বান্ধবগড় বেড়ানোর গপ্প – এক টুকরো বা টুকরো No. এক

তনুশ্রী চক্রবর্তী



প্রলম্বিত প্রোলগ…


প্রথমেই বলি – আমার একান্ত অনুভুতি – কোন টাইগার রিসার্ভে যাবার কথা ঠিক করলে তার সাথে সাথে মনকে তৈরী করে নেওয়া উচিত হতাশ হবার জন্য। অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি - কানহা, করবেট, বান্ধবগড়!! ‘বাঘ দেখি বা না দেখি আমার কিস্যু এসে যায়না’ – এই মন্ত্রে নিজেকে দীক্ষিত করলে একমাত্র তবেই বাঘের জঙ্গলকে পরিপূর্নভাবে উপভোগ করা সম্ভব, নচেৎ নয়! আটটা-ছটা অফিসের চাপে পর্যুদস্ত হয়ে আপনি ভাববেন - যাই, একটু স্ট্রেস রিলিফ করে আসি… আর বান্ধবগড় বা কানহা-করবেট-পেঞ্চ-এর টিকেট কেটে ফেলবেন, তাহলে আপনার কপালে অশেষ দুঃখ আছে! স্ট্রেস রিলিফের জন্য আপনি কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা অবধি (বা ভারতের বাইরেও যেকোন যায়গায়) যাবতীয় স্থাবর দ্রষ্টব্য দেখতে যেতে পারেন – মন্দির, গুহাচিত্র, শহর, ইত্যাদি যাবতীয় যা কিছু, যারা চলে ফিরে বেড়ায় না – যারা আপনাকে আক্ষরিক অর্থেই সকাল-সন্ধ্যে ছুটিয়ে মারবে না! কিন্তু বাঘ দেখার প্ল্যান কদাপি করবেন না! বাঘ দেখতে তাদেরই যাওয়া উচিত যারা বেদনা-বিলাসী, হতাশ হয়ে দিনের পর দিন ঘরে ফিরতে যাদের একটুও ব্লাড প্রেশার বেড়ে যায়না, অথবা যারা বাঘ দেখতে ভালবাসেন না, বাঘ দেখা বা না দেখায় যাদের কিছু এসে যায়না। [ভাবছেন ভুল বকছি? না, না – তেমন মানুষও আছে। আমাকে পওনদীপের জার্মান স্বামী স্বল্প আলাপেই বলেছিল, ‘উই আর হ্যাপি উইথ মাঙ্কিস!' যাক… পরের কথা আগে বলে লাভ নেই।]

প্রতাপ বাঘ দেখতে ভালবাসে। প্রতাপ বাঘ ভালবাসে – এক কথায়। যবে থেকে ‘আর মোটে ১৪১১টা বাঘ অবশিষ্ট আছে’ বলে পৃথিবীব্যাপি হাহাকার উঠেছে তবে থেকে ওর পাগলামিটা আরো বেড়ে গেছে। এদিকে উপরের প্যারাগ্রাফে বর্ণিত লেসন লার্নট অনুযায়ী আমার আবার বেটাইমে জঙ্গলে যাবার নাম শুনলেই প্রেশার বেড়ে যায়! বাঘ দেখতে আমি খুবই ভালবাসি (কে না বাসে, পওনদীপের বর ব্যাতিক্রম) কিন্তু বাঘহীন জঙ্গল আর কৃষ্ণহীন মথুরা একই ব্যাপার! বাঘ দেখতে জঙ্গলে যাওয়া উচিত গরমকালে – যখন জলটল শুকিয়ে যায়, গাছপালা শুকিয়ে জঙ্গলের ঘনত্ব হালকা হয়ে আসে – বাঘ জল খেতে ওয়াটার হোল আর শুকনো নালার আশেপাশে ঘুরঘুর করে। এদিকে গরমকালে আমার ছেলের পরীক্ষা থাকে, সেটা শেষ হতে হতে জঙ্গল বন্ধ হয়ে যায়। আর শীতকালে জঙ্গলে গেলেই (করবেটে আর কানহায়, দুবারই শীতে গেছিলাম) – শুনশান ফাঁকা ওয়াটার হোল বা শীর্ণ ঝর্না দেখিয়ে গাইড বলে ‘সামার মে ইধার তো মিলতাহি মিলতা হ্যায় – ৯৮% চান্স হ্যায় দেখনে কা’ – আমি কল্পচক্ষে সেই দৃশ্য দেখি আর দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলি। তাই গত কয়েকবছর শীতে প্রতাপ নাটকীয়ভাবে যতবারই ‘র‌নথ্যাম্ভোর’ বলেছে, আমিও ততধিক জোরে ‘না!’ বলেছি। তবে এবার সামারে ছেলের ছুটির সময় দারুনভাবে লাদাখ ঘুরে এসে মনটা খুশী খুশী ছিল, তাই ঈদের ছুটিতে ‘কোথাও একটা বেড়াতে গেলেই হল’ মুডে ছিলাম। প্রতাপ সুযোগ বুঝে বান্ধবগড় বুক করে ফেলে তারপর আমাকে জানালেও তাই অখুশী হইনি। ভাবলাম, বেশ পাহাড় দেখার মতই না হয় জঙ্গল দেখব, বাঘের কথা ভাববনা। প্রতাপ নতুন জুম লেন্সটা কিনে দেবার পর থেকে জমিয়ে পাখির ছবি তোলা হয়নি – সেটা তো হবে অন্ততঃ। কানহায় সেই শীতকালেও অজস্র পাখি দেখে ছিলাম মনে আছে, বাঘের প্রতি প্রবল আনুগত্যে সেসময় তাদের দিকে ফিরেও তাকাইনি। এবার তবে পাখিই হোক আমার ফোকাস (বিভিন্ন অর্থে) - বাঘ খাল্লি-ওয়াল্লি।

