চাঁছাছোলা বাচালতা

সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়

কথা হচ্ছিল বম্বেডাকের ভালমন্দ নিয়ে। অর্ঘ্যদা বলল সম্পাদকীয় লেখাটা বেশ চাপের (কীসের চাপ কে জানে?)। এবারের বম্বেডাকের সম্পাদকীয়টা বরং তুমিই লেখ। একটু ইতস্তত করে রাজি হয়ে গেলাম। কারণটা বলছি একটু পরে। তার আগে সাফাই গেয়ে রাখি - অর্ঘ্যদার মত অম্লমধুর গদ্য লেখার ক্ষমতা আমার নেই। আমি নিতান্তই সাদামাটা লিখি। সুধীজন নিজগুণে আমার এই চাঁছাছোলা বাচালতা মাফ করে দেবেন এই আশা রাখি। বম্বেডাকের চতুর্থ সংখ্যায় এই লেখাটা যাবে। মানুষের বাচ্চা হলে এতদিনে হাঁটা চলা ছেড়ে দৌড়তে শিখে যেত। বম্বেডাক ওয়েব পত্রিকা তো কী? তাকে মানুষ করে তোলার দায়িত্ব তো আমাদেরই। তাই মনে হল বম্বেডাকের বর্তমান অবস্থানটা পাঠক এবং লেখকদের কাছে পরিষ্কার করে বলে রাখা ভালো। সেটা নিয়েই এবারের সম্পাদকীয়।

প্রথমেই জানিয়ে রাখি বম্বেডাকের কোনও স্পন্সর নেই, তাই স্পন্সরকে খুশি করার দায়বদ্ধতা নেই। একমাত্র দায়বদ্ধতা পাঠকের কাছে। অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানাই যে আমরা যারা বম্বেডাকের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত তারা সকলেই স্বক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। নামযশ বা অর্থোপার্জনের জন্য আমরা এই ওয়েব পত্রিকাটি চালাই না। আমাদের মূল উদ্দেশ্য সৎ ও সুস্থ সাহিত্য পরিবেশন করা। অবধারিত প্রশ্ন সৎ ও সুস্থ সাহিত্যর সংজ্ঞা কী? বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে কোন সাহিত্য সৎ ও সুস্থ নয়, বলা অনেক সহজ। বিজ্ঞাপন সভ্যতার যুগে দৈহিক চটক সহজেই নজর টানে। তাই সাহিত্যর বিষয় ও ভাষা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার নামে অপ্রয়োজনীয় যৌনগন্ধী শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। আমরা এই চটুল বটতলা সাহিত্য সমর্থন করি না। মনে করি এই সাহিত্য ধারা অসৎ এবং অসুস্থ। এদের জন্য রইল - গেট ওয়েল সুন। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো আমাদের শব্দ নিয়ে কোনও শুচিবায়ুগ্রস্ততা নেই। কিন্তু কোনও লেখকই শব্দ প্রয়োগের যৌক্তিকতা এড়িয়ে যেতে পারেন না। আমরা সুপ্রযুক্ত শব্দর অনুগামী। আঙ্গিক, বিষয় এবং ভাষা নিয়ে পরীক্ষায় আমরা উৎসাহী। কিন্তু সেই পরীক্ষা যেন বোধগম্যতাকে অতিক্রম না করে। যে কোনও লেখার প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল পাঠকের সঙ্গে কম্যুনিকেট করা এবং কানেক্ট করা। যে লেখায় আঙ্গিক বিষয়কে প্রচ্ছন্ন করে সে লেখা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আর একটি কথা বিশদ করা নিতান্ত প্রয়োজন। কোনও বিশেষ লেখক বা লেখক গোষ্ঠীর প্রতি আমাদের পক্ষপাতিত্ব নেই। যেহেতু আমরা বাংলা সাহিত্যর মূলস্রোত থেকে সামান্য তফাতে দাঁড়িয়ে আছি তাই সব লেখক গোষ্ঠীই আমাদের সমান প্রিয়। পরস্পরের পৃষ্ঠ কণ্ডূয়নের থেকে গঠনমূলক সমালোচনায় আমরা বেশি আগ্রহী। কোনো লেখার ব্যাপারে মন্তব্য করার সময় লেখাটি কেন ভাল লাগল বা মন্দ লাগল সেটি জানান। অতিরিক্ত প্রশংসা বা নিন্দা আমরা গায়ে মাখি না।

এবারের সংখ্যাটি একটি বিশেষ কারণে আগের গুলির থেকে আলাদা। এই সংখ্যা থেকে আমরা কিছু ইংরিজি আর্টিকল প্রকাশ করব। অর্থাৎ বম্বেডাক আক্ষরিক অর্থেই বাইলিঙ্গুয়াল বম্বেDuck হয়ে উঠল। তাছাড়া প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত কিছু ভালো লেখা আমরা পুনঃপ্রকাশ করব যাতে সেই লেখাগুলি আরও বেশি লোকে পড়তে পারে। এবারের সংখ্যার প্রচ্ছদ এবং ইলাস্ট্রেশন অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়ের। প্রচ্ছদের সরস্বতীর অপরূপ মূর্তিটিও ওর নিজের হাতে গড়া। বম্বেডাকের সাফল্যে বরাবরের মত এবারো আপনাদের সক্রিয় সহযোগিতা পাব এই আশা নিয়েই আপাতত নটে গাছটি মুড়োলাম।

(এই পত্রিকায় প্রকাশিত সমস্ত লেখারই বিষয়, বক্তব্য (রাজনৈতিক, শ্লীল এবং অশ্লীল) এবং মৌলিকত্বের (বানান এবং ছেদচিহ্ন সমেত) দায় শুধুমাত্র লেখকের। আমরা শুধু সাহিত্যমূল্য বিচার করি।)

ফেসবুক মন্তব্য