'মেঘ বৃষ্টির কোলাজ' : একটি অভিমানী মুখ

রঞ্জন রায়

( কবি মঞ্জুশ্রী রায় এবং তার কাব্যগ্রন্থ নিয়ে একটি আলোচনা)

মেঘ ও রৌদ্রের সহাবস্থান এক আকাশে সম্ভব নয়। তবু এই খেলার কোনো শেষ নেই। নিরন্তর চলতেই থাকে। এক সময় বিচ্ছেদ অনিবার্য হয়ে ওঠে। শুধু এক পরম আকুলতা তাকে ঘিরে থাকে। অন্তরে ধ্বনিত হয় সেই চিরন্তন সুর --
"এসো ,এসো ফিরে এসো --নাথ হে ফিরে এসো।
আমার ক্ষুধিত তৃষিত তাপিত চিত,
বঁধু হে, ফিরে এসো।"
( মেঘ ও রৌদ্র : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর )
সংকীর্ণ গলিপথ ধরে যে জীবন বয়ে যায় আপন খেয়ালে, রাজপথের নিয়ন আলো তার সন্ধান পায় না। নাগরিক জীবনের কৃত্রিমতা থেকে অনেকদূরে উত্তরবঙ্গের অরণ্য বেষ্টিত সরল জীবনের সঙ্গে একাত্ম না হলে এমন অনেক ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া যাবে না। এমনই এক হারানো ইতিহাসের জীর্ণ পাতার আড়ালে লুকানো মুখ কবি মঞ্জুশ্রী রায়। 1965 সালে কোচবিহারের এক গন্ড গ্রামে তাঁর জন্ম। দীর্ঘকাল আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হয়ে চলৎশক্তি থমকে গেলেও তাঁর সৃজনীশক্তি কিন্তু ক্ষুরধার ছিল বরাবর। সেই সৃজনী শক্তির বিশিষ্ট ফসল তাঁর একমাত্র কাব্যগ্রন্হ 'মেঘ বৃষ্টির কোলাজ' ( 2012 )। চতুরঙ্গ থেকে প্রকাশিত এই কাব্যের আঠাশটি কবিতার মধ্য দিয়ে আমরা একটি অভিমানী মুখকে প্রত্যক্ষ করি। কঠোর অধ্যবসায় আর লড়াকু মনোভাব কবিকে কেবল ব্যক্তিগত জীবনে নয়, তাঁর সীমিত পরিসরের সৃষ্টিধারাতেও তাঁকে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়।
তরাইয়ের মুক্ত প্রকৃতির মাঝে নিজের খেয়ালে প্রায় অচেনা গাছের মতই মঞ্জুশ্রীর বেড়ে ওঠা। তাঁর প্রথম প্রেম বাড়ীর বারান্দা থেকে দেখা একফালি গাঢ় নীল হিমালয়। এই হিমালয় কবিকে তাঁর জীবনের চড়াই - উৎরাইয়ে জাত্যাভিমান প্রতিষ্ঠার জন্যে লড়াইতে প্রেরণা যুগিয়েছিল। কাব্যের প্রথম কবিতা 'একটি কাঁঠালি চাঁপার ইতিহাস'-এ কবির সেই লড়াইয়ের ব্যঞ্জনা রয়েছে একটি অভিমানী মেয়ের আত্মকথনে। কোনো একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক একদিন কোচবিহার ভিক্টরিয়া কলেজের বন্যাত্রান শিবিরে এসেছিলেন। কবি লিখেছেন ---
"বানভাসি গৃহহীন আশ্রিতা আমি সামান্য মেয়ে
আমার মায়ের সঙ্গে
তুমি ছিলে স্বেচ্ছাসেবক :
তোমায় একটি কাঁঠালি চাঁপা দিয়ে বলেছিলাম ,
'এটা মোর গাছের চম্পা
দ্যাখ, কি সোন্দর গন্ধ!'-- তুমি নিয়েছিলে
আমি সেই মেয়ে !"
