যখন কেউ আমাকে গায়ক বলে

সূর্য ভট্টাচার্য



(মুম্বাইয়ের পেশাদারী সংগীতজগতে চিরকালই বাঙালীশিল্পীরা রেখে গেছেন তাদের নিজস্ব স্বাক্ষর। এমনকি নিকট অতীতেও এখানে সৌকত-Sun বা Sunউ, কিংবা সালমান খানের সঙ্গে পালোয়ানি করা তারকাদেরও অভাব হয়নি। কিন্তু, মুম্বাইয়ের সংগীত-সংস্কৃতিপ্রেমী রসিক বাঙালিদের ভালোবাসার পরিসরে, হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারার আকাশে একটিই সূর্য-- তিনি হলেন সঙ্গীতশিল্পী সূর্য ভট্টাচার্য।

পদ্মভূষণ মান্না দে এবং পদ্মশ্রী পন্ডিত অজয় চক্রবর্তীর সুযোগ্য শিষ্য সূর্য গান গেয়েছেন সলিল চৌধুরী, রাহুল দেব বর্মণ এবং এ আর রহমানের মতো তিন প্রজন্মেরই কিংবদন্তী সুরকারদের সুরে। এখনো তিনি সারা ভারতবর্ষ ছাড়াও অনুষ্ঠান করেন আমেরিকা বা মধ্যপ্রাচ্যের মতো বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চেও।

সূর্য ব্যতিক্রমী শুধুই ওর সুকন্ঠ বা দক্ষতার জন্য নয়, ও আজকের দিনের সেই বিরল সঙ্গীতশিল্পীদের অন্যতম যিনি এই মুম্বাইয়ের মতো বলিউড অধ্যুষিত ফিল্মি শহরে থেকেও বুকের মধ্যে বাঁচিয়ে রেখেছেন রবীন্দ্রসংগীত সহ সব ধরণের বাংলা গানের রসসিক্ত শিকড়টিকে। যাঁর সঙ্গীত সংক্রান্ত প্রতিটি প্রচেষ্টায় খুঁজে পাওয়া যায় বাঙালির মেধা ও মননের উত্তরাধিকার।
সংগীত সাধনার সঙ্গেসঙ্গেই সূর্যর প্রিয় সখ হল লেখালেখি। গানের বাণী ছাড়াও সূর্য লিখতে ভালোবাসেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে।)


যখন কেউ আমাকে গায়ক বলে...

তার প্রতিবাদ করি আমি। অবাক হলেন, তাই না?
তবে কথাটা আমি সত্যিই বলেছি। যদিও ছোটোবেলায় যখন কেউ আমাকে গায়ক বলতো, তখন কিন্তু আমার বেশ লাগতো। উপভোগ করতাম সেই সম্বোধন। পেছন ফিরে সেই ছেলেবেলার দিকে তাকালে আজ বরং যুগপৎ কৌতূক ও কুন্ঠা হয়, লজ্জা লাগে।

উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারে আমাদের বাড়ির ঠিক সন্নিহিত বাড়িটিই ছিল, আজও আছে, নামকরা পার্ক ইনস্টিট্যুশন স্কুল। সেই স্কুলের টিচার্স রুমটি আর আমার বারান্দা ঘেরা ঘরটি ছিল একদম মুখোমুখি। ভালো ক্রিকেট ম্যাচ থাকলেই, ঐ স্কুলের শিক্ষকদের অনুরোধে, আমার কাজ হতো বারান্দা থেকে মাঝে মাঝে তাদের ম্যাচের ধারাবিবরণী শোনানো। এভাবে তাঁদের সঙ্গে বেশ একটা অসমবয়সী বন্ধুত্ব গড়ে ওঠেছিল। অবসরে কখনো সখনো আমিও গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে বারান্দা থেকেই তাঁদের সঙ্গে গল্প করার চেষ্টা চালাতাম। তেমনি এক দিনে হঠাৎ একজন শিক্ষক আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, খোকা, বড় হয়ে তুমি কী হতে চাও? বেশ মনে আছে, একটুও সময় না নিয়ে আমি উত্তরে বলেছিলাম, আমি গায়ক হতে চাই। আমার কাছ থেকে এমন একটা অ-সাধারণ উত্তর বোধহয় প্রাজ্ঞ বন্ধুটি আশাই করেননি। কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পরে বিহ্বলতা কাটিয়ে মৃদু হেসে তিনি আমাকে একটা গান শোনাতে বলেছিলেন। তখন তো সব গানই ঠোঁটে আগায় থাকতো, শুধু অনুরোধের অপেক্ষা। অতএব, আমিও নির্দ্বিধায় দিলাম শুনিয়ে। গান শুনে প্রবীণ সেই শিক্ষক চশমাটি খুলে রুমালে মুছতে মুছতে বলেছিলেন, বাবা, গায়ক নয়, জীবনে শিল্পী হওয়ার চেষ্টা করো। আমার আশীর্বাদ রইল। এ কথার কোনো গূঢ়ার্থ বোঝার মতো বয়স তখনও আমার না হওয়াতে অবাক হয়ে ভাবতাম উনি গায়ক না হয়ে শিল্পী হতে বললেন কেন! শিল্পীরা কি গায়কদের থেকে আলাদা কোনো গান গায়?

এরপর, বেশ অনেকদিন কেটে গেছে। নিজের মায়ের শিক্ষকতার গন্ডী ডিঙিয়ে ততদিনে অন্য অনেক প্রখ্যাত মানুষকে পেয়েছি সঙ্গীত শিক্ষক রূপে। গান গাইতে শুরু করেছি, শুধু ছোটোখাটো নানান জলসাতেই নয়, বেতার-দূরদর্শনে কিশোরদের জন্য নানা অনুষ্ঠানেও।

দেখতে দেখতে এসে গেল মাধ্যমিক পরীক্ষা। যতই গায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখি, এটুকুও বুঝতাম মাধ্যমিকের ফলও জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পড়ার বিষয়গুলোর চেয়েও আমার দুশ্চিন্তা ছিল 'ফিজিক্যাল এডুকেশন'-এর মতো বিষয় নিয়ে। মেধা কতটা ছিল জানি না, সেদিনের কিশোর সূর্যের শরীরে অন্তত: মেদ যে যথেষ্টই ছিল তাতে আমার কোনো সন্দেহ ছিল না। কাজেই ঐ বিষয়ের প্রাক্টিক্যালে আমি যে খুব সুবিধা করতে পারবো এমন আশা করতাম না। যথাসময়ে প্রাক্টিক্যাল পরীক্ষা নিতে বাইরে থেকে একজন মোটা কালো ফ্রেমের চশমা পরা এবং পাকানো গোঁফের গম্ভীর মুখের এক্স মিলিটারি ম্যান পরীক্ষক এসেছিলেন। তার রাশভারী মুখটা আজও মনে আছে। একে একে ছাত্র ঢুকছে মৌখিক পরীক্ষা দিতে আর আমরা বাকি ছাত্ররা দুরুদুরু বুকে অপেক্ষা করছি বাইরে। একসময় আমারও ডাক এল। এই বিষয়ের মধ্যেই 'এক্সট্রা ক্যারিকুলাম এক্টিভিটি'-র জন্য ধার্য ছিল চার নম্বর। আমার আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে সেই শিক্ষকটি মুখ আরো গম্ভীর করে আমাকে জলদ কন্ঠে প্রশ্ন করলেন, 'কী করতে পারো তুমি?' আমি অবিলম্বে মাথা তুলে বুক ফুলিয়ে যেই উত্তর দিলাম, আমি গায়ক, গান গাইতে পারি, তাঁর মুখচোখ যেন কঠিনতর হয়ে উঠল। উনি বললেন, গায়কের একটা গান শুনি তাহলে। গান গাইতে কোনোকালেই আমার তেমন ভীতি ছিল না। আমিও জানিনা কি ভেবে, শুরু করলাম একটি দ্বিজেন্দ্রগীতি- 'সুখের কথা বলো না আর, বুঝেছি সুখ কেবল ফাঁকি। দুঃখে আছি, আছি ভালো, দুখেই আমি ভালো থাকি'। গানটা গাইতে গাইতেই অবাক হয়ে দেখছিলাম সেই গম্ভীর শিক্ষকের কঠিন মুখটাই কীভাবে আস্তে আস্তে সুখ-দুঃখ মাখা এক সাধারণ মানুষের মতো হয়ে উঠছে। তাঁর তীক্ষ্ণ দু চোখে ঘনিয়ে উঠছে মায়ার মেঘ। গান শেষ হলে, সেই শিক্ষক কোমল স্বরে বললেন, মাই বয়, যে গানটা গাইলে তার অর্থ ব্যাখ্যা করতে পারবে? পড়লাম খুব মুশকিলে। এমন প্রশ্ন আসতে পারে জানা থাকলে বাংলার স্যারের কাছ থেকে গানটার ভাব-সম্প্রসারণ শিখে আসতাম।

