না

সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়



আজ শালিনী ম্যাডামের ফেয়ারওয়েল। ম্যাডাম একটা সাদার ওপর নীল ফুল ফুল ছাপ ফ্রক পরে এসেছেন। ঘাড় অব্দি ছেলেদের মত করে ছাঁটা চুল, ছোটোখাটো চেহারা। দেখে বেশ খুকুমণি খুকুমণি লাগছে। পাকড়াশী সাহেব রিটায়ার করার পর মাঝখানে কিছুদিন তিনি মনমরা হয়ে ঘুরে বেড়াতেন। আজ তাঁকে দেখে খুব ফ্রেশ লাগছে। সবার সঙ্গে হেসে হেসে কথা বলছেন। কার কী খবর, ছেলেমেয়েরা কী করছে জিজ্ঞেস করছেন। কাল থেকে আর অফিসের লোকজনের সঙ্গে দেখা হবে না। প্লাস পাওয়ারের সরু চশমার ওপর দিয়ে জমায়েতে চেনা মুখগুলো নজর করছিলেন। হঠাত দেখি চোখের কোণ দিয়ে দু-ফোঁটা জল গড়িয়ে নামছে। তাড়াতাড়ি হাতের রুমালে চোখ মুছে নিলেন। প্রায় অর্ধেক জীবন যেখানে কেটে গেল সে জায়গা ছেড়ে যাতে কার না কষ্ট হয়?

আমাদের ডাইরেক্টর পি এন পাকড়াশী সাহেবকে পুরো নাম ধরে ডাকার অধিকার ছিল একমাত্র তাঁর পিএ শালিনী দেশাইয়ের। এমনকি পাকড়াশী সাহেবের বন্ধু লোকেরাও তাঁকে শুধু প্রাণ বলেই ডাকতেন। মন্দ লোকে শালিনী ম্যাডামকে ‘আধি ঘরবালিনী’ বলত বটে, তিনি সে সব অশালীন কথা গায়ে মাখতেন না। শুধু যে অফিসের ফাইল, কাগজ, চিঠিপত্র সামলাতেন তা নয় সাহেবের শরীর স্বাস্থ্যর দিকেও কড়া নজর রাখতেন। সাহেব হয়তো মনযোগ দিয়ে মিটিং করছেন। এক ঘর লোককে আগাপাশতলা দাবড়াচ্ছেন। এমন সময় এন্টিরুমের দরজা খুলে শালিনী ম্যাডাম মুখ বাড়ালেন, ‘প্রাণনাথ, ড্যু উ নিড এনি স্নেক উইথ ইয়োর টি?’

পাকড়াশী সাহেবের গ্যাসের রোগ। বেশিক্ষণ খালি থাকলে পেট বেলুনের মত ফুলে ওঠে। এই প্রসঙ্গে প্রোজেক্ট ডিপার্টমেন্টের জিতেনের কথা না বললে গল্পটা আধুরা থেকে যাবে। জিতেন এমনিতেই সাংঘাতিক রকমের প্রতিহিংসাপরায়ণ, প্রোজেক্টের ছেলেরা যেমন হয়, আর কী? সে একবার পাকড়াশী সাহেবের কাছে টানা আধ ঘন্টা ঝাড় খেয়ে জিঘাংসু হয়ে পড়েছিল। কেবিন থেকে বেরিয়ে বলেছিল, ‘মালটার মুখে এক পাতা জেলুসিল গুঁজে, ঠোঁটের ওপর সেলোটেপ আটকে, পাঁচ তলার জানলা থেকে ঠেলে ফেলে দেব।’ জেলুসিল গুঁজে দেওয়ার গূঢ় উদ্দেশ্য হল যাতে তিনি গ্যাস বেলুনের মত হাওয়ায় ভেসে থাকতে না পারেন। এই ব্যাপারটা বুঝতে আমাদের সামান্য সময় লেগেছিল। বোঝার পর আমরা জিতেনের নিখুঁত প্ল্যানিঙের তারিফ না করে পারিনি। এই সব তুখোড় ছেলেদের জন্যই আমরা পটাপট প্রোজেক্ট নামিয়ে দিতে পারি। আমাদের ডিজাইন লীড উমাপতিদা মাথা নেড়ে বলেছিল, ‘ছেলেটার মধ্যে একটা কিলিং ইন্সটিঙ্কট আছে, অনেক দূর উঠবে।’