( পৃ.9)
বহুবছর পরে লেখক তাঁর ভ্রমণকাহিনীতে সেই স্মৃতিচারণের কোলাজ এঁকেছিলেন, যা দেখে আবেগে আপ্লুত হয়েছিল মেয়েটি। কিন্তু সেই আবেগের বুকে আঘাত নেমে আসে সহসা যখন মেয়েটিকে লেখক তাঁর জাত্যাভিমানের গর্বে 'বাহে মেয়ে ' বলে উল্লেখ করেন। তারপর থেকে অভিমানী মেয়েটি সেই বিখ্যাত লেখকের কোনো লেখাই আর পড়ে নি। শুধু তাই নয়, সে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, এই বঞ্চনা থেকেই, এই অবজ্ঞা থেকেই বঞ্চিতরা অস্ত্র ধরে। কিন্তু মেয়েটি সেই ধ্বংসের পথে না গিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এবং লেখকের জন্যে পুনরায় নিয়ে এসেছে কাঁঠালি চাঁপার ফুল ! কিন্তু একটি শর্তে সে সেই ফুল দিতে পারে ----
"এ ফুল তবেই আমি তোমায় দেব
যদি নেমে আসো আমার উচ্চতায়
'বাহে' মেয়ে নয়, এক মানুষের উচ্চতায়।"
মঞ্জুশ্রীর কবিতার বিষয় মূলত প্রেম। সেই প্রেম প্রকাশে তিনি কখনো অকপট, কখনো অভিমানী, কখনো নস্টালজিক, কখনো বা তাঁর 'বাউলানি মন'। মগজে পাটিগণিত ঠাসা প্রেমিকের উদ্দেশ্যে কবি অনায়াসেই বলতে পারেন ---
"উলঙ্গ এক হৃৎপিণ্ড
শেকড় বাকড় যন্ত্রণার
উপড়ে তোমার সামনে ধরি নির্লজ্জ
লজ্জা মাপতেও জানি না।"
( উলঙ্গ হৃৎপিণ্ড ,পৃ .18)
কিম্বা প্রেমিকের প্রতি অকপট উচ্চারণে বলেন ---
"আয় সোনা আয় সুখ
হিসেবের সাদা খাতা ফেলে আয়
তুই আমি একেলায় নিরালায়
ধারাপাত সারারাত আয় সোনা আয় সুখ।"
( আয় সোনা আয় সুখ ,পৃ .21)
আবার এই আকুলতাটুকু সরিয়ে কবি উদাস হয়েও যান। প্রেমিককে অনন্ত শীতঘুমে পাঠান অনায়াসেই। 'ও বরং ঘুমোক অনন্ত শীতঘুম'! অন্তর মহলে বন্দিনী থেকে কবি হয়ে ওঠেন নস্টালজিক। স্মৃতির পাখিরা ডানা ঝাপটালে ঘুমের শিয়রে বন্যা আছড়ে পড়ে। কবি তখন অনুভব করেন --
"ছোট্ট দুচোখে এত কী বৃষ্টি
কালে অকালে মেঘেরা সৃষ্টি।
এত এত জল রাখি কোথা বল
ধরে নারে হাত ভরা করতল।"
( এত এত জল রাখি কোথা বল , পৃ .31)
এসব ভাবতে ভাবতে কবি বার্ধক্য থেকে প্রৌঢ়ত্বে,আবার প্রৌঢ়ত্ব থেকে যৌবনের দিনগুলো পেরিয়ে হারানো শৈশবকে ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করেন। ফেলে আসা মরুভূমির বুকে ' লুনি ' নদীর মত হৃদয়ের ক্যানভাসে 'কৈশোর এখনো কী প্রবল বেঁচে সবুজ স্বপ্নিল।' বয়ে যাওয়া সময়ের নিঃশব্দ নদীকে কবি ছুঁয়ে দেখতে পারেন নি ---
