সততা কবিতা

যশোধরা রায়চৌধুরী




সততার মত খুলে বলব সব।
কোন মিথ্যা কথার আশ্রয় নেব না।
সে আমাকে বলেছিল, সোজা পথ দেখাতে পারিনি।
সে আমাকে বলেছিল, আমি তার সমস্তটা নিয়ে
গিলে বসে আছি।
পুরু এক আবর্জনা সর
পড়ে আছে। সরাতে পারিনা।
আজ আমি প্রতিটি কবিতা থেকে ছবি বলে দেব আর মানে বলে দেব।
দেখবে, বুঝতে কোন অসুবিধা হবে না তোমার।


কী ন্যাকা, কী ন্যাকা মেয়ে, বাবা!
ও তো ঘাড় কাত করে থাকে।
যার যেটা ভাল লাগে তাকে তাই বলে।
ও তো বলে, প্রতিবার, দেখা হলে, আমাকেই নাকি
স্বপ্নে দেখেছে। আর আমি শুনে ফেলেছি, এ কথা
কখনো অন্যকে বলতে। আমি জেনে ফেলেছি মিথ্যাকে।
কী ন্যাকা, এবার ওর সব কথার দুটো করে মানে।
ও এখন খুলে যাচ্ছে পদ্মের পাপড়ির মত... জলে...
যেভাবে কাপড় খোলে পাকে পাকে অশ্লীল ছবিতে...
ঘাড় কাত, পরিশীলনের মধ্যে আমি শুধু লালাগন্ধ পাই
পায়োরিয়া, হায়, তুমি ওকে
আমার সামনে কেন এভাবে বিস্রস্ত করলে... সব মিথ্যা খুলে দেখবার এই ঝোঁকে
আমি আজ কবিতাকে আর খুঁজে পাব না কোত্থাও...


আলো জ্বলে উঠল ওই ঘরে
আলো নিভে গেল ওই ঘরে
এতটা স্পষ্টতা থাকা ভাল?
নাকি স্পষ্টতাই ফাঁকি, স্পষ্টতা আসলে ক্ষতি করে?
জানি না, জানি না আমি, অনেক সারল্যে তবু তোমাদের ভেতরের দিকে
সহজ তিরের মত পৌঁছে যেতে সাধ যায় শুধু।
কথা শুধু রচিত হয়েছে, আর বেঁকে গেছে কথাদের রামযদুমধু।
চড় নেমে আসে যেইভাবে
সেইভাবে সত্যও নেমেছে।
সত্য খুব তেতো ও করুণ।
কদর্যতা সত্যই জেনেছে।
বাকি যা যা, সুন্দর, গোপন
সেসব মিথ্যের দিকে থাকে।
মিথ্যে ই হয়ত তার অসহ সত্যকে
ধীরে ধীরে আলো করে তোলে আর স্বপ্ন তোলে বানিয়ে বানিয়ে
যেভাবে বমির সঙ্গে টক, সেইভাবে।
আমি তো সরল হতে চাই।
আমি তো সত্যের কাছে যেতে যেতে, একা, আরো একা,
আর ভয়াবহ কবিতাবিহীন, নিঃস্ব... ঢুকে যাচ্ছি বাস্তবের শ্বাসে।
হয়ত কোন ম্লান উপন্যাসে।


প্রতি কবিতার মানে বোঝা যাবে, দাবি করি আমি।
ধীর গতি, লয়ে আসে এ বিশাল আলোড়ন, সমুদ্রের নিশি।
এ কবিতা এ বিস্ময় এ না-বোঝা এ তুখোড় আমারই পাপের মূল্যে অস্বচ্ছ, বাদামি।

ফেসবুক মন্তব্য