ধন্যবাদ

তুষ্টি ভট্টাচার্য এবং শুভ আঢ্য



'বম্বেDuck'- এর আত্মপ্রকাশ সংখ্যা থেকে প্রতিটি সংখ্যায় তুষ্টি ভট্টাচার্য লিখেছেন প্রবন্ধ। অথচ আমি জানি তিনি মূলত কবিই। আদ্যান্ত কবি। এবং যেহেতু এই সংখ্যার সম্পাদনা আমি নয়, সিদ্ধার্থ করছেন, তাই এই সুযোগে 'পক্ষপাতী সম্পাদক' এমন অভিযোগের সম্ভবনাহীন হয়ে বলে নিই, তুষ্টি একজন চমৎকার কবি। ওর লেখা এমন তিনটে কবিতা যা একই বিষয় ভাবনায় গাঁথা ইংরাজীতে অনুবাদ করেছেন আরেক কবি, শুভ আঢ্য, যিনি তুষ্টির লেখা নিয়ে অবলীলায় বলতে পারেন, 'her writing make me feel that I am no where in between present and abstract. Make myself to feel that abstraction is on the other round corner of reality where there are all small particles, she cook above my head, and then serve that to my plate.....' শুভ অবশ্য এও স্বীকার করেছে অনুবাদ করতে গিয়ে সে কিছু স্বাধীনতা নিয়েছে। আমার বিশ্বাস পাঠকরা উপভোগ করবেন তুষ্টি-শুভর এই যুগলবন্দী। .... অর্ঘ্য দত্ত

মূল রচনা: তুষ্টি ভট্টাচার্য

ধন্যবাদ ১

‘ধন্যবাদ’ – বেজে ওঠার পরেই ঘন্টা পড়ে গেল
যেভাবে ছেলেরা কলকল করে বেরিয়ে পড়ে ছুটি হলে
পাঁজরে ছুরি বসে গেলে যেভাবে বেরোয় গলগল করে রক্ত
ধন্যবাদের পরে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ানোই নিয়ম
শুভেচ্ছার তোড়া বুকে জড়িয়ে হাসিমুখে স্টেজ থেকে নেমে
পাখির মত বাসা খুঁজে নেওয়া।

ধন্যবাদের পরে
হাত ধুয়ে নিতে হয়।
জীবাণুর যতিচিহ্ন ধুয়ে নেওয়া প্লেটে
গরম গরম সার্ভ হচ্ছে দেখ রাতের খাবার।

ধন্যবাদ ২

একটি ধন্যবাদ দেওয়া হল তোমাকে
আর রাতের ট্রেনে প্যাক করে তুলে দিল কিছু শুকনো খাবার
তুমি ধন্যবাদকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছ, নাকের কাছে এনে গন্ধ নিচ্ছ
র‍্যাপার খুলে দেখতে সাহস পাচ্ছ না
একেকটি পাপড়ি খসে গেলে যেভাবে ফাঁক থেকে যায়
হাওয়ার যাওয়াআসার ভেতরে বীজ লুকিয়ে থাকে
ভবিষ্যতের কথা বলতে না-পারা লুকিয়ে থাকে
ধন্যবাদকে তুমি সেভাবেই চিনে এসেছ এতদিন

ধন্যবাদ অমন দেখতে না, ধন্যবাদ এমন দেখতে না
ধন্যবাদের হাতে থাকে লাল রুমাল, পকেটে লাল গোলাপ গুঁজে
ধন্যবাদ দেখা করবে ছটার সময়ে চৌরঙ্গীর মোড়ে

তুমিও সেজেগুজে এসেছ ছটার সময়ে
নাকের পাইপ খুলে এসেছ
হাতের চ্যানেল ঢেকে রেখেছ সুগন্ধী স্কার্ফে

ভবিষ্যৎ না দেখা ধন্যবাদ
কাউকে কিছু না বলেই হারিয়ে গেছে –
হারান-প্রাপ্তি বিজ্ঞাপন দেখে একথা জেনেছ তোমরা।

ধন্যবাদ ৩

লক গেট খুলে দিলে যেভাবে জল আছড়ে পড়ে
ধন্যবাদের আছাড়ও তেমনি
পার্থক্যের মিহি দেওয়াল ভেদ করে
কারা যেন যায় আসে
তাদের চটির আওয়াজ শুনি
কিছু টুকরো সংলাপ পড়ে থাকতে দেখি

স্পষ্টতার দিকে চেয়ে দেখি
তার তীব্র চোখমুখে ফুঁসে উঠছে ক্রোধ
ধোঁয়াশা কেবলি নিস্তব্ধ হতে চায়

ধন্যবাদ একা একা থাকে
একা হাসে, একা কাঁদে
একাই চলে যায় মুখোশের দিকে
মুখ থেকে তার তখনও চুঁইয়ে পড়ে স্মিত উদ্ভাস
হাসি নামে ডাকতাম যাকে আমরা এককালে

Translation by Subha Adhya
 
Thanks 1
 
The bell rang after you thank
Like boys become flood as the school overs
As blood comes out from vein when we
Became hurt
And it becomes norm as we thank
Each other and norm to laugh by stretching
And stitching best wishes on our heart
When we go downstairs from the center stage
And find nest like birds.

Its norm to wash hands after thanks giving
And dinner is being served after cleaning
The bacteria, as well as the plate...


Thanks 2

You are given thanks by one
And some foods are being packed
For your journey which lasts
And you observed thanks,
Smell it taking to your nose
But you hardly open its rapper
As the petals falls and there remains darkness
And seeds hide on the way of breeze
And the future hides as untold, unfolded and
You recognize thanks 
Just like that

Thanks are not like this nor like that
There is a red hanky in it’s hand, rose on it’s pocket, 
It will meet me near crossing at six 

You also go there, removing your nasal tube
And hide your channels in a scarf which smells grey

Thanks that we never see our future
Which lost before even we noticed -
You know this by seeing and
Get information in missing squad


Thanks 3

As you thank me
Water flooded and the lock gate becomes open
Someone intrude here
By crossing the wall of differences swiftly 
I hear sounds of their shoes
And see they left some conversation here

I see on their clearness
That they are angry
And their ambiguity wants to calm

And thanks become alone forever 
It cries alone, laughs also
And goes to the way of mask
And small calmness to it’s face
We know those as laughter, once

ফেসবুক মন্তব্য