দিন-এক


দুবাই থেকে দিল্লি, থেকে জব্বলপুর প্লেনে মোটামুটি নিরুপদ্রবে পৌঁছনো গেল। জব্বলপুর থেকে বান্ধবগড় তিনঘন্টার রাস্তা – পৌঁছে গেলাম মোটামুটি ঠিকসময়েই – আগের এমপি ভ্রমনে এত ভাল রাস্তা পাইনি। চারদিক যেন ছবির মত লাগছিল। সোজা পথ চলতে চলতে উমরিয়া রেলস্টেশন ছাড়িয়ে মিনিটি পনের চলেই গাড়ী ডানদিকে ঢুকে পড়ল একটা পাঁচিলঘেরা চত্বরে। তার না আছে কোন সাইনবোর্ড, না কোন অন্য চিহ্ন যাতে বোঝা যায় এটাই ‘বাঘ সরাই’ – ট্রিপ-অ্যাডভাইসরের হিসেব অনুযায়ী বান্ধবগড়ের একনম্বর হোটেল।[অবশ্যই এখানে তাজও আছে, কিন্তু সেটা ট্রিপ-অ্যাডভাইসরের হিসাবের বাইরে, আর আমাদের সামর্থের বাইরে তো বটেই। ৩২ হাজার ভারতীয় টাকা পার পার্সন পার ডে]। হোটেলের রিসেপশনে পৌঁছতে গেলে মেনগেট থেকে মিনিট তিনেক আঁকাবাঁকা পথে গাড়ীতে আসতে হয় – তারপর হঠাৎ বিশাল রিসেপশন চোখের উপর খুলে যায়। দারুণ সুন্দর ইউরোপীয়ান স্টাইলে বানানো থ্যাচড রুফের উঁচু সিলিং-ওয়ালা বিরাট জায়গা। ডানদিক খাবার জন্য বরাদ্দ – আর বাঁদিকে সোফা, নিচু টেবিল, বইয়ের র‌্যাক ইত্যাদি। চেক ইনের ব্যাপারটা প্রতাপ দেখছিল – আমি বইয়ের র‌্যাকে হালকা চোখ বুলোতে দেখলাম সব দারুন দারুন বইয়ের স্টক, বেশীর ভাগই বাঘ সংক্রান্ত। ‘বেশীর ভাগ’ বললাম – কারন, পরে দেখেছি র‌্যাক-এ অরবিন্দ আডিগার ‘হোয়াইট টাইগার’ বইটাও ছিল!!!