যে কথা হচ্ছিল। ম্যডাম ঘরে ঢুকতেই পাকড়াশী সাহেবের মুখের কঠিন রেখাগুলি অজান্তেই নরম হয়ে এল। কপালের ভাঁজ সমতল হল। ভুরুর কার্ভেচার কনকেভ থেকে কনভেক্সের দিকে ঢলে পড়ল। লেড়ো বিস্কুট চোদ্দ সেকেন্ড চায়ে ডুবিয়ে মুখে দিলে যেমন মুচ করে ভেঙে যায় তেমন স্বরে বললেন, ‘ইয়েস ডা’লিং, এন্ড ওলসো ফ’ দিজ জেন্টলমেন।’ পাকড়াশী সাহেবের উচ্চশিক্ষা ইংল্যান্ডে। ব্রিটিশ আদব-কায়দায় পিএকে ডার্লিং সম্বোধনে সম্ভবত দোষ নেই। আলটপকা বিরতি পেয়ে আমরা ফোঁস করে সমবেত স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লাম। ঠিক তখনই বাইরে কুহু কুহু রবে কোকিল ডেকে উঠল। পাকড়াশী সাহেব উঠে গিয়ে ভেনিশিয়ান ব্লাইন্ড সরিয়ে দিয়ে জানলার পাল্লা খুলে দিলেন। জানলার বাইরেই খোঁপায় হলুদ ফুল গুঁজে একটা রাধাচূড়া গাছ দাঁড়িয়ে ছিল। ভরা বসন্তের হাওয়া তার চুল এলোমেলো করে দিয়ে সাহেবের কেবিনে ঢুকে পড়ল। সাহেব কেমন অন্যমনস্ক হয়ে টাক চুলকে সাদা বাংলায় বলে ফেললেন, ‘ইশে, কী যেন বলছিলাম?’

অফিসের লোকের মুখে মুখে শালিনী ম্যাডাম-পাকড়াশী সাহেবের অন্তরঙ্গতার উপাখ্যান প্রায় লায়লা-মজনু, হীর-রান্‌ঝার লেভেলে পৌঁছে গিয়েছিল। সব অমর প্রেমকথাই বিচ্ছেদে শেষ হয়। এটিও যথারীতি সেভাবেই শেষ হল। পাকড়াশী সাহেব রিটায়ারমেন্টের পর মেদিনীপুর শিফট করে গেলেন। তিনি বিবাহসূত্রে সে অঞ্চলে প্রচুর জমিজমার মালিকানা পেয়েছিলেন। খবর পাওয়া গেল রিটায়ার করে সেই জমিতে হাইব্রীড ধান চাষে করছেন, মন দিয়ে। শালিনী ম্যাডাম নিজের কেবিনে মুখ কালো করে বসে রইলেন। আগে সর্বদা চুল আঁচড়ে, ঠোঁটে হালকা রঙ লাগিয়ে পরিপাটি হয়ে থাকতেন। কাজে কর্মে উৎসাহ, স্ফূর্তি খালি চোখে দেখা যেত। সেসব আচমকা কোথায় উবে গেল। মাস দুই তিন পরে তাঁরও রিটায়ারমেন্ট। মনে হত তিনিও যেন ছেড়ে যাবার দিন গুনছেন।

আমাদের নতুন ডাইরেক্টর নিযুক্ত হল সেলসের হেড অনুরাধা সেন। বয়সে আমাদের সমসাময়িক, চল্লিশের এদিক ওদিক। কিন্তু সিনিয়রিটিতে অনেকটা এগিয়ে। এত অল্প বয়সে এর আগে কেউ ডাইরেক্টর হয়নি। ইয়াং, ডাইনামিক, প্রোগ্রেসিভ এবং লাস্ট বাট নট দ্য লীস্ট, সাংঘাতিক এগ্রেসিভ মহিলা। কাজ কর্মে একটু এদিক ওদিক ভুলচুক হলে রেহাই নেই। খুব বকাবকি করত। শালিনী ম্যাডাম মুখ চুন করে শুনতেন। কথার জবাব দিতেন না। আজ শালিনী ম্যাডামকে দেখে মনে হচ্ছে রিটায়ার করে তিনি হাঁফ ছেড়ে বাঁচবেন। অফিসে পাকড়াশী সাহেব ছাড়া থাকতে তাঁর দম আটকে আসছিল। ভ্রমর ছাড়া পদ্মর মত মুর্ছিতা হয়ে ছিলেন এতদিন। ফেয়ারওয়েল পার্টি শেষ হয়ে যাবার পর ম্যাডামকে উইশ করে সবাই যে যার নিজের জায়গায় ফিরে যাচ্ছিল। একটু ফাঁকা হতে কাছে গেলাম। জিজ্ঞেস করলাম, পোস্ট-রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান কী? কোথায় থাকবেন? কলকাতায় নাকি গুজরাটে ফিরে যাবেন?

