মন্দিরা পালের সঙ্গে

অর্ঘ্য দত্ত



বম্বেDuck-এর আত্মপ্রকাশ সংখ্যায় সাক্ষাতকার বিভাগে মন্দিরা পালের নামটা এসেছে স্বাভাবিক পছন্দের মতো। সেটা তিনি শুধু মুম্বাইয়ে থাকেন এবং আরো অনেকের মতো গল্প কবিতা লেখেন বলেই নয়, তাঁর বলার মতো, জানানোর মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে জানি বলেও। মুম্বাইয়ের বাংলা সাহিত্য চর্চার ইতিহাসে অাজ তিনি অপরিহার্যও বটে। তবে বার বার মুম্বাইয়ের কথা উল্লেখ করলেও বাংলা লিটল ম্যাগাজিনের যারা খোঁজখবর রাখেন, তাঁদের কাছে, সে তাঁরা যেখানেই থাকুন, মন্দিরা পাল এক পরিচিত নাম। ১৯৯১ সাল থেকে সম্পাদনা করছেন 'প্রবাসে নিজভাষে' পত্রিকা। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম 'সম্পর্ক-বোধভাষ্যি-শূন ্যতা' এবং গল্পগ্রন্থের নাম 'বিষাদ মগ্নতার স্বজন'।


১) আপনি কবে থেকে বহির্বঙ্গে আছেন?

উ : ১৯৮১ সালের জানুয়ারি মাসে আমি বম্বে(তখনও 'বম্বে', 'মুম্বাই ' হয়নি) আসি ; তখন থেকে আমি এখানেই রয়েছি।

২) কবে থেকে কবিতা লিখছেন? কবে থেকে লেখালেখিকে গুরুত্ব দিতে শুরু করলেন?

উ : - খুব ছোটবেলা থেকে শুধু কবিতা নয় গল্পও লিখতে শুরু করি। আমি যে 'নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ে' পড়তাম প্রতি শনিবার সেখানে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সাহিত্য আসর হতো। আমি সেই আসরে স্বরচিত গল্প /কবিতা পাঠ করতাম। প্রথম গল্প লেখার স্মৃতি , তৃতীয় শ্রেণীতে (3rd standard) পড়ার সময় । সাহিত্য আসরে স্বরচিত গল্পটা পড়ার পর এক বন্ধু জিজ্ঞেস করেছিল "এটা কোন বই থেকে চুরি করে লিখেছিস?" ছোটবেলাতেই নিজে হাতে কাগজ সেঁটে বই বানিয়ে, তাতে কলম দিয়ে আমার গল্প, কবিতা লিখেছিলাম আর মহাউৎসাহে উৎসর্গের জায়গায় আমার বন্ধুদের নামগুলো লিখে দিয়েছিলাম।
লেখাকে ,কখনও আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়ার কথা মনে হয়নি । লেখাতো আত্মার সঙ্গেই ওতপ্রোত ভাবে জড়িত, রক্তেই মিশে আছে। তার সঙ্গে মেলবন্ধন স্বাভাবিক মনে হতো। অন্যদের যেমন বন্ধুজন থাকে - মননের প্রয়োজনে নিঃসংকোচে তারা তার কাছে অকপট হয়। আমার একাকীত্মে লেখার কাছেই হয়তো আশ্রয় চাইতাম। স্বাভাবিক ভাবেই সে আসতো। লিখতে হবে বলে লিখতাম না, যখন ইচ্ছে করতো - তাকে আমার দরকার হতো - লিখতাম। কিন্তু গুরুত্ব দেওয়া বলতে যদি সেগুলোকে প্রকাশ করা, প্রচারের আলোয় আনা ইত্যাদি হয় , তাহলে আমি চিরকালই back bencher, অজ্ঞ, মূ্র্খ । এত বছরে মাত্র একটি গল্প ও একটি কবিতা সংকলন প্রকাশ পেয়েছে। মনে আছে কালনা কলেজে পড়ার সময় কালনায় একবার কবি সম্মেলন হয় (সেটা সম্ভবতঃ ১৯৭৯ কি ১৯৮০ সাল) তাতে কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের অনেক কবি যোগ দিয়েছিলেন; এসেছিলেন প্রকাশক শ্রদ্ধেয় দেবকুমার বসুও । আমার কবিতা শোনার পর দেবকুমার বসু তাঁর ঠিকানা দিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছিলেন, কবিতা পাঠাতে বলেছিলেন। কিন্তু আমার যোগাযোগ করাই হয়নি। অথচ তাঁর দেওয়া ঠিকানা লেখা কাগজটা আজও আছে। পরবর্তী কালেও তাঁর কাছে আর এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করিনি।
লিখলেই শুধু হয়না তার প্রচারও প্রয়োজন এই জ্ঞানটুকু আমার ছিল না, অর্থাভাবও ছিল প্রবল। আজকাল লিখতে শুরু করেই যাঁরা পাঁচটা কাব্যগন্থ বার করে ফেলেন আমি তাদের দলে পড়ি না। তাই বলে আমি লেখালেখিকে গুরুত্ব দিইনা তা নয় হয়তো একটু বেশীই দিই - কোন লেখাই আমি দায়সারা ভাবে লিখতে পারি না। কিন্তু নিজের লেখা প্রচারের জন্য যে কাঠখড় পোড়ানো তা আর হয়ে ওঠেনি। পরবর্তী কালে বছরের পর বছর নিয়মিত 'প্রবাসে নিজভাষে' পত্রিকাটি প্রকাশ করেছি অথচ নিজের লেখাগুলো গুছিয়ে নিয়ে (গল্প ও কবিতা ছাড়াও, কিছু প্রবন্ধ লিখেছি, কিছু অনুবাদও করেছি) অনেক, অনেক বই প্রকাশ করা হয়নি।

