দুটি কবিতা

পীযূষ কান্তি বন্দ্যোপাধ্যায়


আলাপ

তোর সাথে কোন বৃষ্টিদিনে আলাপ
ঠিক মনে নেই কোন বৈশাখ-ঘোরে
ভাঙলো ছাতা। তারপরে জানালা
ডাকছিল কার কোন প্রিয় নাম ধরে
মফস্বলের বুকখানি পালতোলা
ব্যথার মত নিবিড়, দোনামোনা
সেদিন থেকেই ফ্যানের নীচে গোলাপ
পি.এন.পি.সি এবং রবীন্দ্রনাথ
ভিজছে পুলিশ, বিজ্ঞাপনে সেলেব্
মাশকারা দেয় ভিক্ষুক'দের চটে
এমন দিনে আঁচলা উড়ে গেলে
মিথ্যে কত কুত্‍সা-কথা রটে।
কুত্‍সা রটে, সুপ্তি মেলে ডানা
মিথ্যে থেকে ঠিক খসে যায় পালক
স্পষ্ট কিছু কষ্ট'রা দেয় জানান
কার বুকে নীল বিদ্যুৎ চমকালো?
আমার ঠোঁটে বিষাক্ত টিকটিকি
দেখে ফড়িং লাফালো তোর চোখে
ইচ্ছে আমার হচ্ছিল খুব ঠিকই
সেদিন তবু খাইনি চুমু তোকে।

স্মৃতি

…যে ডাক কুশলী অপঘাত
যা বিরল‚ মায়াময় মোহ-পারিজাত
নীরবে দাঁড়িয়ে আছে নতমুখে যেন কোন চোর
অথবা আঁচল দিয়ে ঢেকে রাখা গোপন আঁচড়
ছায়াময়‚ কোমল‚ চপল।
যেন পতনের আগে আঁখিপাতে জমেছে বাদল।
ধুলোবালি‚ পোড়া ছাই‚ ছেড়ে আসা ঘর
যেন অলচিকি-গান‚ কোরীয় আখর
যেন ভোরে আধমরা ঘাসে
জমেছে শিশির শুধু শুকিয়ে যাওয়ার অভিলাষে।
কখন ফুটেছে ফুল‚ মধুতে ভরেছে কচি বুক
কখন গোপনে বাসা বেঁধেছে অসুখ
কবে যে বর্ষা এলো‚ চলে গেল‚ কে পেয়েছে টের!
তবু রেশ রয়ে গেছে দেহে যেন অবগাহনের।

ফেসবুক মন্তব্য