বললেন, গুজরাটে কেউ নেই। সবাই এখন পাত্তাড়ি গুটিয়ে কলকাতায়, বড়বাজারে। এখনও জয়েন্ট ফ্যামিলি। দুই ভাইপো থাকে, বৌ বাচ্চা নিয়ে... তাদের সঙ্গেই থাকবেন। জানতাম ম্যাডাম বিয়ে থা করেন নি। জিজ্ঞেস করলাম, পাকড়াশী সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ আছে কিনা। কী করছেন এখন পাকড়াশী সাহেব? মনে হল একটু লজ্জা পেলেন। গালে কি অল্প রঙ ধরল? আমার দেখার ভুলও হতে পারে। বললেন, যোগাযোগ আছে... ইমেলে... সাহেব কিছু কন্সাল্টেন্সির কাজ করছেন আর অবসর সময়ে চাষবাস।


অনুরাধা বলল, ‘বিকেলটা ফ্রী আছে। চল্‌, ঘুরে আসি। কাছেই একটা বীচ আছে। গাড়িতে যেতে আসতে ঘন্টা দু-তিন লাগবে।’
মিটিংটা তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গিয়েছিল। বিনা নোটিশে একটা ভেন্ডার ডুব মেরেছে। গ্রিন ফিল্ড প্রোজেক্ট। সাইটে কাজকর্ম এখনও তেমন জোর কদমে শুরু হয়ে পারেনি। ক্লায়েন্টের লোকজন মুম্বাই ফিরবে। তারা ভুবনেশ্বর এয়ারপোর্টের দিকে দৌড়োলো। আমাদের কলকাতা ফেরার ফ্লাইট আগামী কাল সকালে। ফাঁকা পেয়ে ভাবছিলাম হোটলে ফিরে লম্বা ঘুম দেব। অন্যবার একাই আসি। নিজের ইচ্ছে মত ঘুরি ফিরি। এবারে সে উপায় নেই। মিটিঙে ক্লায়েন্ট অফিসের এমডি এসেছিলেন। তাই প্রোটোকল মেনে অনুরাধাকে আসতে হয়েছে। কাল রাতে অনুরাধার জ্বালায় ঘুম পুরো হয়নি । রাত দুটো পর্যন্ত ল্যাপটপ খুলে, অফিসের কাজ নিয়ে বসে ছিল। বিছানায় ওর জন্যে অপেক্ষা করতে করতে আমার চোখ লেগে এসেছিল। পেপারব্যাকটা কখন হাত থেকে খসে পড়েছিল জানি না। অনুরাধার ঠেলা খেয়ে ঘুমের আঠায় জুড়ে থাকা চোখ খুললাম। আলতো চিমটি কেটে বলল ‘কী রে, ঘুমিয়ে পড়লি নাকি?’

বললাম, ‘ঘুমোব না ত কী? তোর কাজ আর শেষ হয় না।’

অনুরাধা ওর নেল পলিশ লাগানো লম্বা লম্বা আঙ্গুলে সজোরে গাল টিপে দিয়ে বলল, ‘আহা রে! রাগ হয়েছে বাবুসোনার? আয়, আদর করে দিচ্ছি।’

আমাদের লিভ ইন রিলেশানটা পুরোন। কলেজ ছেড়ে বেরোনর পর থেকেই। অফিসের অনেকেই জানে। অবশ্য কে জানল, না জানল অনুরাধার কিছু যায় আসে না। আমারও না। ডাইরেক্টরের পোস্ট পাবার পর অনুরাধা আমায় বলেছিল, ‘তোর হিংসে হচ্ছে না তো?’

আমি হেসে বলেছিলাম, ‘একদম না। এ বরং সুবিধেই হল। ঘরে অফিসে একজনই বস। দুজনকে আলাদা করে খুশি করার দায় নেই।’

সেদিন রাত্তিরে আমরা দু-জন পার্টি করেছিলাম। ক্যান্ডেল-লাইট প্রাইভেট পার্টি। সফট মিউজিক চালিয়ে দিয়েছিল অনুরাধা, ইন্সট্রুমেন্টাল। আকন্ঠ ওয়াইন গিলে দু-জনেই কিছুটা বেসামাল হয়ে গিয়েছিলাম। অনুরাধার গলা জড়িয়ে বলেছিলাম, ‘মাই ডিয়ার অনু, আই রিয়েলি ফীল প্রাউড অভ ইউ।’

অনুরাধা ফিসফিস করে বলেছিল, ‘মি টু।’

আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম, ‘আমার জন্য? আমি আবার কী করলাম?’

অনুরাধার চোখের পাতা ভারি হয়ে নেমে এসেছিল, ‘এই যে তুই আমার সমস্ত উপদ্রব সহ্য করিস। আমার সব ব্যাড হ্যাবিটসগুলো মেনে নিয়ে আমাকে পাগলের মত ভালবাসিস।’

বললাম, ‘তুই আমায় ভালোবাসিস না?’