৩) এত বছর বাদে এখনও কি লেখার জন্য একই রকম তাগিদ অনুভব করেন?

উ: - মনের ভেতর এখনও অনেক লেখা জমে আছে। আমার জীবনে প্রধান সমস্যা সময়াভাব । প্রতিদিন লেখার টেবিলে বসলেও সময় চলে যায় পত্রিকার পেছনে । সব কিছু perfect করার চেষ্টাতেই? এছাড়া বেশ কিছু বছর একটার পর একটা ঘটনা, সমস্যা এমন অদ্ভুত ভাবে আমার কাছ থেকে সময়গুলো ছিনিয়ে নিচ্ছে ! সংসারকেও অস্বীকার করতে পারি না । তাগিদ কিনা জানিনা এটুকু মনে হয় জীবন শেষ হয়ে যাওয়ার আগে আমার ভেবে রাখা উপন্যাস , গল্প গুলো লিখে যেতে না পারলে আপশোস রয়ে যাবে। যে নতুন আঙ্গিকে উপন্যাসটা লিখবো ভাবছি, সেটা লিখতে না পারলে, কেউ তো জানতেও পারবে না এভাবেও উপন্যাস লেখা যায় । অথবা কোনদিন দেখবো গল্প কবিতা চুরি হয়ে যাওয়ার মতো আমার সেই 'উপন্যাস - ভাবনা' ও চুরি হয়ে গেছে।

৪) বহির্বঙ্গে থাকার জন্য আপনার কি কখনো মনে হয়েছে যে কোলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের মূল স্রোত থেকে পিছিয়ে পড়ছেন?

উ:- না, তা কখনোই মনে হয় নি। সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এখনতো বঙ্গ - বহির্বঙ্গ - বিদেশের সীমা রেখা মুছে যাচ্ছে। পৃথিবীতো এখন সবারই হাতের মুঠোয়। আজকাল ইন্টারনেটের যুগে অন্লাইনেই ঘরে বসে বাংলা ভাষায় অনেক কিছু পড়তে পারছি, তাছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ার দরুন চাইলেই পাঠক অথবা লেখক হিসাবে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার মাধ্যমে মূল বাংলা সাহিত্যের হালচাল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে পারছি। বরং বহির্বঙ্গে আলাদা পরিবেশ, ভাষা, আদবকায়দা, বহু ভাষাভাষী মানুষের পৃথক সংস্কৃতি সবমিলিয়ে বৈচিত্র্যময় জীবনযাত্রা কাটানোর ফলে সেখান থেকে সৃষ্ট সাহিত্যেও এসবই বহুরূপতার ছাপ, ভাষায়-আঙ্গিকে- বিষয়বস্তুতে‍ (কলকাতা কেন্দ্রিক সাহিত্যের গতানুগতিকতা কাটিয়ে অন্য ধরনের চমক ও ভাবনা)এসব লেখাই বাংলা সাহিত্যের মূল স্রোতকে আরও বহুধা ও পুষ্ট করে তুলেছে এবং মূল স্রোতের লেখকদের প্রভাবিতও করেছে। যেমন খ্যাত বানিজ্যিক পত্রিকায় যে ধারাবাহিক উপন্যাসটি বেরিয়েছে তার একটি চরিত্রের কিছু ঘটনা পুরোপুরি আমার 'অথচ পূর্ণতা'' গল্পটির আদলে গড়ে উঠেছে। আমার গল্পটির স্পষ্ট ছাপ তাতে। উপন্যাসটির শেষে লেখা আছে বিভিন্ন ছোট পত্রিকার কাছ থেকে লেখক রসদ সংগ্রহ করেছেন অথবা এরকম কিছু। কিন্তু কোন্ কোন্ পত্রিকা তার কোনও উল্লেখ নেই। কবি ও সাহিত্যিক রাজলক্ষ্মীদেবী‍(উনি পুণাতে থাকতেন) একবার কলকাতার এক বিখ্যাত সাহিত্যিককে বলেছিলেন 'তুমি এই যে কবিতাটা লিখেছো এটা কিন্তু হুবহু আমার অমুক কবিতাটার মতো' সাহিত্যিকের মুখ সঙ্গে সঙ্গে কালো হয়ে গিয়েছিল।

