কবি বিষয়ক

সায়ন্তনী বসু চৌধুরী



হেঁশেলে চাল বাড়ন্ত, তবু
গোটা বর্ষা জুড়ে তুমি প্রেমিক আর পরীদের গল্প লিখেছিলে।
রতিশ্রান্তা রমণী তোমার ভাতের থালায় বেড়ে দিয়েছিলো
স্মৃতিভ্রষ্ট কবিতা কথা।
তোমার শিয়রে দাঁড়িয়ে তখন প্রহরী কর্কট,
তুমি মুখে তোলোনি অন্ন জল
আলুথালু ভেসে গেছো ফুটন্ত তামাক আর আর্সেনিকের স্রোতে .....


হাসপাতালের বেডে শুয়ে তুমি পাহাড় দেখতে চেয়েছিলে।
আমি তখন আগের চেয়ে অনেক বেশী সৎ।
প্রতিটা স্নানের দৃশ্যও পরিপাটি গুছিয়ে রেখেছি
আরাধ্যের মনোরঞ্জন করবো বলে।
ধুলিকণার মত মিহি যে একুশটা বসন্তের ছবি
গত শীতে আমি গচ্ছিত রেখেছিলাম;
জলের দরে তাদের বিলিয়ে
নিরুপায় তুমি হোটেলের বিল মিটিয়েছো।
আর পোয়াতি কবিতারা ভেসে গেছে নীলে.....
যেনো একরাশ অবহেলা....


প্রেয়সীর বুকভরা কার্তুজ
বারবার নিশানা হারিয়ে যখন স্তিমিত,
তখনই ওরা সম্পর্কের প্রশ্ন তুলেছিলো।
তুমি তো আঘাত করোনি,
কেবল হননজনিত ক্ষতে
লিখে গেছো সহোদরের নাম....
আর ছন্দ যতি মুছে গিয়ে
কবিতার অক্ষরই দিয়েছে কবির পরিচয়।

ফেসবুক মন্তব্য