অনুরাধা আমায় পাত্তা না দিয়ে বলল, ‘আমি তোকে কী দিয়েছি বল? বল না... নাথিং! অ্যাবসোল্যুটলি নাথিং।’

আমি বিব্রত হয়ে বললাম, ‘আজ ওসব ছাড় না!’

অনুরাধা বলবেই, ‘ছাড়ব কেন? আমি জানি তুই একটা সাজানো গোছানো সংসার চাস। অন্য সবার মত সন্ধে বেলা অফিস থেকে ফিরে বউয়ের হাতে সদ্য বানানো গরম গরম চাওমিন খেতে চাস।’

আমি হেসে ফেললাম, ‘তোকে কে বলল? সম্পূর্ণ বাজে কথা। আমি চাউমিনের থেকে চুমু খেতেই বেশি পছন্দ করি।’ অনুরাধা কাছে সরে এসে ওর অ্যালকোহলের গন্ধমাখা ঠোঁট আমার ঠোঁটে চেপে ধরেছিল।

অনুরাধার মাথায় যখন ঢুকেছে ও যাবেই। বাধা দিয়ে লাভ নেই। অতএব আমরা গাড়ি নিয়ে সমুদ্র-সন্ধানে বেরিয়ে পড়লাম। বাদাম গাছের জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে পিচ রাস্তাটা সাপের মত এঁকেবেঁকে এগিয়েছে। মাঝে মধ্যে চাষ-জমি, জলাশয়। চোখ লেগে আসছিল। অনুরাধা কনুয়ের খোঁচা মেরে উঠিয়ে দিল, বলল, ‘এত জোরে নাক ডাকছিস পাখ-পাখালি সব উড়ে পালাচ্ছে।’
এসি গাড়ির পুরু কাঁচের ঘেরাটোপ পার করে আমার নাসিকা গর্জন উড়িষ্যার বনচারী মুক্ত বিহঙ্গদের ভয় দেখাতে পারে, এটা মেনে নেওয়া শক্ত। আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাতে যাচ্ছিলাম। এমন সময় আমার হাতে ধরা মোবাইলটা বেজে উঠল। মা ফোন করেছে। আমি ফোন কানে নিয়ে বললাম, “হ্যাঁ মা, বল।’ মায়ের ফোন এলে অনুরাধা জড়োসড়ো হয়ে পড়ে। যতক্ষণ কথা বলি আমার কাছে ঘেঁষে না, সরে সরে থাকে। অবরে সবরে ডেকে ফোন দিলে কথা বলে। বুঝতে পারি মা বা অনুরাধা দুজনেই খুব একটা কম্ফর্টেবল ফীল করে না। আমাদের কলকাতার জয়েন্ট অ্যাপার্টমেন্টে মা কখনও আসেনি। অনেকবার বলেছি আসতে। নানা বাহানায় এড়িয়ে যায়। বাবা চলে গেছে বছর তিনেক। মফস্বলের পৈতৃক বাড়িতে কাকা কাকিমার সঙ্গেই থাকে মা। আমি যাই, মাঝে মধ্যে গিয়ে দেখা করে আসি। মায়ের ফোন শুনে অনুরাধা গাড়ির জানলার বাইরে চোখ রাখল।

আমি জানি একটা অপরাধবোধ অনুরাধার মধ্যে সর্বদা শেকড় ছড়ায়। জানি না মা কখনও কিছু বলেছে কিনা। হয় তো অনুরাধা নিজে থেকেই সার-জল দিয়ে, আগাছা নিড়েন দিয়ে চারা গাছটাকে বড় করে তুলছে। কে জানে? আমাদের এই ভাবে এক সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তটা দুজনেরই। অনুরাধার একার নয়। তাই সম্পর্কটা ডিফেন্ড করা বা না করার দায়িত্বটাও দুজনের ওপর সমানভাবে বর্তায়। অথচ অনুরাধার ধারণা ওর কেরিয়ারের জন্যই আমরা বিয়ে থা করে সংসার পাততে পারলাম না। সম্পূর্ণ দোষের ভাগটা ও একলাই নিতে চায়।

প্রতিবার ফোন করে মা একই জিনিষ জানতে চায়। শরীর স্বাস্থ্য কেমন আছে। খাওয়া দাওয়া ঠিক ঠাক করছি কিনা। ট্যুরে এসেছি জানলে বলে হোটেলের খাবার যেন সামলে খাই। সাবধানে চলা ফেরা করি। জিজ্ঞেস করে, কবে ফিরছিস? কবে আমার এখানে আসবি? আমি টুক টাক কথা বলি। জিজ্ঞেস করি তোমার শরীর কেমন? কাকারা ঠিক আছে কিনা। আমাদের কথা চট করে শেষ হয়ে যায়। ফোন ছেড়ে দেবার পরেও অনুরাধা অনেকক্ষণ কোনো কথা বলে না। আমাদের স্তব্ধতার মধ্যে হঠাৎ ঢেউয়ের শব্দ আছড়ে পড়ে। ঝাউ বনের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে আমরা সমুদ্র দেখতে পাই।