৫) আপনার লেখাকে, সে গল্প - কবিতা যাই হোক, আপনার বহির্বঙ্গের জীবন ও যাপন কতটা প্রভাবিত করেছে?

উ:- সাহিত্য তো জীবনকে ঘিরেই। সুতরাং জীবনের যে বাসভূমি, গল্প - কবিতায় তার ছাপ থাকবেই। আমার গল্পে বার বার উঠে এসেছে মুম্বাইয়ের পটভূমিকা । প্রয়োজনে এসেছে হিন্দি, মারাঠি ভাষায় কথোপকথন, মুম্বাই কালচারের ছবি। কবিতায় প্রভাব ফেলেছে পারিপার্শ্বিক মানুষজন, প্রকৃতি, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য। তবে আমার জীবনে স্থান, দেশ, কালের সীমানা ছাড়িয়ে নিজস্ব মননের বাসভূমির তালাশ ক্রমাগত। তাই সে ধরাবাঁধা ঠিকানার পরোয়া করে না। নিরন্তর পাল্টে যায় স্বপ্নের নিজস্ব ভূমি। কখনও ধরা দেয়, মন্ডল পুকুরালির মাঠ, আলওয়ের নারকেল কুঞ্জ, নাম না জানা নদীটার ধূ ধূ চর - এদের সবার প্রভাবই আমার লেখায়।

৬) আপনি দীর্ঘবছর ধরে 'প্রবাসে নিজভাষে' সম্পাদনা করে চলেছেন - মুম্বাই থেকে আর কোনো বাংলা সাহিত্য পত্রিকা এতবছর ধরে প্রকাশিত হয়নি। একা হাতে কী করে এ অসাধ্য সাধন করলেন?

