দৃশ্য ও স্পর্শের মুগ্ধতার বাইরে

শবরী রায়

আমাকে নস্যাৎ করে দেবে বলে তুমি আমার প্রথম পৃষ্ঠা ওলটাও...আর আমার কপাল থেকে বেরিয়ে যাওয়া এক দীর্ঘ করিডরের কোথাও তোমার সঙ্গে আমার দেখা হয়ে যায়... রোদের জাফরিকাটা কার্পেটের ওপর দাঁড়িয়ে আমি প্রথম কবিতাটা লেখা শুরু করি..
ওই ব্যস্ত করিডরের অন্যপ্রান্ত সবসময়ই কোন না কোন হসপিটালের সঙ্গে যুক্ত... যে হসপিটালে অন্তত একটা মর্গ থাকতেই হবে....

মর্গের সামনেই একটা সবুজ মাঠ
অপেক্ষা করে...
ওই মাঠে যে জল দেয় দেখিনি কখনো তাকে
সযত্নলালিত সবুজ দেখলেই চিনতে পারি আমি
আগাছার ওপর জল দেওয়া
আমার একটা পুরোনো অভ্যেস...

ওই হাসপাতাল থেকে সাদা পোশাক এবং
মাথায় টুপি পরা নার্সিং স্টাফরা
ডিসইনফেকটেন্টের গন্ধ মেখে
বাইরে বেরিয়ে আসতে থাকে...
এদের মধ্যে কোন একজন বা প্রত্যেকেই
আমার মা হতে পারে
যাদের ডিউটি বদল হয়
কিন্তু কক্ষনো ছুটি হয়না...

ছুটি হল সেই সাদামাটা হলুদ রঙের
রুমাল ছাঁটের ফ্রক যা থেকে
সোনালিরোদের ঘূর্ণি ছড়িয়ে পড়ে...
চোখধাঁধানো রোদ্দুরের দিকে
একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ভাবতে থাকি
এই প্রথম কি তোমার সঙ্গে আমার দেখা হল...

বানিয়ে নেওয়া ছুটিতে আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছ অথচ আমি তোমার দিকে তাকাচ্ছি না... কারণ জানি তাকালেও তেমন বিশেষ কিছুই নজরে পড়বে না... এমনকি ছুঁলেও আলাদা করে কিছুই অনুভব করবো না... তাই দৃশ্য ও স্পর্শের মুগ্ধতার বাইরে আমি ঝলসানো রোদ্দুরের দিকে তাকিয়ে থাকি... করিডরের মেঝেতে রোদকার্পেটের নকশা বদলে যেতে থাকে... সচল এই বদল আমাদের ছায়া বদলাতে থাকে... স্বস্তি আসে মনে... বরং দূরে যাও... দূরে গিয়ে দীর্ঘ হয়ে থাকো...

ফেসবুক মন্তব্য