চেক-ইনের সময়ই উদয় হল একটি মেয়ে। বছর তেইশ-চব্বিশ বয়স, শ্যামলা, বেশ মিষ্টি মুখটা। পরনে মিলিটারী প্রিন্টের কার্গো প্যান্ট আর বটলগ্রীন জামা, গাইড প্যাটার্নের। মাথার টুপি। বেশ জোরালো হ্যান্ডশেক করে জানালো সে হল রিসর্টের ন্যাচারালিস্ট। ঋষির জায়গায় সেই আমাদের দায়িত্ব নেবে। ঋষি হল এই রিসর্টের ম্যানেজার, কাম ন্যাচারালিস্ট, কাম সব ব্যাপারের খুঁটিনাটির দেখনদার। ট্রিপ-অ্যাডভাইসরের সবকটা রিভিউই ছিল আদতে ঋষি-বন্দনা, তাই আমরা চেয়েছিলাম আমাদের সাথেও ঋষি থাকুক – কিন্তু সে সেই ছুটিতে তার সদ্য-বিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে কাশ্মীরে গেছে – তাই দীপ্তিই ভরসা। ন্যাচারালিস্ট ব্যাপারটা আমরা আগে কোথাও পাইনি। পরে জেনেছিলাম এরা আসলে শিক্ষিত আর ইংরাজী বলিয়ে গাইড – বান্ধবগড়ের ৯০% ট্যুরিস্টই দেখলাম বিদেশী – আর গাইডরা কেবল হিন্দীই বলতে পারে। তাই এখন রিসর্টগুলোও তাজের দেখাদেখি ন্যাচারালিস্ট রাখে। আমার তো বেশ উত্তেজিতই লাগল; লাঞ্চ সেরে আমাদের প্রথম ট্রিপ। আমাদের জানানো হল রিসর্টে আমরাই তখন একমাত্র বোর্ডার। আর একটা গ্রুপ আসবে বিকেলে – তাদের দেখাশোনা করার জন্য দীপ্তিকে সেদিন বিকেলে রিসর্টে থাকতে হবে, আমাদের সাথে সাফারিতে যেতে পারবেনা। একটু মনটা দমে গেল আমার – প্রথমেই বাধা! প্রতাপ চাপা গলায় বলল, আরে এ না থাকলে কোন ব্যাপার না! বলল ঋষি ওকে ফোনে বলেছে দীপ্তির থাকা না থাকা নাকি একই। সেটা শুনে আমি আরো ব্যোমকে গেলাম। এ কি রে!!! এই নাকি একনম্বরের ছিরি – তাহলে অন্য হোটেলে কি অবস্থা!! দীপ্তি বোধহয় আমার মুখ দেখে আমার হতাশা আন্দাজ করল – বলল আপনারা কিচ্ছু চিন্তা করবেননা, আমাদের ড্রাইভার খুব নলেজেবল – ওই আপনাদের অনেককিছু বলে দেবে। তাছাড়া সরকারী গাইড তো থাকবেই!! অগত্যা।
আড়াইটেয় বান্ধবগড় গেটে পৌঁছনোর কথা। খেয়ে বেরোতেই প্রায় দুটো বাজল। টালা গেট কুড়ি কিলোমিটার দূরে! বান্ধবগড়ের প্রথম খারাপ রাস্তা পেলাম এবার। ঝাঁকুনিতে প্রান অতিষ্ঠ। ড্রাইভার পঙ্কজ বলল এই রাস্তাটুকু সরকার ইচ্ছে করেই সারায়না, কারন এখান দিয়ে বন্যজন্তুরা রাস্তা পারাপার করে। আমরা আসার ঠিক দুদিন আগেই রাস্তার পাশে নাকি ভাল্লুক দেখা গেছিল। সন্ধ্যেবেলায় সাফারি সেরে ফেরার পথে ওরা দেখেছে। ‘কিতনে লাকি থে ও লোগ, দো ট্রিপ কে লিয়ে আয়ে থে, একমে টাইগার দেখে, অওর দুসরে মে ভালুভি।’
আমরা চুপ। প্রতাপ কি ভাবছিল জানিনা, কিন্তু আমি মনে মনে অনুভব করছিলাম আমার সেই পাখি টাখি সব প্রতিজ্ঞা সব আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে আসছে! আবার অনুভব করছি সেই দুর্বার টান, আর মনের মধ্যে ধুকপুক।