উ:- এক কথায় বলতে গেলে সততা, অসম্ভব পরিশ্রম, ধৈর্য, আন্তরিকতা, একাগ্রতা,আর সাহিত্যের প্রতি আমার অনেক ভালবাসা আর দায়বদ্ধতা ছিল বলেই একা হাতে এতদিন ধরে পত্রিকাটা প্রকাশ করতে পেরেছি।
ত্রৈমাসিক পত্রিকা হিসাবে 'প্রবাসে নিজভাষে' যখন শুরু করি কাছাকাছি বছর গুলোতে বম্বে থেকে কোনো বাংলা পত্রিকা প্রকাশ হতো না। ১৯৯০ সালেই পত্রিকার কাজ শুরু করি। ১৯৯১ সালের জানুয়ারি মাসে পত্রিকা ছেপে বেরোয়। প্রথম সংখ্যার নাম ছিল ‘কোরক’। দ্বিতীয় সংখ্যা থেকে নাম বদলে ‘প্রবাসে নিজভাষে’ রাখা হয়। শুরুটা অত সহজ ছিল না। মুম্বাইয়ে ভাল বাংলা গ্রন্থাগার নেই, বাংলা প্রেস নেই, বাংলা বই এর দোকানও নেই। প্রথমে বেশ কিছুদিন ঘুরে বেড়িয়েছিলাম শুধু বাংলা সাহিত্যমনস্ক মানুষের খোঁজে। এখনকার দিনের মতো ফেসবুক, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন ছিল না তখন, এমনকি land line ফোনও সহজলভ্য ছিল না। আর আমি নিজে কোনো দুর্গাপুজোর বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন বা এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না । বম্বে তথা নিউ বম্বেতে কারা বাংলায় সত্যিকারের ভাল লেখালেখি করেন তার খোঁজে আক্ষরিক অর্থেই মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়িয়েছি। যখনই খবর পেয়েছি অমুকজন বাংলা সাহিত্যে উৎসাহী তাঁর কাছে গিয়ে হাজির হয়েছি । কেউ দরজা খুলে বসতে বলেছেন - আমার যাওয়ার উদ্দেশ্য, ইচ্ছার কথা শুনেছেন - কেউ কেউ দরজা থেকেই খেদিয়ে দিয়েছেন যেন আমি অবাঞ্ছিত সেলসম্যান। ‘অর্ঘ্য’ আপনি যে ‘কবিতা পরবাসে –১’ প্রকাশ করার সময় আমার কাছে এসেছিলেন আর আমি আপনার অনুরোধ মতো মুম্বাই তথা ভারতের বিভিন্ন লেখক / লেখিকার লেখা সংগ্রহে সাহায্য করেছিলাম, আমি যখন আমার পত্রিকাটা শুরু করি আমায় এই সাহায্য করার জন্যে বম্বেতে কেউ ছিলেন না। শুধু বম্বে থেকে লেখা সংগ্রহই নয় ; কিভাবে, কোথা থেকে ছাপাবো, ভারতের বিভিন্ন জায়গার ছোট পত্রিকার সম্পাদক তথা লেখকদের সঙ্গে কিভাবে যোগাযোগ করবো (তখন জাহিরুল হাসানের `সাহিত্যের ইয়ারবুক' পাওয়া যেতো না) সব কিছু আমি নিজের চেষ্টায় ব্যবস্থা করেছিলাম। সে সময় প্রেস নিয়ে বড় সমস্যা ছিল এবং সে সমস্যা আজও আছে। যেহেতু মুম্বাইতে বাংলা প্রেস নেই তাই ডাক যোগে সমস্ত ম্যাটার কলকাতার প্রেসে পাঠাতে হয় । এতে সময় ও পয়সার অপচয় । কলকাতায় নিজেও উপস্থিত থাকতে পারিনা তাই প্রেস সেই সুযোগ নিয়ে নানাভাবে হেনস্তা করে । প্রেসের ধারনা `ওতো মুম্বাইয়ের পত্রিকা সুতরাং গুরুত্ব না দিলেও চলবে । প্রেসকে লিখিত ভাবে এবং ফোনে বারবার নির্দেশ দিলেও তারা সেই নির্দেশ মেনে কাজ করে না। যেহেতু আমার হয়ে তদারকি করার মতো কলকাতায় কেউ নেই তাই প্রেস হেলাফেলা করে, নানা ভাবে নাজেহাল করে। আমার মনে হয় বাংলার বাইরে থেকে যারা কলকাতায় পত্রিকা / বই ছাপান সবার একই অভিজ্ঞতা । অথচ আমি প্রেসের সুবিধার জন্য ম্যাটার গুলোর সাথে একটা ডামি বই তৈরি করে পাঠাই। বার বার প্রুফ দেখে দিই ! অনেক পরিশ্রম, অনেক অনুরোধ, উপরোধ করার পরও পত্রিকাটি আমার পছন্দমতো ও নির্দেশমতো হয়না আর কখনই ঠিক সময়ে ছাপা হয়ে আমার হাতে এসে পৌঁছায় না । এত কষ্ট সহ্য করেও সমানে ২৫ বছর ধরে পত্রিকা চালাচ্ছি । হয়তো এ এক ধরনের অসুখ । যা পিছু ছাড়েনা । আমার স্বামীর এক অবাঙালী বন্ধু, আমার পত্রিকা 'প্রবাসে নিজভাষে' বিক্রি করে লাভ হয় না বরং নিজের পকেট থেকেই পয়সা যায় শুনে বলেছিলেন ‘যে এমন মূর্খ ঔরত (মহিলা) তিনি জীবনে দেখেন নি’` । হয়তো তাই মূর্খামি । তবে যা করি নিঃস্বার্থ ভাবেই করি । পত্রিকা প্রকাশ ও লেখা ছাপানো নিয়ে কোনওদিন কারুর সঙ্গে অসততা করিনি । একা হাতে বিজ্ঞাপন যোগাড় করেছি । বিজ্ঞাপন না পেলে নিজে শাড়ি না কিনে , শখ আল্হাদ বিসর্জন দিয়ে, সংসারে কাজের লোক না রেখে, নিজে কাজ করে সেই টাকায় পত্রিকা করেছি । একা হাতে দেড়শো পত্রিকা বেঁধে, টিকিট সেঁটে ঠিকানা লিখে ডাক মারফত লেখক, গ্রাহকদের পৌঁছে দিয়েছি । বাকি গ্রাহকদের তাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া - এসবের জন্য শুধু নিজের শ্রম নয়, সময়ও বিকিয়ে দিতে হয় । (গ্রাহকদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে শেষের দিকে আমার স্বামী সাহায্য করেছেন )। দরকার হয় জেদ , সাহস আর লড়াকুমন । একা একা কেন যে এসব করা - হয়তো এটাই আমার বেঁচে থাকার রসদ । নয়তো পাগলামি ।

৭) মুম্বাইয়ের সাহিত্যপ্রেমী বাঙালীদের কাছে পত্রিকাটির কদর কেমন?