গাড়ি থেকে নামার পর অনুরাধার মুড ভালো হয়ে যায়। মন খারাপের মেঘ ফুঁ দিয়ে হাওয়ায় উড়িয়ে দেয়, যেমন করে গালের ওপর ঝুঁকে পড়া এক গুছি চুল ওড়ায়। বালির ওপর দিয়ে জোর পায়ে হেঁটে যায়। জলের কাছে পৌঁছে জিনস গুটিয়ে ঢেউয়ের মধ্যে পায়ের পাতা ভিজিয়ে নেয়। ছেলেমানুষের মত খিল খিল করে হেসে ওঠে। এই সমুদ্র সৈকতটার খবর খুব কম ট্যুরিস্টরাই জানে। নির্জন বালিয়াড়ি বিকেলের সোনা রোদে চিক চিক করছে। দু-একটা জেলে নৌকো বালির ওপর উপুড় করে রাখা। হেলে পড়া বাঁশের আগায় মাছ ধরার জাল শুকোচ্ছে। কাছেই কোথাও জেলেদের গ্রাম আছে মনে হয়। একটা বড়সড় লাল কাঁকড়া পায়ের ওপর দিয়ে সর সর করে সরে গেল। জল সরে গেলে মসৃণ বালির ওপর কাঁকড়াদের ঘরবাড়ি দেখা যাচ্ছে। অনুরাধা জোর না করলে এত সুন্দর জায়গাটা অদেখাই থেকে যেত। আমার ক্লান্তি টান্তি উধাও হয়ে যাচ্ছে। সমুদ্র স্নান করতে ইচ্ছে হচ্ছে খুব। এখন জলে নামলে ভিজে পোষাকে ফিরতে হবে। অনুরাধা বলল, ‘একদম না। তোর না ঠাণ্ডার ধাত? অতক্ষণ ভিজে গায়ে থাকলে সর্দি লেগে যাবে।’

নির্জনতার সঙ্গে নগ্নতার কি কোনো সম্পর্ক আছে? যদি নগ্ন হয়ে জলে নামি? জল থেকে উঠে এসে আবার শুকনো জামা পরে নেব। শার্টের বোতামে হাত রাখতেই অনুরাধা খপ করে আমার হাত ধরে ফেলল, বলল, ‘নো দুষ্টুমি! দূরে ওই ঝাউবন দেখা যাচ্ছে। ভালো ছেলের মত আমার হাত ধরে চল। ঢেউ দেখতে দেখতে ওখান পর্যন্ত হেঁটে যাব আর ফিরে আসব।’

আমি বললাম, ‘কে যেন বলেছিল, আদিগন্ত জলের সামনে এসে না নামা আর রমণেচ্ছু নারীর রূপের প্রশংসায় কালক্ষেপ করা মোটামুটি একই ক্যাটেগরিতে পড়ে।’

অনুরাধা বলল, ‘কেউ বলেনি, তুই বললি, এইমাত্র।’

আমি বোঝাবার চেষ্টা করি, ‘দেখ, শুধুমাত্র শিশু আর বৃদ্ধ মানুষেরাই জলে না নেমে তার পাশ দিয়ে হেঁটে যায়।’

অনুরাধা বলল, ‘তুই তো দুটোই। একটু আগে বুড়োদের মত নাক ডেকে ঘুমোচ্ছিলিস আর এখন বাচ্চাদের মত জলে নামার বায়না করছিস।’

অগত্যা আমরা হাঁটতে লাগলাম। আমার হাত অনুরাধার হাতের মধ্যে ধরা রইল। আমি গোঁয়ারের মত ঘাড় কাত করে বললাম, ‘তুই আজ আমায় জলে নামতে দিলি না। পরের বার যখন একা আসব, যত ইচ্ছা জলে নামব।’

অনুরাধা ব্যথিত মুখে ফিরে তাকাল। কিন্তু হাত ছাড়ল না। একটু চুপ করে থেকে বলল, ‘জানি, তুই একদিন আমায় ছেড়ে চলে যাবি।’

কী কথার কী উত্তর! অনুরাধা বোঝে না আমাদের একসঙ্গে থাকাটা আমার কাছে কতটা ইম্পরট্যান্ট। বালির মধ্যে ঝিনুকের খোলা মাড়িয়ে আমরা ঝাউ বনের দিকে এগোলাম। খুব দূরে নয়। মিনিট দশেক। দু একটা বড় ঢেউ অনুরাধার পায়ের ওপর দিয়ে চলে গেলো। অনুরাধার খালি পা, চপ্পল হাতে দুলছে। আমি লাফ দিয়ে পাশ কাটিয়ে গেলাম। জলে না নামতে দিলে আমি ও জল ছোঁবোও না। ঝাউ বনের কাছাকাছি আসতেই অনুরাধা হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ল। আমি বললাম, ‘কী হল? থামলি কেন?’