"মাঝের কালটি বয়ে গিয়েছে
নিঃশব্দ এক নদীর মতো --
সে নদীকে খুব কাছ থেকে
বিষন্ন বিকেলের মতো বয়ে যেতে দেখেছি
ছুঁয়ে দেখা হয়নি"
( এখনো কৈশোর ,পৃ . 12)
প্রেমে শরীর নাকি শুধু হৃদয় -- কোনটিকে প্রাধান্য দেবেন কবিরা এই দ্বন্দ্ব আবহমানকালের। শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে রাধাকৃষ্ণের প্রেমে কি কেবলই শারীরিক দাবদাহ মুখ্য ছিল? রাধার যে বিরহ তা কি শুধুই জৈবিক বিরহ? হৃদয় কি সেখানে ছিল না? নিশ্চয়ই ছিল। বৈষ্ণব কবি তাই রাধার হৃদয় উন্মোচন করে লিখেছিলেন -- " চিরদিনে মাধব মন্দিরে মোর।" কিম্বা লক্ষ লক্ষ যুগ ধরেও 'হিয় জুড়ন না গেল।' নিছক শরীর সর্বস্বতা এমন প্রেমের ভাবমুগ্ধতার জন্ম দিতে পারে না। এই প্রেমিক কবিদের উত্তরসূরি রবীন্দ্রনাথ তো স্পষ্ট উচ্চারণে বলেছেন, "ভালোবাসো প্রেমে হও বলি, চেয়ো না তাহারে / আকাঙ্খার ধন নহে আত্মা মানবের।" কিম্বা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবি সত্তা আক্ষেপ করে বলেছে - "তবু কথা রাখে নি বরুণা, এখন তার বুকে শুধুই মাংসের গন্ধ
এখনো সে যে কোনো নারী!" এই শারীরিক দাবদাহ অনায়াসেই অতিক্রম করেছেন মঞ্জুশ্রী। তিনি প্রশ্ন করেছেন, ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়ালেই কি চুম্বন হয়, যদি তাতে প্রাণ না থাকে? কিম্বা স্তনে হাত দিলেই কি স্পর্শসুখ লাভ হয়, যদি তাতে আত্মিক যোগ না থাকে? সেজন্যে কবি শরীরের 'নীরব পাঁচালি' অতিক্রম করে প্রেমিকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন --
"হাতের ওপর হাত রেখেছি
প্রাণ দিয়ে প্রাণ স্পর্শ করো
শরীর আমার শব হয়েছে
শব ডিঙিয়ে আমায় ধরো"
( স্পর্শ , পৃ .32)
কামদগ্ধ পুরুষ চিরকাল নারীকে ভোগ করেছে। নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে 'ধর্ষণ' করেছে : সেই ধারা আজও অব্যাহত। কবির অনুভবে তাই দেখি, এই ধর্ষণ শুধু শারীরিক নয়, আবেগও ধর্ষিত হয়। নারীকে সংখ্যার গন্ডিতে আবদ্ধ রেখে তাকে লুন্ঠন করে উল্লসিত হয় কামুকপুরুষ। নারীর সেই যন্ত্রনাময় অন্তরের রক্তাক্ত রূপ আমরা দেখি মঞ্জুশ্রীর কবিতায় --
"আহা কী উল্লাস!
গুনেছো কখনো বিছানার শেষে
পিষ্ট হয়েছে কত আবেগের লাশ!"