সাফারি-১ এবং না পাওয়ার প্রথম অধ্যায়




আমরা যতক্ষনে পার্কের গেটে পৌঁছেছি, প্রায় আড়াইটেয়। সবার ভিতরে ঢোকার সময় হয়ে গেছে। আমাদের ভেরিফিকেশন হয়ে এন্ট্রি মিলতে মিলতেই ময়দান বিলকুল ফাঁকা। প্রতাপ চুপচাপ ছিল- মানে ভিতরে ভিতরে প্রবল উত্তেজিত। গেটের ভিতরে ঢুকে চোখ যেন জুড়িয়ে গেল। জঙ্গলটা সত্যিই অপূর্ব, কানহার চেয়েও যেন সুন্দর। কখনো শালের ঘনসবুজের সারি, কখনো হলুদ ঘাসে ঢাকা বিস্তীর্ন মাঠ, কখনো রাস্তার দুপাশে ধবধবে সাদা কাশফুল আর সবুজ খয়েরী এলিফ্যান্ট গ্রাস মিলেমিশে একটা ছবির মত দৃশ্যপট তৈরী করেছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে পাহাড় – তার মাথায় মন্দির দেখা যাচ্ছে। ওখানেই আছে বান্ধবগড় ফোর্ট। ফেরার আগের দিন আমরা যাবো জাঙ্গল ট্রেকে। বেশ জমজমাট প্ল্যান। কিন্তু – বহুরূপে সম্মুখে আমার জঙ্গল… কিন্তু মন আমার, সব ছাড়ি কোথা খুঁজিছে টাইগার! যতক্ষন না একটা হলদে-কালো-ডোরা প্রানী চোখে পড়ছে ততক্ষণ এসব কিছুই যেন চোখে পড়েনা। এ এক অদ্ভুত মানসিকতা। কিছুতেই নিজেকে বাগ মানানো যায়না, হাজার যুক্তিতক্কো দিয়েও না।
জানা গেল দারুন সাইটিং হচ্ছে আজকাল। সকালেই বি/ডি রুটে বাঘ দেখা গেছে। আমরা পেয়েছি এ/সি রুট। বান্ধবগড়ে বাঘের দেখা পাবার সম্ভাবনা সবকটা টাইগার রিসার্ভের মধ্যে সবচেয়ে বেশী, আর এ/সি রুটই নাকি বেশী পপুলার। আশায় আশায় জঙ্গলের দুপাশে যতদুর চোখ যায় দেখার চেষ্টা করি। ইতিমধ্যেই দেখে নিয়েছি হরিণের পাল, বাঁদরও। নতুন অভিজ্ঞতার ঝুলিতে জমা পড়েছে বাঁদরের সল্ট লিকিং। দেখলাম মাহামান ড্যাম– ‘মাহামান ফিমেল’র টেরিটরি। তার নাকি আবার দুটো বাচ্চাও হয়েছে সদ্য, প্রায়ই দেখা যাচ্ছে তাদের। কিন্তু আমরা দেখা পেলাম না। সময় হুশ করে কেটে যায় - সন্ধ্যে হয়ে আসছে … মনখারাপ হচ্ছিল… পার্কের ভিতরে ঘন্টায় ২০ কিলোমিটার হল সর্বোচ্চ স্পিড – আমরা সেই স্পিডেই প্রথমদিনের হতাশার দিকে এগোচ্ছিলাম। কোন কলও শোনা গেলনা।



মেনগেটে এসে জানলাম, বি/ডি রুটেই আবার বাঘ বেরিয়েছিল – তবে একটা নয়, দুটো। খুব চাপা একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ল আমার, প্রতাপেরও। তবে প্রথম দিনটা অতটা খারাপ লাগে না, দেখেছি। রাতের খাওয়া সেরে দীপ্তিকে বললাম সকালে সাড়ে চারটেয় ওয়েকআপ কল দিতে – সাথে চা, ব্ল্যাক টি উইদাউট সুগার। ঘরে এসেই সটান লম্বা – এখনো অবধি পছন্দের তালিকায় জমা পড়েছে বাংলোর ঘরটা অন্ততঃ, আর জঙ্গলটা (স্বীকার করতে বাধ্য; বাঘহীন হলেও)। কাল দেখা যাবে।

