অন্ধকারনামা

ঈশিতা ভাদুড়ী



সুড়ঙ্গে দিয়েছো ঠেলে এমন! মেয়েটি জানে না কীভাবে কোন বাঁকে রয়েছে দরজা। নিখোঁজ আলোয় ক্ষয়ে যাচ্ছে ফড়িং-জীবন। সুড়ঙ্গ জুড়ে রয়ে গেছে কৃষ্ণপক্ষ।

সতর্ক পায়ে ঢুকে পড়ছো তুমি প্রতিদিন, কুশলবার্তা, প্রেম ও যৌনতা। ক্রমশ ভরে যাচ্ছে ইনবক্স। তেরো থেকে তিপ্পান্ন সর্বত্র পড়ছে ছোবল তোমার, জিন্সের ভেতর থেকে ফুটে উঠছে কামসূত্রের গদ্য দুঃস্বপ্নের মত। তোমার পুরুষ নামে প্রকট হচ্ছে অন্ধকার আর বিষাক্ত নিঃশ্বাস। ফেসবুক-পতঙ্গ তুমি, আড়ালে কেউটে সাপ।

বুকের মধ্যে যে সব কান্না বেড়ে উঠেছে নদীর জলের মত, তাদের মধ্যে কত অন্ধকার ছড়িয়ে আছে অমাবস্যার মতন, তাদের মধ্যে কত কাঁকড়া বিছে হেঁটে গেছে কত সাপের মতন, বুকের মধ্যে যে সব অন্ধকার জমে উঠেছে পাথরের মত, তাদের মধ্যে কত দীর্ঘশ্বাস ঝরে পড়েছে কত নষ্ট প্রহরে, তাদের মধ্যে কত বিষাদ হয়েছে জড়ো কত স্তব্ধতায়, সেইসব রহস্য অমীমাংসিত রয়ে যাবে বহুকাল।

ঘনঘন হাই ওঠে আজকাল। ঘুম পায় ভীষণ। চামড়া ফাটছে আজ খুব। অমসৃণ ঠোঁট। ফুসফুস ভরে বাষ্পের বিষ এত আজ। ক্ষতের জন্ম। গায়ে কাঁটা নির্জনতার, আজকাল। রক্তাক্ত হই একা।

ফেসবুক মন্তব্য