তবু আমার নিজের বোধ অনুযায়ী যা মনে এলো ব্যাখ্যা করে বললাম। উনি প্রসন্ন মুখে ধৈর্য সহকারে সবটা শুনে আমাকে বললেন, গান গাওয়ার সাথে সাথে কবিতা পড়ারও অভ্যাস করো। তাতে গানের কথার মর্মার্থও বুঝতে শিখবে। আর এখন থেকে শুধুই গায়ক নয়, একজন প্রকৃত শিল্পী হয়ে ওঠার চেষ্টা কোরো। সে বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায়, ঐ বিষয়ে যদিও গানের তরীতে চেপেই সসম্মানে আমি উত্তীর্ণ হয়েছিলাম, ঐ টুকু জীবনে দু-দুবার 'গায়ক নয়-শিল্পী হও' এই উপদেশ শুনে আমার কিশোর মন এক দ্বন্দ্বে ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছিল। ঠিক কী ভাবে শুধু গায়কনা থেকে একজন শিল্পী হয়ে উঠতে হয় এই ভাবনা আমার অপরিণত মনে সারাক্ষণ একটা কাঁটার মতো বিঁধে থাকতো।

এর ঠিক বছর দু-তিন পরে, সালটা বোধহয় 1988, একদিন আমার সঙ্গীতগুরু, বিখ্যাত শিল্পী পদ্মভূষণ মান্না দে মহাশয় আমার সামনে আপন মনে গান শুরু করলেন, রবীন্দ্রনাথের গান, " অনেক পাওয়ার মাঝে মাঝে কবে কখন একটুখানি পাওয়া, সেই টুকুতেই জাগায় দখিন হাওয়া।" তন্ময় হয়ে শুনছিলাম একটুও অবাক না হয়ে। কারণ উনি গান শেখাতে শেখাতে প্রায়ই রবীন্দ্রসংগীত এবং রবীন্দ্রদর্শনের উল্লেখ করতেন। ওঁর গানের জায়গায় হারমোনিয়ামের পাশেই দেখেছি রাখা থাকতো গীতবিতান। কিন্তু উনি যখন গান শেষ করে হঠাৎ আমায় প্রশ্ন করলেন, "বলো তো অনেক পাওয়ার মাঝে এই একটুখানি পাওয়াটা ঠিক কী যাতে সেইটুকুর মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে দখিন হাওয়া? ভাবো, ভাবো, ভেবে বলো।" আমার সেদিনের হতবম্ব মুখের দিকে তাকিয়ে একটু হেসে নিজেই যত্ন করে আমাকে বোঝাতে থাকলেন কেমন করে হারিয়ে যাওয়া আলোর মধ্যে থেকে কণার মতো সেই মুহূর্ত গুলোকে খুঁজে নিয়ে দুর্লভ মণির মতো একটি একটি করে গেঁথে গড়ে তুলতে হয় 'জীবনের হার', তাই দিয়েই সাজিয়ে তুলতে হয় 'উৎসর্গের থালাখানি'। সেদিন আরো অনেক কথা বলেছিলেন এই গানটির মর্মার্থ আমাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে। আমি শুনছিলাম আর আমার সামনে থেকে সরে যাচ্ছিল আমারই নিজের মধ্যে এতদিন ধরে ঝুলে থাকা একটা দ্বিধার পর্দা, চিনতে পারছিলাম, স্বচ্ছ হয়ে উঠছিল একজন প্রকৃত শিল্পীর স্বরূপ। সেদিন শ্রদ্ধেয় মান্না দের কথা শুনে বুঝতে পারলাম এতদিন শুধু কন্ঠ দিয়ে গান গাওয়ার চেষ্টা করে গেছি, চেষ্টা করেছি সুর তাল নিখুঁত করে তোলার, কিন্তু একটা গানও যে শ্রোতাদের কিছু বলতে চায় তা নিয়ে কখনো ভাবিনি। সেদিন থেকে সময় পেলেই কবিতা পড়তে শুরু করলাম, বোঝার চেষ্টা শুরু করলাম একটি ভাল কবিতা কীভাবে ইঙ্গিতে কথা বলে পাঠকের সাথে। আর ভাবতে থাকলাম কী ভাবে হয়ে উঠতে হয় শিল্পী!

