দুখানা ধানি পটকা

অমিতাভ প্রামাণিক


কবির সংসার

কবিরা কখনো সামনে দেখে না, তাদের দৃষ্টি ঊর্ধ্বে।
দু’লাইন লিখে কখনো বলে না, সুর দে।
কবিরা যায় না বাহ্যে।
ঊর্ধ্বনেত্র মন খুঁজে ফেরে মেঘেদের মত রাজ্যে
পাপড়ি সাজানো বিছ্‌না।
শুয়ে শুয়ে শুধু কু-কর্ম করা, কবিরা অমন নীচ না।
কবিপত্নীরা টিভি সিরিয়াল – শাস্‌-বহু, মেরা সায়া –
দেখে না কখনো, ন্যাতা বানায় না গেঞ্জি বা ছেঁড়া শায়া।
আয়নায় বসে প্রেম করা ছেড়ে নিজেদের প্রতিবিম্বে,
তা দেয় অশ্বডিম্বে।
করপুটে তারা ধরে রাখে সব হৃদয়মথিত অশ্রু।
পাছার বদলে কবি চুলকায় শ্মশ্রু।
কবির প্রেমিকা কুচকুচে আফ্রিকা।
কুচযুগ তার মুক্তাহার না, নখ-দন্তের শিকার।
যে কোন সময়ে কবিকে সে করে ধারণ,
সেই প্রেম নিয়ে লেখা হয় মহাকাব্য ও স্মৃতিচারণ।
ক্রিকেট বোঝে না, জানে না ম্যানিউ জিতে গেছে কবে ক’ গোলে
প্রবল গরমে চাক্‌তি হয় না তাদের ব্লাউজ-বগলে।
মহিলা কবিরা সোয়েটার বোনা জানে না, ধরেনা কুরুশ।
তাদের কাব্যে জানোয়ার সব পুরুষ।
সেসব কাব্য তাদের উদ্দেশে যারা চেনে শুধু দাবনা,
অসমসাহসী সে কাব্যে শুধু অতৃপ্ত কাম-ভাবনা।
তারা মহীয়সী, সেরা –
তাদের প্রেমিক ভ্রু কুঁচকে ভাবে প্রথম রাত্রে বেড়াল
মারলে হয়ত অন্যরকম হত।
কবিতা বোঝে না, তাদের সঙ্গী বোতল।
কবিদের ভয়ে তটস্থ আজ মহী,
সমস্ত কবি ভাষা-সাহিত্য আন্দোলনের শহীদ!
কবিতা সঘন-জঘন-দ্যোতনা, নয় অং-বং-চং সার।
স্পাউস বাতিল, মাউস বাগিয়ে ঢাউস কবির সংসার।

বিদ্যে

কেউ জানো, কেন অটল এ -
দম কেন শুধু আলুতেই হবে,
দোলমাটা শুধু পটলে?

কেন কষা হয় গোস্ত?
অন্য কিছুতে জমে না, যেমন
আলু আর ঝিঙেপোস্ত।

হাজারটা চপ, শিখে নে।
জেনে নে তো, কেন চাঁপ শুধু হয়
মাটন এবং চিকেনে।

বাড়ি এলে গৃহকর্তা,
যত গুণী হোক, পাতে কেন দিস
শুধু বেগুনেরই ভর্তা?

বেশি পিঠে খেলে পেট কেন হয় ফাঁপা?
মাছের ঝোল তো সব মাছে, কেন
ইলিশেরই হয় ভাপা?

পাতিলেবু টক, অলাবু টক না, অথচ বাংলা। ইংরি-
জী জানা লোকেরা কেন যে তবুও
ভালবাসে লাউ-চিংড়ি!

ছোট সব্জিতে মন ভরে না তো, গিন্নী হাঁকেন, বড়ো লা।
উচ্ছে আনতে বলেছে, আমিও
গুচ্ছ এনেছি করলা।

ধরবো যখনি বিদ্যে আসবে ফলাতে।
জানতে চাইবো, কেন প্রেম নেই
আদা আর কাঁচকলাতে।

ফেসবুক মন্তব্য