দ্বিতীয় দিন, সাফারি-২ এবং দীপ্তি-দীপ্তি


সকালে ঘুম ভাঙল – নিজেরই অন্তরাত্মার ডাকে। ভীষন ক্লান্ত থাকা সত্বেও রাতে অনেকবার ঘুম ভেঙ্গেছে। শেষের দিকে অনেকক্ষন জেগেই ছিলাম। শেষ আর না পেরে নিজেই উঠেছি, ঘড়িতে সময় দেখে একটা ধাক্কা খেলাম - চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিনা – পাঁচটা বাজতে পাঁচ। কোথায় আমাদের সাড়ে চারটের ওয়েকআপ কল? সকালে বেরোনোর কথা সওয়া পাঁচটায়। বাঘেরা সারারাত চলেছেন – সকাল সকাল তাদের দেখা না পেলে তারা আবার গভীর জঙ্গলে সেঁধিয়ে গিয়ে ঘুমবেন! মোটামুটি আটটার পর আর তাদের দেখা পাওয়া মুশকিল। এই জ্ঞান বিতরন করে প্রতাপ কাল বলেছিল – ‘মানে, আমরা যে সময় অফিস করি, বান্ধবগড়ে বাঘ সেই সময়টা পাংচুয়ালি ঘুমোয়। আটটা-ছটা…’
‘প্রতাপ, প্রতাপ – পাঁচটা বাজতে চলল, ওঠ শীগগির’ – প্রতাপও লাফ দিয়ে উঠেছে। বাইরে তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার – ঘরে ফোনও নেই যে কাউকে ডাকব। সারাদিনের জন্য বেরোবার জন্য তৈরী হতে গেলে সকালের চাটা নিতান্ত জরুরী – কিন্তু মাথা গরম হয়ে যাচ্ছিল অন্য কারনে! আমি যদি নিজে নিজে না উঠতাম তাহলে তো আমাদের সাফারির বারোটা বাজত। এত বছরের বেড়ানোর অভিজ্ঞতায় এই ব্যাপারটা একেবারেই নতুন – আমি দাঁত কিড়মিড় করতে করতে – কি করব ভেবে পাচ্ছিলাম না! ‘যাওনা, রিসেপশনে গিয়ে দেখোনা একবার’ – বললাম প্রতাপ কে – ও বলল, ‘এই অন্ধকারে?' যেন কাল সন্ধ্যের না দেখা সব বাঘেরা আমাদের দরজার বাইরে ওত পেতে বসে আছে! আমি বললাম, ‘বেশ আমিই যাচ্ছি’ – রাগের বেশ একটা জোর থাকে – কিন্তু দরজা খুলে বাইরের নিশ্ছিদ্র অন্ধকার, শীত, রাতপাখির আওয়াজ সব মিলে পা দুটোকে নিশ্চল করে দিল। অগত্যা বান্ধবগড়ের নিশুতিরাতের নৈঃশব্দকে খানখান করে আমার অমাইক গলাকেই ব্যাবহার করলাম – ‘দী-প্তিইই, দী-প্তিইই, দী-প্তিইই, দী-প্তিইই, দী-প্তিইই’ – ঠিক পাঁচবার – একবার নিচু থেকে উঁচু, একবার উঁচু থেকে নিচু –
দুবার ডাকা শেষ না হতেই পাশের দুটো বাংলোয় আলো জ্বলে উঠল। বিবেকের দংশন অনুভব করিনি – ওদেরও কপালে দীপ্তির ওয়েকআপ কল মেলেনি নিশ্চয়ই – আমিই সেই শুভকর্ম করলাম নাহয় – পরে ওরাই আমাকে মনে মনে ধন্যবাদ দেবে! ঘরে ঢুকে দরজা এঁটে দিলাম – বাইরে যথারীতি হাড় কাঁপানি ঠান্ডা। সবাই একসাথে বেইমানি করছে – ইন্টারনেট পর্যন্ত। বান্ধবগড় টাইগার রিসর্টের কারেন্ট টেম্পারেচার লিখেছে মিনিমাম ১৯! হ্যাঁ, সেন্টিগ্রেড! এটা নাকি নাইন্টিন? আমার রাগের বহিঃপ্রকাশ হয় প্রতাপের উপর রাগ দেখিয়ে (কথাটা দুজনের ক্ষেত্রেই সত্যি) – ইন্টারনেটের ব্যাপারে রাগ দেখানোর জায়গা নেই – কিন্তু বাঘসরাই প্রতাপের চয়েস – সুতরাং – রেডি হো যাও… কিন্তু মুখ খোলার আগেই দরজায় টোকা! প্রতাপ বলল – এসেছে বোধহয়! দরজা খুলেই দেখি ঘুমে ফুলে থাকা দুটো মুখ – একটা দীপ্তির, অন্যটা রিসর্টের অন্য একটি ছেলে – ‘কী ব্যাপার, ওয়েকআপ কল ক্যা হুয়া?’ খুব ভয়ে ভয়ে দুজনেই বলল – কল তো দিয়া থা। কব দিয়া থা? ম্যায় একঘন্টেসে জগা হুয়া হঁ – ওরা আমতা আমতা করে যা বলল, বুঝলাম পুরোটাই ঢপ। প্রতাপ ওদের রক্ষাকর্তা হয়ে এগিয়ে এল – চায়ে ভেজ দিজিয়ে জলদি। দীপ্তি বলল, চায়ে তো রিসেপশনমে আ কর পিনা পড়েগা! প্রতাপ বলল, ঠিক হ্যায়, হম আতে হ্যায়! ওরা চলে যেতে আমি এবার সত্যিই লাফিয়ে পড়লাম প্রতাপের উপর! এ কেমন হোটেল যে বেডটিও ঘরে দেবেনা? এ কি ফালতু জায়গা – ওরা ভেবেছে কি? আমরা একমাত্র বোর্ডার বলে… ইত্যাদি ইত্যাদি… এবার প্রতাপের মুখ খোলার আগেই দরজায় টোকা – জোরে – আবার! আমি তখন বিরক্তির শেষ পর্বে – দরজা খুলে দেখি অন্য একটা অচেনা মুখ – আমি মুখে কিছু না বলে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালাম – উনি হিন্দীতে বললেন – আমার নাম নীরজ। নামটা চেনা, রিসর্টের মালিক। ‘আপ আভি ইধার হ্যায়? থ্যাঙ্ক গড’ আমি প্রায় লাফিয়ে উঠি – অভিযোগ করার একটা ঠিক জায়গা পাওয়া গেছে – উনি বললেন বিশেষ কাজে কাল অনেক রাতে উনি এখানে এসেছেন… সকালে আমার দীপ্তি-ডাকে ওনার ঘুম ভেঙ্গে গেছে। সকালের কেলেঙ্কারীর জন্য উনি দুঃখিত – বেডটি অবশ্যই ঘরেই পাওয়ার কথা, আমাদের ডাকা হয়নি এজন্যও উনি দুঃখিত! এটাই দীপ্তির প্রথম স্বাধীন দায়িত্ব, এবং তাই এমন ভুল হয়েছে… দফায় দফায় মাপ চাওয়া চলল, দীপ্তিও ক্ষমা চাইল – কিন্তু আমার মন ভালো হলনা! কারণ চা তখনো পৌছয়নি – আর ঘড়িতে তখনই পাঁচটা কুড়ি। মনশ্চক্ষে দেখতে পাচ্ছি গেটের সামনে গাড়ীর সারি – গেট খোলার অপেক্ষায়!
সকালে দীপ্তি যাবেনা – ও যাবে অন্য গ্রুপের সাথে – গাইড কাম ইন্টারপ্রেটার হিসাবে – ভালোই হয়েছে। থাকলে আমার আরো রাগ ধরত! গাড়ীতে আমাদের সাথে কম্বল দেওয়া হয়েছিল তিনটে – কিন্তু শিশির পড়ে গাড়ীর সিট ভিজে যাওয়ায় একটা কম্বল সিট-এর উপর পাততে হয়েছে। একটা আমি আর প্রতাপ ভাগাভাগি করে নিয়েছি। অন্যটা পুটিরাম। অলরেডি দেরী হয়ে যাওয়ায় গাড়ী সেই ঝরঝরে রাস্তায় প্রাণপনে ছুটছে। আর তার সাথে প্রবল হাওয়া মে উড়তা যায়ে – হামারা লাল কম্বল… আর কানে নাকে হাতে পায়ে বিভিন্ন ফাঁক গলে কনকনে ঠান্ডা হাওয়া ঢুকছে! আমি দাঁত কিড়মিড় করে বললাম – ইন্টারনেটের বাচ্চা যাই বলুকনা কেন, এবার থেকে আমি যেখানে যাবো, হনুমান টুপি অন্ততঃ নিয়েই যাবো… কতটা আর এক্সট্রা জায়গা লাগে! প্রতাপও স্বল্পবাক্যে তার মতামত জানালো –‘হনুমান টুপিকে জাতীয় পোষাক ঘোষনা করা উচিত।'