মনে আছে, একদিন সুযোগ পেয়ে ওঁর কাছে সরাসরি জানতে চেয়েছিলাম গায়ক এবং শিল্পীর মধ্যে প্রভেদ কী, সন্ধান করেছিলাম শিল্পী হয়ে ওঠার পথের দিশা। কী সুন্দর, কী সহজ করে উনি ব্যাখ্যা করেছিলেন সেদিন। উনি বলেছিলেন, আপাতদৃষ্টিতে যাঁরাই গান করেন আমরা তাদের গায়ক-গায়িকা, নাচ করলে নর্তক বা নর্তকী, ছবি আঁকলেই চিত্রকর, অভিনয় করলেই অভিনেতা-অভিনেত্রী বলি। এঁদের মধ্যে অনেকেরই পারদর্শিতা প্রায় তুঙ্গে পৌঁছায়, তবু অনেকসময়ই তা সত্বেও এঁরা একজন আদর্শ শিল্পী হয়ে উঠতে পারেন না। যতক্ষণ পর্যন্ত একজন তাঁর অধিগত শিক্ষাকে নিজের জীবনবোধ, নিজের অনুভব ও উপলব্ধি দিয়ে জারিত করে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনন্য কিছু সৃষ্টি করতে না পারবেন ততক্ষণ তিনি শিল্পী হয়ে উঠতে পারবেন না। একজন সেতার বা সারেঙ্গী বাদক যেমন বারবার তার হাতের আঙুলে তারের ঘষায় তৈরি হওয়া ক্ষত, রক্তপাতকে উপেক্ষা করে সুরসৃষ্টির আনন্দে ডুবিয়ে দিতে পারেন সমস্ত শারীরিক বেদনা, তেমনি করে একজন শিল্পী তার জীবনের সকল দুঃখ, যন্ত্রণা, বঞ্ছনা, অপমানের কাঁটা বুকে নিয়েই সৃষ্টি করেন শিল্প। তাঁর জীবনের সকল ব্যথাই কখনো সুর হয়ে, কখনো নৃত্যের ভঙ্গিমা হয়ে, কখনোবা ছবি হয়ে ওঠে এমন ভাবে যা শুধু তিনিই সৃষ্টি করতে পারতেন অন্য কেউ নয়। এই অনন্যতাই শিল্পের বৈশিষ্ট, মৌলিক সৃষ্টির লক্ষণ। আর যিনি সফল ভাবে এমন সৃষ্টি করতে পারেন তিনিই শুধু শিল্পী, অন্যেরা শুধুই পারদর্শী। তারপরেই আমাকে চমকে দিয়ে উনি বলেছিলেন, " সূর্য, তোমার জীবনে খুব খারাপ কিছু ঘটা উচিত, এতটাই খারাপ যে তোমার মনটা যেন ভেঙেচুরে তছনছ হয়ে যায়। এবং তারপরেও যদি কোনোদিন তুমি তোমার সেই ভেঙে যাওয়া মনের টুকরোগুলোকে একটু একটু করে জোড়া দিয়ে নিজেকে আবার গান গাওয়ার জায়গায় নিয়ে আসতে পারো, দেখবে তখন তুমি গলা খুললেই যে গান বেরোচ্ছে তাই হবে একজন শিল্পীর গান।"

