হে ধর্ম, হে বকরাক্ষস

উত্তম দত্ত


কবিদের জন্মের আগে
এই উন্মুখর অববাহিকায় আমি মহিষ চরাতে এসেছিলাম।
দেখেছিলাম: দুটি উজ্জ্বল সোনালি মাছ সমুদ্রের দিকে ভাসমান
দেখেছিলাম নীল পিঁপড়ের পাখনায় রামধনু-রঙের আকাশ
প্রথম প্রেমিকের মতো ঘন হলুদ বোলতার চোখ
আর শুকনো ঘাসের বিছানায় মানুষের বিলীন সঙ্গম।

ছোটো ও মাঝারি মাপের ঈশ্বর-সমূহের জন্মের আগে
এই আদিগন্ত মালভূমি জুড়ে আমি জ্বালিয়েছিলাম আগুন
ঝলসে নিয়েছিলাম বাইসনের পাঁজর ও গোলাপি অণ্ডকোষ।
দু টুকরো মাংসের বিনিময়ে এক রমণ-যোগ্য নারী
আমাকে দেখিয়েছিল তার উর্বর আকাশ
আর জ্বলন্ত সূর্যের নিচে মেলে ধরেছিল বনজ গন্ধে ভরা গলন্ত গহ্বর।

কর্কশ পাথরে আমি বহন করে এনেছিলাম বরফ-রঙা জল
নরম মাটির জঙ্ঘায় ও নিচু পেটে আদিগন্ত কান পেতে
আমি প্রথম শুনেছিলাম ফসলের পদশব্দ।
ষণ্ড ও বরাহের রক্ত একত্রে পান করে
আমি প্রথম স্নান করেছিলাম উল্লসিত নদীর ভিতরে।

তখন কোথায় ছিলে তুমি? হে ধর্ম, হে বকরাক্ষস?
কোথায় ছিল তোমার এইসব সিঁদুর-রঙা মেঘ
এইসব ঘৃণা ও আহ্লাদের দিনরাত্রি?

ফেসবুক মন্তব্য