উ:- মুম্বাইয়ে যাঁরা সত্যিকারের সাহিত্যবোদ্ধা তাঁরা স্বীকার করেন 'প্রবাসে নিজভাষে' পত্রিকাটা উচ্চস্তরের । কিন্তু সাহিত্যপ্রেমী বাঙালি তো অনেকেইই এখানে, যাঁরা বলেন "আমরা 'সানন্দা' পড়ি, ছোট পত্রিকা পড়িনা "। কেউ বলেন তোমার পত্রিকা কিনবো কেন তার চেয়ে বরং 'দেশ' কিনবো। যেহেতু মুম্বাইয়ে কোনো কফি হাউস নেই কলকাতার মতো, যেখানে সাহিত্য নিয়ে, পত্রিকা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দেওয়া যাবে, লিট্ল ম্যাগ রাখার কোনও স্টলও নেই, কোনও লিট্ল ম্যাগাজিন মেলাও হয়না, বাংলা বইযের বইমেলাও হয়না তাই প্রচারের সম্ভাবনা একদম শূন্য। আমি বিক্রির জন্য অনেক বাঙালির বাড়ি ঘুরেছি। কেউ কেউ আগ্রহ দেখিয়ে কিনেছেন , গ্রাহক হয়েছেন, বেশীর ভাগই কটু মন্তব্য করে দরজা থেকেই বিদেয় করেছেন । তবে একটা জিনিস দেখেছি বিনি পয়সায় পড়তে দিলে অনেকেই পড়তে আগ্রহী। মুম্বাইয়েব বিভিন্ন দুর্গাপুজোর মন্ডপে/স্টলেও পত্রিকা নিয়ে বসেছি। খুব যে সাড়া পেয়েছি তা নয়। অতো হাজার হাজার লোকের মধ্যে হয়তো একজন/দুজন এসেছেন আমার কাছে। পত্রিকা কিনেছেন, গ্রাহক হয়েছেন । অবশ্য স্টল বলতে পুজো কমিটির কাছে অনুরোধ জানিয়ে বিনি পয়সায় তাঁদের দেওয়া জায়গায় টেবিল পেতে বসতাম। পত্রিকা বিক্রি না হলেও চাইতাম এভাবেই প্রচার হোক। বম্বের মানুষজন জানুক এখান থেকে এই সাহিত্য পত্রিকাটি প্রকাশ হয়। সবচেয়ে দুঃখের কথা আমি যেখানে থাকতাম অণুশক্তিনগরে একবার সেখানকার দুর্গাপুজো কমিটির চেয়ারম্যানের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে পুজোয় পত্রিকা নিয়ে বসেছিলাম। কিন্তু আমাকে পুজো কমিটির ট্রেজারার অপমান করে উঠিয়ে দিয়েছিলেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় তাঁকে যাঁরা সাপোর্ট করেছিলেন তাঁরা উচ্চশিক্ষিত এবং নিজেদের সংস্কৃতিসম্পন্ন বলেই মনে করেন। আবার চেম্বুরের পুজোয় ‘প্রবাসে নিজভাষে`র স্টলে এক ভদ্রমহিলা (চেহারায় ও বেশভূষায় দরিদ্রতার ছাপ ছিল) এসেছিলেন যাঁকে তাঁর বান্ধবী বারবার বারণ করছিলেন পত্রিকা কিনে পয়সা নষ্ট করিস না। অথচ তিনি তার কথা না শুনে নিজে থেকেই পত্রিকা কিনেছেন (আমি তাঁকে অনুরোধও করিনি)। আমি অভিভূত। হয়তো এ ধরনের মানুষ আরও আছেন।
তবে পত্রিকা বিক্রি করতে চাইলে অন্যদের মতো অনেক ভাবেই বিক্রি করতে পারতাম। যেমন আমার লেখাটা ছাপিয়ে দাও তার বদলে আমি দশটা পত্রিকা বিক্রি করে দেবো। এমন অফার অনেক পেয়েছি। কিন্তু লোভের সঙ্গে সমঝোতা করিনি। পত্রিকার মান বজায় রাখার জন্যে এসব প্রস্তাব সবসময়ই নাকচ করেছি।
মুম্বাই ছাড়াও 'প্রবাসে নিজভাষে'র পাঠক সাড়া ভারতবর্ষ তথা বিদেশেও আছেন (বিদেশে দু, তিনজন গ্রাহক ছিলেন/আছেন) তাঁরা পত্রিকাটির কদরই করেন। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদপত্র ও পত্র পত্রিকায় 'প্রবাসে নিজভাষে'র আলোচনা প্রকাশিত হয়েছে ‘অবশ্যই সংগ্রহ যোগ্য / পরিশ্রমী সংকলন এটি এবং প্রবাসে থেকে আরও কঠিন / একটি উচ্চমানের আকর্ষণীয় সাহিত্য পত্রিকা ....` ইত্যাদি ইত্যাদি মতামত সহ।

৮) পত্রিকাটি সম্বন্ধে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?