অনুরাধা চপ্পল ঝোলানো হাতের তর্জনী তুলে দেখাল আমরা ছাড়া আরও দুটি মানুষ রয়েছে এই সমুদ্র তটে। ঠিক তটে না, একটি পরিণত-বয়স্ক দম্পতি সমুদ্রের মধ্যে নেমে হুল্লোড় জুড়েছেন। একে অন্যের গায়ে জল ছুঁড়ছেন। দুটি যৌবনোত্তীর্ণ নর-নারী চারিদিক ভুলে জলের মধ্যে পরস্পরের সান্নিধ্য উপভোগ করছেন। দুজনেই বাচ্চাদের মত অফুরন্ত হাসছেন। ঢেউয়ের শব্দ ছাপিয়ে জল থেকে তাঁদের অনাবিল হাসির শব্দ উঠে আসছে। যদিও উন্মুক্ত বেলাভূমি তবু মনে হল লুকিয়ে এই স্নান দৃশ্য দেখা অনুচিত। ওনারা নিশ্চয়ই ভাবেননি এই নির্জনতার মধ্যে হুট করে কেউ এসে পড়বে। ফিরতে যাচ্ছিলাম। অনুরাধা আমার হাত টেনে ধরল। বলল, ‘চিনতে পারলি না? পাকড়াশী সাহেব আর শালিনী ম্যাম।’

কী সর্বনাশ! ভালো করে দেখার জন্য দু কদম এগিয়ে গেলাম। সত্যিই তো! আমাদের এক্স-বস এবং তাঁর পিএ। জগৎ সংসার ভুলে জলকেলিতে মত্ত। আমরা বোধহয় আবিষ্কারের উত্তেজনায় একটু বেশিই কাছে চলে গিয়েছিলাম। পাকড়াশী সাহেব আমাদের দেখে ফেললেন এবং চিনেও ফেললেন। চিনে যে ফেললেন সেটা বোঝা গেল তাঁর সচকিত হাবভাব দেখে। আমাদের ডাকবেন কি ডাকবেন না তাই নিয়ে সাংঘাতিক দ্বিধায় পড়ে গেলেন ভদ্রলোক। জলখেলা থামিয়ে শালিনী ম্যাডামকে কিছু বললেন। তারপর মনস্থির করে আমাদের হাত তুলে ডাকলেন।


‘লেট মি কনগ্রাচ্যুলেট ইউ মাই ইয়াং লেডি! অফিস ছাড়ার পর তোমার সঙ্গে দেখা হয়নি। ভেবেছিলাম তোমায় মিট করে কনগ্রাচ্যুলেট করব। সময় করে উঠতে পারছিলাম না। তোমাদের দেখে খুব ভালো লাগছে।’

আমি তা না না না করছিলাম। সন্ধে সাড়ে সাতটার সময় রাতের খাবার খেতে আমার বরাবর অপছন্দ। পাকড়াশী সাহেব কিছুতেই ছাড়লেন না। ডিনার খাবার জন্য ধরে নিয়ে গেলেন। তাঁর আবার দেরি করে খেলে গ্যাসের প্রব্লেম শুরু হয়ে যাবে। যে রিসর্টটাতে ওনারা আছেন তার রেস্তোরাঁতে আমরা চারজন একটা গোল টেবিল ঘিরে বসলাম। পাকড়াশী সাহেব এবং শালিনী ম্যাডাম পোষাক বদলে এসেছেন। পাকড়াশী সাহেবের পরনে স্যুট টাই, যেমন আমরা দেখতে অভ্যস্ত ছিলাম। শালিনী ম্যাডাম জিনস আর হালকা রঙের ঢিলেঢালা টপ চড়িয়ে এসেছেন। আমাদের দুজনকে দেখে শুরুতে একটু লজ্জা পেয়েছিলেন। প্রাথমিক সঙ্কোচ কাটিয়ে এখন গল্পে মেতেছেন। অফিসে সবাই কে কেমন আছে খবর নিচ্ছেন। অনুরাধা যে মাস তিনেক তাঁর বস ছিল সে কথা ভুলে বন্ধুর মত কথা বলছেন। বললেন, ‘অনুরাধা, উই আর সো হেপি ফর ইয়োর সাকসেস। ইট কলস ফর আ সেলিব্রেশান!’