এবারের ট্রিপে প্রতাপ বোধহয় ঠিক করেছিল গানে গানেই তার মনের কথা জানাবে!! শুভ মহরত হল সেদিন সকাল থেকে! আমরা পৌছলাম ঠিক ছটা বারো – গেট খুলল পনেরোয় – আর গাড়ির পাল হই হই করে ঢুকে গেল ভেতরে … ধোঁয়ার স্মৃতিটুকু আমাদের জন্য রেখে দিয়ে। ড্রাইভার গেল পরছি দেখাতে – আমরা বসে আছি – মনে মনে চিন্তা করছি সব বাঘ কেমন পালিয়ে গেল গাড়ীর আওয়াজে… পঙ্কজ আর আসেনা! প্রতাপ গাইতে শুরু করল গুনগুন করে – ‘সবা-ই… চলে গেছে…’ – ওই টুকুই, বারে বারে। হাসিও পায়, রাগও হয়। ‘চুপ করোনা’ – বলতে পরের টুকু ধরল – ‘শুধু একটি মারুতি, তুমি, এখনও তো হু হু হু হু হু…… সবা-ই… চলে গেছে…’ ‘মাধবী’র জায়গায় ‘মারুতি’, বাহবা দিতেই হয়!
মিনিটখানেক বাদেই পঙ্কজ এল, সাথে ফরেস্টের কর্মী, আর গাইড। আবার চলবে ভেরিফিকেশনের পালা!! প্রতাপ ওর শান্ত গলায় বলল – ‘মেন গেট মে ইতনা চেকিং কিঁউ? পোচার ক্যা জিপসী মে ভি আতা হ্যায়?’ আমি ছাড়া কেউ হাসলোনা। প্রতাপের মুড ভালো মানে ও-ও বাঘ দেখার টেন্সড মুড ছেড়ে ফিলসফার হয়ে গেছে। এটাও কম পাওনা নয়। তারপর সারা সাফারিতে বিভিন্ন গান গাইল (গান গাওয়া মানে গানের কথাগুলো বেসুরে আব্বৃত্তি করা – আর একটাই লাইন ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে) – আমি বুঝলাম শুধু স্মৃতির উপর ভরসা করলে এইসব মনিমাণিক্য হারিয়ে যাবার সম্ভাবনা- লিখে রেখেছি, ফেরার পথে একটা ছোট নোটপ্যাড আর পেন কিনে নিয়েছিলাম। সেদিন সে ট্রিপে দেখলাম অনেক পাখি – মনের সাধ মিটিয়ে নতুন লেন্সকে কাজে লাগালাম। জঙ্গলটা সকালের রোদে ভীষণ ভালো লাগছিল- দুপাশে ঘন সবুজের মাঝখানে লম্বা টানা রাস্তা জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে চলে গেছে (প্রতাপ গাইল, ‘রানওয়ে জুড়ে পড়ে আছে শুধু, কেউ নেই – শূন্যতা!')।
সেন্টার পয়েন্ট যাবার পথে হঠাত শোনা গেল - ‘কিঁয়ও' – এ যাত্রায় প্রথম শোনা এলার্ম কল। গাইড ছিল সুখবিলাস- বেশ পোক্ত গাইড। বলল চিতল একবার ডেকেই থেমে গেছে। আমরা সম্ভাব্য উৎসের দিকে তাকিয়ে ঠায় নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে – আওয়াজ আর হয়না। কিছুক্ষন বাদে – গাইড বলল – উস তরফ চলো, একবার দেখ লেতে হ্যায়। গাড়ী স্টার্ট দেওয়া মাত্র, পিছনের দুটো গাড়ীও ইঞ্জিন চালু করল – জায়গা থেকে একফুটও নড়েছি কি নড়িনি – জোরে আবার একবার ‘কিঁয়ও' হল – চিতলের কল। আবার গাড়িরা যে যার জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ল – স্টার্ট বন্ধ করে। বার তিনেক এমন হবার পর সুখবিলাস জমায়েত হওয়া গাড়ীর পালের দিকে তাকিয়ে ঘোষনা করল – ‘পাহাড়ীকে উপরসে আ রহা হ্যায় আওয়াজ’। অথচ একটু আগেই বলেছিল – একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা হরিনেরা আওয়াজ করছে! সিটে বসে পরে বলল ‘চলো সেন্টার পয়েন্ট’।



