দুটি কবিতা

দূর্বা মুখার্জী


ক্যামেরা

শুধু একটি মুহূ্র্তের হাসি এমন কি দুরূহ ব্যাপার। একটি ছবি তুলতে যতটা সময় লাগে আর কি। সমস্ত আয়োজন তো ছিলই। পিছনে সমুদ্র, পাহাড়, ফুলের বাগান বা পাশে প্রিয় মানুষের হাসিমুখ।
আর তার বাইরে যে বিশাল মিস্টার হাইড থেকে গেল ফ্রেমের বাইরে, তার খবর কে রেখেছে।
শাড়ি গুছিয়ে বেণীটিকে সামনে এনে আলোর দিকে ফিরে ছবি তুলেছি অনেক! কিন্তু বেণীর তিনটি গুছি যেন আমার বিবেক, প্রবৃত্তি আর আত্মা - পাক খেয়ে খেয়ে কেবলই আমায় পেঁচিয়ে ধরেছে ক্রমাগত, কোনও সূর্যের অালো সেখানে পৌঁছয়নি আজও।
তাই ছবি তুলেছি অনেক। ছবি তুলব অনেক। হাওয়া বদলে যাব আর ফিরে এসে দেখব হাওয়া বদলে গেছে। ক্ষণিকের হাসিমুখ জুড়ে জুড়ে এক নিটোল কোলাজ বানাব। ডক্টর জেকিল হাসবেন, হাসতেই থাকবেন। আর মিস্টার হাইড? তিনিও হাসবেন ক্যামেরার মূর্খতা দেখে।


বাসর-রাত

বাসর রাতে দরজায় কড়া নাড়ল কেউ।
মেহফিলে একটি গজল গাইলাম। তুমি গাইলে। সে গাইল। তাঁরা গাইলেন। কখনও চোখ বুজে কখনও খুলে রইলাম।
গানের সুর ফিকে হয়ে আসতে লাগল ভোর হওয়ার সাথে সাথে। আমি তো আগেই বলেছিলাম আমার অন্ধকার ভালো লাগে।
মজলিশ ভেঙে যাচ্ছিল।
সে উঠে গেল। তুমি উঠে গেলে। তাঁরা সবাই উঠে গেলেন। আমি বসেই আছি তখনও। কি জানি চোখ লেগে গিয়েছিল কি না...
আজ আমার মেয়ের বাসর বসবে।
দরজায় কে কড়া নাড়ছে। নেড়েই চলেছে।
ও মা, খুলে দাওনি আজও?

ফেসবুক মন্তব্য