করিয়ে দিয়ে ফিরে এলাম। পিউ খুব কাজের মেয়ে। ঘরের কাজ পরিপাটি করে সেরে চুল বাঁধছে। এরপর নিয়ম করে মুখে নাইট ক্রীম, আলগা নাইটি... সাত বছরের মেয়েটা বিছানায় ঘুমে কাদা। যা দস্যিপনা করেছে সারা সন্ধে! পাশে শুয়ে কপালের উড়ো চুল সরিয়ে আলতো করে চুমো দিলাম। কথায় বলে ঘুমন্ত সন্তানকে আদর করতে নেই, তবু... । কেমন হত যদি সেই শিশুটির জন্ম হত? মেয়ের মুখের দিকে এক দৃষ্টে চেয়ে রইলাম, যদি সেই অজাত চেহারার একটা আন্দাজ পাওয়া যায়।
পিউ বলল, ‘কী করছ, ঘুম ভেঙে যাবে যে...।’

ফেসবুক মন্তব্য