উ:-ভবিষ্যত পরিকল্পনার আগে যে উদ্দেশ্যে পত্রিকাটি শুরু করেছিলাম সেটা বলি। মুম্বাই প্রকৃত অর্থেই কসমোপলিটন। রুজি রোজগারের পরম ভরসাস্থল। তাই বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আসা মানুষের স্রোত নিত্য উপচিয়ে পড়ছে মুম্বাই মহানগরে। আমি বোম্বাইয়ে এসে দেখি মালয়ালাম, তামিল, তেলেগু, মারাঠি, হিন্দি ইত্যাদি অনেক ভাষার সাহিত্যপত্র আছে। বাংলা সাহিত্য পত্রিকা না থাকায় 'প্রবাসে নিজভাষে' শুরু করার সিদ্ধান্ত নিই। বাংলা সাহিত্যপিপাসুরা জানতে পেরেছিলেন ইচ্ছা থাকলে বোম্বাইয়ে নানারকম বাধা, অসুবিধা পেরিয়েও বাংলা পত্রিকা প্রকাশ করা সম্ভব । আরও চেয়েছিলাম বাংলা সাহিত্য চর্চা শুধুমাত্র elite group এর মধ্যে না থেকে বোম্বাইয়ের সাধারণ বাঙালিদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ুক । এর জন্য নিয়মিত সাহিত্যসভা করতাম নবীন, প্রবীণ সাহিত্যরসিকদের একত্রিত করে । বাংলা সাহিত্যচর্চার জোয়ার আনতে পেরেছিলাম এখানে । তার সার্থকতা দেখি পরবর্তী কালে। যখন 'প্রবাসে নিজভাষে'কে দেখে ও আমার কাছ থেকে ছাপা ইত্যাদি ব্যাপারে জানার পর এক বছরের মধ্যেই `সঞ্জিতা সেন' মুলুন্দ থেকে শুরু করেন 'মায়া মেঘ` পত্রিকাটি । এ ছাড়া আরও কিছু পত্রিকা শুরু হয়। কোনোটা সংবাদপত্র রূপে বোম্বাইয়ের কালবাদেবী অঞ্চল থেকে কোনোটা সাহিত্য পত্রিকা রূপে নিউ বম্বে থেকে । হয়তো সব পত্রিকা চলেনি। কিন্তু আমার যে সাহিত্য উদ্দেশ্য ছিল - সাহিত্য চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া তা পুরোপুরি সফল।
বোম্বাইয়ের অন্যান্য ভারতীয় ভাষার কবিরাও যাতে এখানকার বাংলা সাহিত্যের সাথে পরিচিত হতে পারেন তার জন্য শুরু করি multilingual poets meet । 'প্রবাসে নিজভাষে' আয়োজিত কবি সম্মেলনে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার কবিরা তাঁদের নিজের ভাষায় কবিতা পড়ার পর হিন্দি অথবা ইংরাজিতে অনুবাদ শোনাতেন । এভাবেই অন্য ভাষার কবিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমরা জানতে পারি পরস্পরের সাহিত্য ভাবনা, লিখনের কারুকৃতি।
মুম্বাইয়ে বাংলা সাহিত্যচর্চার ভিত এভাবেই যথেষ্ট মজবুত হয়েছে। এখন 'প্রবাসে নিজভাষে' বন্ধ হয়ে গেলেও ক্ষতি নেই। যদিও অনেকে অনুরোধ করছেন বন্ধ না করার জন্যে। অণুশক্তিনগর ছেড়ে 'পালাভা`য় এসেছি। এখানে যে post office আছে তারা সাধারণ ডাকের চিঠিপত্র, পত্রিকা কোনোকিছুই ডেলিভারি দেয় না, বস্তা ধরে ফেলে দেয়। সবাকে অনুরোধ জানিয়েছি সাধারণ ডাকের চিঠিপত্র, পত্রিকা যেন অণুশক্তিনগরের ঠিকানায় পাঠান । এই অবস্থায় পত্রিকা করার কথা ভাবতে পারছি না। তাছাড়া পত্রিকা করতে গিয়ে নিজের লেখালেখি হচ্ছে না। পরবর্তীকালে হয়তো পত্রিকা করবো হয়তো করবো না - এখনও সঠিক সিদ্ধান্ত নিইনি। এইতো অর্ঘ্য আপনি পত্রিকা শুরু করেছেন - আপনাকে অনেক অভিনন্দন । অনেক শুভেচ্ছাও রইলো যাতে পত্রিকাটা নিয়মিত প্রকাশ পায়।

৯) আপনি নিজেকে মূলতঃ কী মনে করেন? কবি, গল্পকার না সম্পাদক? তুলনামূলক ভাবে পাঠকদের প্রশংসা বেশি পেয়েছে আপনার কবিতা না গল্প?

