ছেঁড়া এপিটাফ

উত্তম দত্ত

এই কাচে ঢাকা ঠান্ডা গাড়িতে শুয়ে আমি কোথাও যাব না।
বেলচা ভর্তি ফুলের ভিতরে সুখী মানুষের মতো
ঘুমোতে পারব না আমি, আমার দম বন্ধ হয়ে আসবে।
তার চেয়ে এই ভালো: সদ্য কাটা বাঁশ, সবুজ সুঘ্রাণ
তাল পাতার মাদুর, শক্ত করে বাঁধা গোল মৃতদেহ--
ফুটপাথ থেকে কিনে আনা সাদা খই, এক মুঠো ধূপ।
হরিজন-বস্তি থেকে ভাড়া করা কয়েকটি বাহক --
তাদের টলোমলো পা, খয়েরি দাঁতের হাসি
আর চোলাইয়ের গন্ধকে মৃগনাভি ভেবে
খোলা চোখে আকাশ দেখতে দেখতে তেপান্তর পেরিয়ে চলে যাব।

অভ্যাসের অশ্রুপাত শেষ হলে জনান্তিকে তুমিও বলবে:
লোকটা গেছে -- আপদ গেছে।
মাঝরাতে কেউ আর কৃষ্ণবর্ণ ম্যাজিক দেখাবে না।
তাসের বারান্দা জুড়ে হামাগুড়ি দেবে সম্ভাবনাময় কবিদের পানপাত্র,
তরল উচ্ছ্বাস --
চার জোড়া লাথির ঘায়ে স্বপ্নের দেয়াল থেকে খসে পড়বে
গন্ধর্বের কবচ-কুণ্ডল, অস্পষ্ট কুয়াশায় তোলা আমাদের যুগ্ম জলছবি।

তারপর সমস্ত শীতকাল জুড়ে কত বিদেশি অতিথি আসবে কলকাতায়--
কৃষ্ণগহ্বরে জমে উঠবে অক্ষর-পাহাড়।
তরুণ কবিরা তোমার বুক থেকে ঘষে ঘষে তুলে ফেলবে
অলৌকিক আঙুলের ছাপ, নীবিবন্ধ থেকে খসে পড়বে মধ্যবিত্ত চাঁদ।
আর একদিন মস্ত একটা রেলগাড়ি চড়ে
তোমরা হৈ হৈ করে ঘুরে আসবে তেরঙ্গা পাহাড়।

ফেসবুক মন্তব্য