সহজ পাঠ

অমিতাভ প্রামাণিক

যেই না বলেছি, দাদা শুনছেন, আমার একটু নাম চাই,
অমনি ক’জন চিড়ে-গুড়-মুড়ি বেঁধে দিয়ে এক গামছায়
বনটা দেখিয়ে বলে, ঢুকে যান, নাক বরাবর চাদ্দিন
হাঁটলে পাবেন সেই বোধিগাছ। আমি বললাম, বাদ দিন,
বয়েস হয়েছে, আর কি পারব অমন ধকল সইতে?
হাঁটুজোড়া বেশ নড়বড় করে, কবে ছিঁড়ে গেছে পৈতে।

তাছাড়া আমি তো চাইছি না দাদা হতে গৌতম বুদ্ধ।
অল্প একটু নাম হবে, আমি সেই নাম ধুয়ে শুদ্ধ
বাংলা শব্দকুমারী বানাব। শাড়ি পরে আটপৌরে
কখনো হাসবে খিলখিল করে, চপলামতি সে দৌড়ে
বেড়াবে উঠোনে, চড়বে পাঁচিলে, আবার কখনো তৃষ্ণায়
ছাতি ফেটে গেলে চ্যাঁচাবে, চাইছি জল, কেন তোরা দিস না?

বুঝলো না ওরা। বলল, পাগল, জল চাও? ধুতি-শাড়িও?
বললেই হ’ত, অন্য পাড়ায় গিয়ে নামধাম ভাঁড়িও।
আমাদের এটা কবিতার পাড়া, এখানে সবাই কাব্য
লেখে তো, পাগল দেখেনি, কখন যে ওদের কথা ভাবব!
কুমারী-টুমারী ফুসলানো, ভায়া, সুবিধের নয়, কৌণিক
ওই পথে গেলে হয়ত তোমার হ’লে হ’তে পারে বউনি।

আমি বলি, ছি ছি, ও কথা বলিনি, কারে করি আমি কুলটা!
একটুকু নাম হ’ত যদি, বেশ জুটত কলাটা মুলোটা।
আমি ভবঘুরে, ফল খাই, অত হিসাব করি না, আঁটি কার –
ছড়াও ছড়াই, কিন্তু তাতে তো মনই গলে না পাঠিকার।
তারা চায় নাম। এত শিলালিপি লেখা আছে পথে, দেয়ালে,
তাদের মন তো পড়ে থাকে তবু নামজাদা নীল শেয়ালে।

এই শুনে ওরা রে রে করে এলো। বলল, কঠিন বাক্যে
ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এ পাড়ার নামী কবির কাটবে নাক কে?
তুই সে পাগল? সোজা করে কেন বললি না এই কথাটা?
কী মার মারলো! ফের শুরু হ’ল অলিগলি এই পথ-হাঁটা।

সেই থেকে ভাই চেষ্টা চালাই সহজ কথাই বলতে;
এই বাজারে তো আমিই রয়েছি শিবরাত্রির সলতে।

ফেসবুক মন্তব্য