( ধর্ষক , পৃ .33 )
শুধু এই অনুভবের গণ্ডিতেই থেমে থাকে নি কবির ইচ্ছেরা, তিনি বারবার নস্টালজিয়ার পথে এক চিরন্তন প্রেমের কথা উচ্চারণ করেছেন। প্রেমিক যেদিন বলেছিল, "তোমায় ছাড়া একটি দিনও
দেখতে চাই না সূর্যোদয়!" সেকথা শুনে "আভূমি কম্পনে উঠেছিল অমৃতকলস!" তারপর যথারীতি "কেউ কথা রাখে নি"। অনেক সূর্যোদয় হয়েছে, তবু প্রেমিক সেই সূর্যোদয় দেখেছে প্রেমিকার কাছ থেকে বহুদূরে অবস্থান করেই। তবু কবি আপন বিশ্বাসে অটল থেকেছেন ----
"আসুক ভূমিকম্প
উড়ুক ঝরাপাতা
ভাঙুক পাড়
ছুঁয়ে নেব জীবন্ত জীবন
প্রেম অনন্ত
অনন্তে দেব সিক্ত ছোঁয়া।"
( ভূমিকম্প , পৃ . 15 )
কিম্বা একক হয়ে যাওয়া জীবনের পড়ন্ত বেলায় মন খারাপ করে থাকা বন্ধুটির প্রতি কবি আহ্বান জানিয়েছেন --
"একলা হলে আমার মতো
সাঁঝবেলার ঐ শেষ কটাদিন
বৃদ্ধাবাসে আমার পাশের
ঘরখানিতে থেকো।"
( বিকেল বেলার বন্ধু , পৃ .25 )
এই বিশ্বাসের মধ্যেই একজন যথার্থ প্রেমিক সত্তার বেঁচেবর্তে থাকা।
সংবেদনশীল কবিসত্তা কেবল আপন চাওয়া-পাওয়া, না পাওয়ার ব্যক্তিগত বেদনার কুণ্ডলীতেই আবদ্ধ থাকতে পারে না। সমকাল তাঁর দুয়ারে কড়া নাড়ে। জীবনানন্দ দাশ তাই স্পষ্ট উচ্চারণে জানিয়েছিলেন -- "কবির পক্ষে সমাজকে বোঝা দরকার। কবিতার অস্থির ভিতরে থাকবে ইতিহাসচেতনা মর্মে থাকবে পরিচ্ছন্ন কাল জ্ঞান।" (কবিতার কথা )
এই কালের 'অন্ধকার' মঞ্জুশ্রীর কবিসত্তাকেও গ্রাস করেছে। তিনি তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে লিখছেন --
"নির্ঘুম মধ্যরাতে দমবন্ধ লাগে, যেন আলো নেই, হাওয়া নেই, ক্রমশ ভয়ংকর অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পৃথিবীটা। তবু দৈনন্দিন বেঁচে থাকা। যেখানে প্রতিটি সকাল খবরের কাগজে বয়ে নিয়ে আসে আরো অন্ধকার। গাঢ় অন্ধকার।"
( 19 শে মার্চ ,2015)
ব্যক্তি হৃদয়ের এই 'অন্ধকার' থেকেই উঠে আসে মঞ্জুশ্রীর কবিতার শব্দেরা। কৃত্রিম নাগরিক জীবন থেকে অনেক দূরে তিনি তাঁর প্রিয় মানুষটিকে আহ্বান জানান ---
"নাগরিক সুখ থেকে দূরে অরণ্যে।
দাও নিকো সাড়া। নগরের পাড়়া ---
হ্যালোজেন রাত বড়ো মায়াময়
অরণ্যে চন্দ্রমার অমাবস্যাও হয়।"
( মধ্যরাতের ভয় ,পৃ .34 )
চারপাশের জন-অরণ্যের মাঝেও কবি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। নিঃসঙ্গ বুক থেকে ঠেলে ওঠে অভিমান! যে প্রেমিক একদিন বলেছিল, "বৃষ্টি দাও" --- সে চলে গেছে বহুদূরে! সেখানে হয়তো আর কবি যেতে পারবেন না,কেননা সেখানে কেবল কল্পনাকে পাঠানো যায়, সশরীরে উপনীত হবার কোনো পথ নেই। তাই অভিমানী কবি বলেন ---
"পাগলামো যদি
কেন গেয়েছিলে বৃষ্টি ভাঙানো গান?
বুকের পাঁজরে জমেছিল মেঘ
বেশ তো ছিল
আগুন পরশ
কেন ছুঁয়েছিলে সমাধি শয়ান?"
( টুকরো কথা ,পৃ.38 )
এইসব অভিমান ধুয়ে যায় শৈশবের দিনগুলোর কথা,কিশোর বয়সের সঙ্গীটির কথা স্মরণ করে। তাই কবি হারানো প্রেমিককে বলেছেন "কিশোর হবি বল?" এই চাওয়া পাওয়া শেষপর্যন্ত শান্ত হয়ে আসে। কবি অনায়াসেই ঘোষণা করেন ---
"আলো তবু আলোরই নাম যেটুকু পাই ভালো
সেই আলোতেই ধুয়ে নেব যত আমার কালো!"