সেন্টার পয়েন্ট হল জঙ্গলের মধ্যে ফরেস্টের একটা অফিস যেখানে সব গাড়ীকেই একবার হাজিরা দিতে হয়। কানহাতেও একই ব্যাপার ছিল। কিন্তু কানহার সেন্টার পয়েন্টটা ছিল একটা এলাহী ব্যাপার – খাওয়ার ক্যান্টিন থেকে শুরু করে, স্যুভেনিয়র শপ, মিউজয়াম ইত্যাদি নানা রকম দেখার জিনিষ ছিল। এখানে শুধুই কিছু চা-বিস্কিট-চিপসের দোকান, আর হ্যাঁ তেলেভাজারও। সেন্টার পয়েন্ট মানেই সেদিনের মতো বাঘ দেখার আশা মোটামুটি ৯০% খতম। তাই তেলেভাজা খেয়ে দুঃখ ভোলার চেষ্টা করলাম। আমরা এখনও অবধি কেবল এ/সি রুটেই যাচ্ছি – কালও আর আজও। কাল দুবেলাই বি/ডি রুটে বাঘ দেখা গেছে – এ/সি এখনো অবধি ঊষর! ‘শামকো বি/ডি রুট মিলে তো লেনা, পঙ্কজ’ – বাঘ সব জায়গাতেই আছে, আর কপালে না থাকলে কোথাওই দেখা যাবেনা, জানি, – কিন্তু একটু চেঞ্জ করে দেখাই যাক।
ফেরার পথে মনে আশা জাগিয়ে- চিতলের কল আবার শোনা গেল । কিন্তু সুখবিলাস বলল – কল মে দম নেহী হ্যায়। চিতল একটু ভীতু প্রকৃতির প্রানী (‘ক্যালানে’, প্রতাপের ভাষায়) – সবেতেই ভয় পায়। তাই চিতলের কল ততটা জোরালো প্রমাণ নয় বাঘের উপস্থিতির জানান দেবার জন্য। সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য হল বাঁদর, তাদের কল মানে বাঘ আছেই আশেপাশে। মেনগেটে ফিরে শুনলাম কেউ বাঘ দেখেনি। বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গেছে – আমরাও দেখেছি – কিন্তু ছাপ আর আমার মনে ছাপ ফেলেনা আজকাল – মুঝে ছাপ নেহি, জঙ্গলকা বাপ চাহিয়ে!!!
‘হারাধনের আটটি ট্রিপে বাঘ দেখিবার আশা/ দুইখানি ট্রিপ বিফল গেল – ছয়খানি ভরোসা!’
– আমার মনের আফশোস – গদ্যে রুপান্তরিত- শুনে পঙ্কজের মুখে কি হাসি! আরে ছেয় ট্রিপ বহোত হোতা হ্যায়। আপ দেখ লিজিয়েগা, ইধার আয়ে অওর টাইগার নেহী দেখা এয়সা হোতাহি নেহী – ইত্যাদি…… সকাল বিকেল শুনি গপ্প আর গপ্প। গাইডের মুখে, ড্রাইভারের মুখে। মন ভাল করে দেওয়া গল্প, মন খারাপ করে দেওয়া গল্প! কানকাট্টি, সুখীপাতিয়া টাইগ্রেস, দ্য লেজেন্ডারি বিটু (B2), নিউ টালা মেল, মাহামান ফিমেল, বোখা... একবারও কি দেখা পাবোনা তাদের??? ‘এক বার? আপকো দো তিনবার দিখাই দেখা জরুর। ছেয় ট্রিপ...’ – ছয় ট্রিপের জয়!!!
‘লেকিন কোই কল ভি নেহী হো রহা হ্যায় ঠিকসে!’ – আমার বিলাপের উত্তরে জবাব মেলে ‘আপ সামারমে আতে হ্যায় তো দিখনেকা চান্স শওপ্রতিশত হ্যায়! (মাথা গরম হল আবার!) লাস্ট ইয়ার টাইগ্রেস ‘জঙ্গলী’ মর গই, ও তো টালা মার্কেটমে ঘুমতে থে। কানকাট্টিকে সাথ ফাইট হুয়া, কানকাট্টি উসকো মারকে খা লি। উসকি ভি এক কান কট গই – ইসি লিয়ে উসকা নাম কানকাট্টি হ্যায়।' ‘আর B2?’- ন্যাটজিও-র কল্যানে এর নামটা জানা- ‘B2 আভি বুড্ডা বন গয়া, বামেরা মেল উসকাহি লড়কা হ্যায়। বিটুকে সাথ লড়াই হুয়া, বামেরা ভাগ গয়ে। ফির বোখা ডমিনেন্ট হো গয়া। লেকিন তিন সাল হুয়া বামেরা লওট আয়া - B2 কে সাথ ভি জবরদস্ত ফাইট হুয়া, ঔর উসকা টেরিটরিকা বহোত এরিয়া আপনে দখল মে লে লিয়া – আভি বোখা অঊর বামেরা মে এক নম্বর বননেকা ফাইট বাকি হ্যায়’ - বাঘের গল্প শুনে শুনে মন খারাপ হয়ে যায় –
কুড়ি কিলোমিটার ফেরার পথটা লম্বা। প্রতাপ গাইল – নচিকেতার গানের র‌্যাপ স্টাইলে, ‘এই বেশ ভালো আছি! এই বেশ ভালো আছি/ জঙ্গলে বাঘ নেই / দেখার কিছু নেই…’ বলে আমার দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বলে – ‘এই গানটার কথা গুলো প্রপারলি ডেভেলপ করতে হবে আমাদের সিটুয়েশনের সাথে ম্যাচ করিয়ে’ – আমিও যোগ করলাম ‘কিন্তু – দু নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে… বাঘ না দেখতে পাই এই ট্রিপে পাছে… তাই ভয় আছে’ – হাসির মধ্যে প্রতাপ প্রসঙ্গ বদল করে – জানিস পুঁটিরাম, চিতলগুলো আজ কি করছিল? পাশ দিয়ে গাড়ী যাচ্ছিল দেখে একটা চিতল তার বন্ধুদের বলল – ‘দেখবি একটা মজা? - কিঁয়ও’ – সব গাড়ী থেমে গেল। বন্ধুরা বলল – আবার কর – বলল, না এখন নয়, একটু বাদে। যেই গাড়ীগুলো স্টার্ট দিয়ে জাস্ট চলতে শুরু করেছে, আবার ‘কিঁয়ও’। আবার গাড়ী স্টপ!’ প্রতাপের অসাধারন একটিং দেখে পুটিরাম হেসে গড়িয়ে পড়েছে – আমিও – প্রতাপ বলল -এটা লালমোহনবাবুর ভাষায় – ‘চিতলের চ্যাংড়ামী’।
ফেরার পথে গোহড়ী গেট ফেরত গাড়ীগুলোর সাথে দেখা। তাজ-এর ড্রাইভার পঙ্কজকে বলল – ‘মাগধী জোন মে কিঁউ নেহী যাতে আপলোগ?’ ‘উধার টাইগার দিখা?’ আমি ব্যাকুল প্রশ্ন করি! ‘এক নেহী, তিন দিখা’ – হুশ করে গাড়ী চলে গেল – আমি হতবাক। মাগধী? সে আবার কি? বান্ধবগড় মানেই টালা জোন, তাই তো জানি। যারা টালায় টিকেট পায়না তারাই অন্যান্য জায়গায় যায়। টালার এন্ট্রী ফিও তাই ঠিক দুগুণ, অন্য গেটের তুলনায়। ‘আরেঃ, মাগধী গেটে তিনটে টাইগার কিধার সে আয়া?’ প্রশ্ন করি পঙ্কজকে – উত্তর দেয় প্রতাপ – ‘ওগুলো টালারই - সকালে দীপ্তি-দীপ্তি চিৎকারে ল্যাজ তুলে টালা থেকে মাগধী পালিয়েছে’।





(ক্রমশ)

ফেসবুক মন্তব্য