উ:- ছোটবেলা থেকে গল্প, কবিতা লিখতে বেশি ভালবাসি । কবি-গল্পকার-সম্পাদক প্রত্যেকের কাজ আলাদা, কিন্তু যখন যে ভুমিকা পালন করেছি - নিজের ১০০% দিয়েছি। সম্পাদক হবো তা কোনোদিন ভাবিনি। কিন্তু কেন পত্রিকা শুরু করেছি সে কথা আগেই বলেছি। যখন সম্পাদক হলাম দক্ষতার সঙ্গে পত্রিকা সম্পাদনা করেছি। পত্রিকার মান বজায় রাখতে আমাকে প্রচন্ড পরিশ্রম ও আত্মত্যাগ করতে হয়েছে। ভাল কোনো লেখা পেলে (হয়তো অনুবাদ বা অন্য কোনো লেখা)বিষয়বস্তুটা ভাল কিন্তু অনুবাদ / লেখাটা সঠিক হয়নি তখন দিনরাত পরিশ্রম করে লেখাটার সংশোধন করে সেই লেখক / অনুবাদকের নামে ছাপিয়েছি। এর ফলে আমার নিজের লেখালেখির জন্য সময় থাকে না কিন্তু পত্রিকার মান উন্নত হয়। পত্রিকা দপ্তরে আসা প্রত্যেকটা লেখাই আমি পড়ি। আর কোনো লেখা মনোনীত হওয়ার পর থেকেই আমার পরিশ্রম শুরু । তার বানান ঠিক করা , কোনো জায়গায় হাতের লেখা বুঝতে না পারলে তাকে ফের ফোন করে জেনে নেওয়া , প্রত্যেকটা লেখা চার বার করে প্রুফ দেখা ।
প্রথম দিকে কবিতা পেলেও ভাল গল্প পেতাম না। তখন পত্রিকার জন্য গল্প লিখতাম বেশি। প্রত্যেকটা গল্পই পাঠকের উচ্চ প্রশংসা পেয়েছে। আজও গল্পগুলো যখনই কেউ পড়েন বলে এগুলো স্বতন্ত্র মাত্রার, ভিন্ন স্বাদের, ব্যঞ্জনাময় অথচ সাবলীল । পরবর্তী কালে, কবিতাই বেশি লিখেছি। কবিতাও প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে 'সম্পর্ক-বোধভাষ্যি-শূন ্যতা` দীর্ঘ কবিতাটি ও আরও নানা কবিতা। গল্প যেহেতু বিস্তৃত পরিসরে লেখা যায় তাই সেখানে ভাবনার স্বাধীনতা বেশি । ভাষা আঙ্গিক নিয়েও অনেক experiment করা যায় , সে সুযোগ কবিতায় কম ।

১০) আপনার কবিতায় গত তিরিশ বছরে কি কোনো সচেতন পরিবর্তন এনেছেন__ আ্ঙ্গিকে বা ভাষায়? আনলে সে বিষয়ে কিছু বলুন।

উ:- আমার প্রত্যেক কবিতার বিষয় আলাদা। ভাষার ব্যবহার করেছি কবিতার বিষয় অনুযায়ী। কখনও সরল - কখনও রহস্যের ধোঁয়াশা - অনুভূতির জলজস্পর্শে মসৃণ - কখনও জটিলতার তারে দুরূহ। কখনও সচেতন ভাবে, কখনও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসেছে শব্দ, চিত্রকল্প। দরকার মতো হিন্দি, ইংরাজি, লোকজ শব্দের ব্যবহারও করেছি। আমার চেষ্টা প্রত্যেকটা কবিতাই যেন ভাষা ও আঙ্গিকে আমার অন্য কবিতাগুলোর চেয়ে আলাদা হয়। কবিতা নিয়ে আরও অনেক পরীক্ষা- নিরীক্ষা করার ইচ্ছা। এখন অবধি যত কবিতা লিখেছি তার চেয়ে সম্পূর্ণ অন্যধারার হবে, অন্য আঙ্গিকে লিখবো ।

১১) এখন যে নতুন ধরনের কবিতা লেখা হচ্ছে, সে সম্বন্ধে আপনার অভিমত কী?