পাকড়াশী সাহেব বললেন, ‘ইটস অন মি।’

ওয়েটারকে ডেকে ওয়াইন অর্ডার করলেন। সে বেচারা কাঁচুমাচু মুখে জানালো বিয়ার ছাড়া আর কিছুই এই পোড়ার জায়গায় পাওয়া যাবে না। পাকড়াশী সাহেব উঠে গিয়ে নিজের ঘর থেকে হোয়াইট ওয়াইনের বোতল নিয়ে এলেন। মেজাজি মানুষ, ফাইন ফ্রেঞ্চ ওয়াইনের স্টক নিয়েই ঘুরছেন। রোজ রাত্তিরে নিশ্চয়ই ম্যাডামের সঙ্গে বসে ঢুকুঢুকু চলছে।

ডিনার চলতে চলতেই শালিনী ম্যাডাম পাকড়াশী সাহেবকে মনে করিয়ে দিলেন মিসেস পাকড়াশীকে ফোন করার কথা। মিসেস পাকড়াশীর শরীর ইদানীং ভালো যাচ্ছে না। বয়সজনিত রোগ-ব্যাধিতে কাতর হয়ে পড়েছেন। তার ওপর যোগ হয়েছে অহেতুক উৎকণ্ঠা। শুরু হয়েছিল বিদেশবাসী ছেলেমেয়েকে দিয়ে। পাকড়াশী দম্পতির ছেলে এবং মেয়ে দুজনেই বহুদিন হল আমেরিকা প্রবাসী। একজন চাকরির স্বার্থে, অন্যজন বিবাহসূত্রে। তারা আজকাল মায়ের অকারণ উদ্‌বেগকে বিশেষ পাত্তা দেয় না। হাজার হাজার মাইল দূরে বসে দেওয়া সম্ভবও নয়। উৎকণ্ঠার সমস্ত প্রকোপ সামলাতে হয় সবেধন নীলমণি স্বামীটিকে। রোজ সন্ধেবেলা আটটা নাগাদ নিয়ম করে ফোন না করলে মিসেস পাকড়াশী সাংঘাতিক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাঁর বুক ধড়ফড় করে, ব্রিদিং ট্রাবল শুরু হয়ে যায়। পাকড়াশী সাহেব ফোন রেখে ম্লান হাসলেন, ‘শহরের বাইরে থাকলে আরও বেশি টেনসান করে। প্রথম প্রথম ভালো লাগত, বুঝলে। অফিসে বৌয়ের ঘন ঘন ফোন পেলে কোন যুবকের না ভালো লাগে? তখন বুঝিনি। আসলে এটা একটা সাইকোলজিক্যাল ডিসর্ডার। পরে কাউন্সেলরের কাছে নিয়ে গেছি। কিন্তু দু একটা ভিজিটের পর আর যেতে চায়নি। ওষুধ ফেলে দিয়েছে। বলে, আমি কি পাগল? ডাক্তারের কাছে কেন যাব? সারাদিন অক্টোপাসের মত আঁকড়ে থাকে। কোথাও বেরোতে দিতে চায় না। বেরোতে গেলে হাজার প্রশ্ন। কনসালটেন্সির বাহানায় কখনও কখনও দু-চার দিনের জন্য বাড়ি ছেড়ে পালাই। মানুষ আর কত পারে? মাঝে মাঝে অতিষ্ঠ লাগে। ভাবি সব ছেড়ে ছুড়ে...।’

শালিনী ম্যাডাম পাকড়াশী সাহেবের হাতের ওপর হাত রাখলেন। দেখে ভালো লাগল ম্যাডাম এখনও সাহেবের সর্বাঙ্গীন খেয়াল রাখেন। পাকড়াশী সাহেব সামলে নিলেন, ‘আয়াম অলরাইট, ডিয়ার। তোমরা ডিনার খাও। সরি টু ইন্টারাপ্ট।’

পাকড়াশী সাহেব যে এত ইমোশানাল হয়ে পড়বেন আমরা ভাবতে পারিনি। অনুরাধাও দেখলাম কেমন অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ওনার দিকে। ডিনার শেষ হলে আমাদের গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন। শালিনী ম্যাডাম রাত্রে চোখে সামান্য কম দেখেন। আলো ছায়ায় হাঁটতে অসুবিধে হয়। তাই রিসর্টের গেটেই টা টা গুড নাইট করে দিলেন। গাড়িতে ওঠার সময় পাকড়াশী সাহেব বললেন, ‘হোপ ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড দ্য সিচ্যুয়েশান। প্লিজ কিপ দিস ক্লোজ টু ইয়োর চেস্ট। শালিনীর ভাইপোরা জানলে ওর জন্যে খুব এম্ব্যারাসিং ব্যাপার হবে।’

আমি বিদায়ী হাত ঝাঁকিয়ে বললাম, ‘ডোন্ট ইউ ওয়ারি, স্যার। ইট ওন্ট গো বিয়ন্ড আস।’


