দুটি কবিতা

সব্যসাচী সান্যাল

মাছিদের দেবতা-৪৫

লোহা ও রেশমের এই জীবন
এ’জীবন পাপোষের ওপর বসে ঝিমোয়
রাত নেমে এলে রাষ্ট্রের কাছে টাকা বিশেক
ধার নিয়ে ভাঁটিতে সেঁধোয়, সামান্য গ্রাহক
আমি, সামান্য মাতাল, সুরাসুর বুঝতে পারি না,
বাক্যে গাঁথা না হলে শব্দও শুনতে পাই না
প্রকৃত বর্ণান্ধের মত বলে ফেলি,-
বলি—লাল, হলুদের কাছে তুমি সিপিয়া
শান্তি পেতে পারো। মেরুন ক্ষমাও পেতে পারো।
আমাকে জ্বালিয়ো না। আমার পাপোষটুকু
অক্ষুন্ন থাক...আমাকে জ্বালিও না, ঘরের
বোতাম খুলে ঢুকতে চেয়ো না, আমার
দরজা জুড়ে পরিধিকুকুর, তার প্রকান্ড পাহারা
তার তিনশো বত্রিশ চোখে, আমি, শুধু আমি

মাছিদের দেবতা-৪৬

স্বরই শরীর আমি খামোখা বাক্যে
ফেলে তাকে আর অর্থহীন করতে পারিনি
আকাশ দেখেছি, আকাশের স্কুলের পোষাকখানি
ঝুলে আছে তারে, ঝুলে আছে স্থিতি ও ইঙ্গিতের
মাঝখানে। আমাকে দিয়েছ তুমি অনন্তটোকেন
আর তামাদি প্রতিশ্রুতি, হাওয়া বুঝি বা না’বুঝি
সকালের খবর, ঠিক ঘায়ের ওপর
এসে বসে, জ্যাম দিয়ে টোস্ট খায়, কমোড
ভিজিয়ে রাখে, ভনভন করে কানের গোড়ায়।
বিরক্তি পার করে আমি সেই ব্যথার দিকেই হেলে আছি
সন্ধির দিকেই হেলে আছি, নিপুণ মোচড়ে
নিস্পৃহতা থেকে, ঋতুজটিলতা থেকে, ঊরুজোড় ছাড়িয়ে আনছি...

ফেসবুক মন্তব্য