উ:- এখন যে নতুন ধরনের কবিতা লেখা হচ্ছে তা নিয়ে নানা কবির নানা মত। কবিতা অনুভবের বিষয়। কবি 'যে` ভাবনায় কবিতা নির্মাণ করলেন, পাঠকের হৃদয় তা হয়তো অন্য ভাবে গ্রহন করলো। আবার প্রত্যেকের অনুভূতি আলাদা, আলাদা, সুতরাং পাঠপ্রতিক্রিয়ায় তার ব্যাখ্যাও করেন প্রত্যেকে আলাদা ভাবে।
কিছু কিছু কবিতা যাকে এখন 'নতুন কবিতা`র তকমা দেওয়া হচ্ছে , অনেক আগেই আমি এধরনের কবিতা লিখেছি। তাহলেও এধরনের কবিতাকে কি ‘নতুন কবিতা’ বলা হবে? আরও নানা নাম দিয়ে যে সব নতুন ধরনের কবিতা লেখা হচ্ছে সেসব কবিতার প্রধান সমস্যা অবোধ্যতা। অবশ্য বলা হয় "সম্পূর্ণ বোধগম্যতা দর্শনের গুন, কাব্যের নয়”। এসব কবিতাকে বুঝতে হলে হয়তো কবিকে জানতে হবে, কবির মানসিক অবস্থাকে জানতে হবে । কিছু নতুন কবিতার প্রতিটা লাইন নিয়ে যেন আলাদা আলাদা করে এক একটি কবিতা হতে পারতো । অনেক কবিতায় লাইনগলো আবার অর্থহীন হয়ে পড়ে। পাঠকের সঙ্গে কবি ও কবিতার দূরত্ব তৈরী হয়। কিন্তু কখনো-কখনো কোনো-কোনো কবির কবিতার অবকাঠামোর নির্মাণ ব্যঞ্জনাধর্মী, ভাষায় রহস্যের ইশারা, শব্দের কাঠিন্যের মধ্যেও থাকে এক ধরনের মসৃণ পাঠ যা কবিতাটির প্রবাহে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। পাঠপ্রতিক্রিয়ায় পাঠকের মনকে আচ্ছন্ন করে কবির অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার রূপকল্প ।

১২) আপনার প্রিয় বা অনুসরণ যোগ্য কবি কে বা কারা? প্রিয় গল্পকারই বা কারা?

উ:- কবি, গল্পকার, অনুবাদক, সম্পাদক এরপরেও আমার আর একটা পরিচয় আছে আমি একজন উৎসুক পাঠক । ছোট্টবেলা থেকেই লাইব্রেরিতে যেতাম - পড়তে ভালবাসতাম । খ্যাত কবি/লেখকদের বই-ই পড়তাম । সে ভালবাসা সে আগ্রহ এখনও রয়েছে । শুধু আমার পঠনপাঠনের বিস্তৃতি বাণিজ্যিক/বিখ্যাত/ বিতর্কিত, কবি/লেখকদের ছাড়িয়েও ঢুকে পড়েছে লিট্ল ম্যাগাজিনের অলিগলিতে, ফেসবুকের পেজে । অনেক সময়ই সেখানে খুঁজে পাই আমার হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া কবিতা । হয়তো সেই কবির একটা কবিতাই ভাল লাগলো কিন্তু আমার মনে হয় খুঁজে পাওয়াটা - সেটাই আমার প্রকৃত প্রাপ্তি । তাই আমি নিরন্তর ভাল গল্প/কবিতার খোঁজে । কোনো কবি/গল্পকারের একটা কবিতা/গল্প ভাল লাগলেও তিনিই আমার প্রেয় হয়ে ওঠেন। যদিও জীবনানন্দ দাশ আমার প্রিয় কবি - কিন্তু আমি নির্দিষ্ট কাউকে অনুসরণ করতে চাইনা ।
গল্পের ক্ষেত্রেও তাই । সব গল্পকারের সব গল্পই যে উৎকৃষ্ট হয় তা নয় । আবার কখন যে কার লেখা মুগ্ধ করে ! আমি খুঁজতে থাকি । আগেও কতজন যে চমক দিয়েছেন কখনও জগদীশ গুপ্ত, কখনও আখতারুজ্জামান ইলিয়াস । কিশোরী বেলায় বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় এতো আচ্ছন্ন করে রেখেছিলেন যে নিজেকে `প্রকৃতিকন্যা' বলে ভাবতে ভালবাসতাম । আর কমলকুমার মজুমদার তিনি তো চিরকালের জন্য আমার প্রিয় হয়ে রয়েছেন ।

ফেসবুক মন্তব্য