( অপরাহ্নের আলো ,পৃ.13 )
কবি সব অভিমান, সব প্রতিশ্রুতির হিসেব নিকেশ, সব প্রশ্ন সব মন খারাপ সরিয়ে একটা ভাব সম্মিলনের উষ্ণতা অনুভব করেন বুকের ভেতরে। আর সেই বীতরাগের প্রকাশ ঘটে কাব্যের শেষ কবিতায় ---
"ঝড় পোহালাম মেঘ তাকালাম মুক্ত বেঁচে থাকা
আছি বন্ধু, যখন খুশি বন্ধু বলে ডেকো।"
( আছি বন্ধু ,পৃ.39)
জীবনটা একটা যুদ্ধক্ষেত্র। সেই যুদ্ধে, সে ঘরেই হোক অথবা বাইরে, আমাদের পথরেখা নিয়ত এগিয়ে যায়। কবিও সেই যুদ্ধের একজন সৈনিক! সেই যুদ্ধকালীন সময়েও প্রেমিক কবি তাঁর হৃদয় নিংড়ে উচ্চারণ করেন --
"দুষ্টু ছেলেটা ,
মাঝে মাঝে তো বলতে পারিস
ও মেয়ে, মরার সময়ও তুই যুদ্ধ ভুলিস না!" (যুদ্ধ ,পৃ:16 )
সেইসঙ্গে তিনি দেখেন, ওপারের হ্রদের জল এখন অসম্ভব শান্ত, অথচ তার বুকেও কান পাতলে শোনা যাবে দীর্ঘ একটা যুদ্ধের গল্প আর যুদ্ধের আড়ালে লম্বা একটা স্বপ্ন। যুদ্ধের গল্পটা শেষ হলে 'ছেলেটা' মনের সুখে 'যত খুশি ঢিল ছুঁড়ুক' বলে কবি অভিমত প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি ন্যাংটো শিশুটির জন্যে একটা পুকুর গড়ে দিতে চেয়েছেন কিম্বা কিশোরী বালিকাটির হাতে প্রথম জ্ঞানের আলোর বর্তিকারূপ কিশলয় তুলে দিতে চেয়েছেন ---
"রাস্তার কলে যে ন্যাংটো শিশুটি
আজলা ভ'রে জল খায়
সমুদ্র না পারি --
চল ওর হাতে একটা পুকুর গড়ে দিই!"
( ধুলো আবির , পৃ.26)
এককথায় কবি শেষপর্যন্ত ভালবাসার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছেন ---
"বয়সের নেই কোন গাছ পাথর
যতই এগিয়ে চলি -- ভালবাসা নাছোড়।"
( টুকরো কথা ,পৃ.37)
প্রসঙ্গত কবি নাগরিক সমাজে বর্ষশেষের উৎসবে আলোর রোশনাইয়ে মেতে ওঠা যান্ত্রিক মানুষগুলোর সঙ্গে একই পংক্তিতে দাঁড়াতে চান নি, বরং সেই অন্ধকারে একটা মোমবাতি হতে চেয়েছেন! এও সেই ভালবাসার কাছেই আত্মসমর্পন। কবি তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছেন --
"পৃথিবীর সমস্ত অন্ধকার বুকে ধারণ করে আমার হঠাৎ জ্বলে উঠতে ইচ্ছে হয়েছিল, তাই তো আমি মোমবাতি হলাম। তোমরা যখন বছর শেষের উৎসবে আলোর রোশনাইয়ে মেতে উঠেছো তখনো আমি দেহ পোড়ানো আলোর শিখায় পৃথিবীর বিকট অন্ধকারকে একটি দিশা দেখাতে চেয়েছি! তাই বলে তোমরা আমায় মরণোত্তর বীরাঙ্গনা জাতীয় উপাধি দিতে যেও না বরং আমার নাম দিও মোমবাতি।"
এখানেই কবি মঞ্জুশ্রী নিজেকে স্বতন্ত্র হিসেবে চিনিয়ে দিয়েছেন।

ফেসবুক মন্তব্য