ওঁর সেদিনের কথায় এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল উনি যেন আমাকে অভিসম্পাত করলেন, কিন্তু পরে নিজের জীবন দিয়েই বুঝেছিলাম আসলে উনি আমাকে শিল্পী হয়ে ওঠার বীজমন্ত্র দিয়েছিলেন। বুঝতে শিখেছিলাম আমার গুরু, ঐ প্রবাদপ্রতীম দরদী শিল্পী আসলে মঞ্চে বসে, পোষাকের আড়ালে তাঁর হৃদয়ের রক্ত ক্ষরণকে লুকিয়ে, গলায় তুলে আনতেন তাঁর সমস্ত গোপন ব্যথা মন্থন করা সুরের অমৃত। এবং তা করতে পেরেছেন বলেই তিনি মহৎ শিল্পী। অমর শিল্পী।

এরপর থেকেই আমিও সচেতন হয়ে শুরু করি আমার গাওয়া প্রতিটি গানের আত্মাকে ছোঁয়ার চেষ্টা। বুঝতে পারি শুধু গানের শরীর নয় আমাকে শ্রোতার সামনে মূর্ত করে তুলতে হবে গানের হৃদয়কে, বাণীর মধ্যে অন্তর্লীন গানের আত্মাকে। আর তার জন্য চাই নিজেকে দহন করার অভিজ্ঞতা, নিজের জীবনের যন্ত্রনাকে চিনতে শেখা, শিল্পের মাধ্যমে তাকে প্রকাশ করতে শেখা । তখন মনে দিয়ে পড়তাম কবিতা, গানের কথা। সে সময়েই মহান সুরকার, গীতিকার সলিল চৌধুরীর একটি লেখা এমন ভাবে মনে দাগ কেটেছিল যে আজও স্মৃতিতে তার পংক্তিগুলি উজ্জ্বল হয়ে আছে--

" যখন অসহ্য হয়
শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আসে
মনে হয় এইবার ফেটে যাবে দম
তখন আমার হয়ে শ্বাস ফেলে আমার কলম।"

বুঝেছিলাম, তার শিল্পই একজন শিল্পীর প্রকৃত শ্বাস নেওয়া।

তাই আজকাল যখন কেউ আমাকে গায়ক বলেন, আমি আর ছেলেবেলার মতো খুশি হতে পারি না। গায়ক থেকে শিল্পী হয়ে উঠার তৃষ্ণায় চাতকের মতো ছটফট করতে থাকি দিনরাত, এক অতৃপ্তি, কিছুতেই যেন একজন শিল্পী হয়ে উঠতে না পারার অব্যক্ত যন্ত্রনা আমায় তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। আর আমার গুরু সেই মহান শিল্পী মান্না দে-কে স্মরণ করে আমার সেই যন্ত্রনার, অতৃপ্তির, ব্যথার সরোবরে ফুটিয়ে তুলি একদিন ঠিক শিল্পী হয়ে ওঠার প্রতিজ্ঞা-কমলটিকে। জানি, আমার সমস্ত গুরুর কৃপায়, সে কমল একদিন তার সকল পাপড়ি মেলবেই।

ফেসবুক মন্তব্য