পাকড়াশী সাহেব আর শালিনী ম্যাডামের অবৈধ প্রেমের একমাত্র সাক্ষী রইলাম আমি এবং অনুরাধা। ফেরার পথে গাড়ির মধ্যে অন্ধকারে অনুরাধার মুখ দেখতে পাচ্ছিলাম না। আঁচ করলাম আমার মতন অনুরাধাও বেজায় আমোদিত। যে প্রেম সামাজিক বিধি নিষেধের বাধা না মেনে ফুল ফোটায় তার চেয়ে রোমাঞ্চকর আর কী হতে পারে? দেখে গায়ে কাঁটা দেয়। এমন প্রেম পাবার জন্য পৃথিবীর সম্মিলিত রাজৈশ্বর্য তাচ্ছিল্য করা যায়। শুধুমাত্র ভালবাসায় ভর দিয়ে যে সম্পর্ক দাঁড়িয়ে থাকে তার কাছে আমি আজীবন নতজানু হয়ে থাকতে পারি। গদগদ স্বরে বললাম, ‘নেহাৎ পাকড়াশী সাহেবের কাছে কথা দিয়ে ফেলেছি, না হলে এনাদের প্রেমকথা স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখতাম।’

অনুরাধা সম্ভবত এই ট্রিগারটার জন্যেই অপেক্ষা করছিল। আমার কথা শুনে ফেটে পড়লো, ‘প্রেম! মাই ফুট! বুড়ো ভাম, বৌকে লুকিয়ে মেয়েমানুষ নিয়ে ফূর্তি করতে এসেছে! আমাদের কাছে ধরা পড়ে আষাঢ়ে গল্প বানাল। আর তুই ঢপ খেয়ে গেলি।’

আমি আহত গলায় বললাম, ‘তুই শুধু ফূর্তিটাই দেখলি? প্রেমের গভীরতাটা দেখলি না? দুজনের চোখের নিচে প্রিয় মানুষের কাছাকাছি থাকার আকুতিটা দেখলি না?’

‘ওইসব ফালতু গভীরতা টভীরতা নিয়ে কি ধুয়ে জল খাব? তুই থাক তোর গভীরতা নিয়ে। আমায় বোঝাতে আসিস না।’ অনুরাধার গলায় আঁচ। আমি চুপ করে গেলাম। অনুরাধা ফুঁসতে থাকল, ‘কখনও যদি তোকে দু-নম্বরি করতে দেখি, গলা টিপে দেব।’

‘যাব্বাবা, এর মধ্যে আমি এলুম কোত্থেকে?’

‘তুই কোত্থেকে মানে? মহান প্রেমের নিদর্শন দেখে কার লালা ঝরে পড়ছে?’

‘দেখ অনুরাধা, এটা কিন্তু বাড়াবাড়ি করছিস।’

আমার রাগ হচ্ছিল। অনুরাধা এমনই। যে বিষয়টা বুঝবে না বলে মনস্থ করে তা বোঝায় কার সাধ্যি? হোটেলে ফিরেও মুখ গোমড়া করে রইল। কী কুক্ষণে যে সমুদ্র দেখতে বেরিয়েছিলাম। কে জানত পাকড়াশী সাহেবদের সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে?

মেজাজ খারাপ নিয়ে ঘুমোতে গেলাম। আজ অনুরাধাও ল্যাপটপ খুলে বসল না। বিছানায় এসে অন্য দিকে পাশ ফিরে শুল। আমি ওর কাঁধে হাত রাখলাম। দেখলাম শরীর শক্ত করে শুয়ে আছে। বললাম, ‘আমার ওপর মিছিমিছি রাগ করছিস কেন?’

অনুরাধা আমার দিকে ফিরে আমায় সজোরে আঁকড়ে ধরল। কাঁপা গলায় বলল, ‘তোকে ছাড়া বাঁচব না রে। কথা দে কোথাও ছেড়ে যাবি না।’

এই প্রশ্নের উত্তর হয় না। চুপ করে ওর চুলের মধ্যে আঙ্গুল চালাচ্ছিলাম। অনুরাধা আদেখলের মত বলল, ‘আজ আমায় আদর কর। খুব আদর কর।’

নিরাপত্তার প্যাকেটের জন্য আমি বেডসাইড টেবিলের ওপর রাখা হ্যান্ডব্যাগটার দিকে হাত বাড়ালুম। নিরাপত্তা ব্যাপারটা সত্যিই বেশ রহস্যময়। প্রতিটি মানুষের কাছে আলাদা আলাদা প্যাকেটে আসে। অনুরাধা আমার হাত টেনে ধরল। বলল, ‘না।’

ফেসবুক মন্তব্য